অর্থনীতিআন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদ প্রতিবেদনপ্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার

ফামা ক্যাশ বাংলাদেশের অর্থনীতি পাল্টে দেবে

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম

সাইফুল খন্দকার,

পিএইচডি সিইও এবং ফাউন্ডার, ফামা

 

বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ

ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজিতে দীর্ঘ দুই দশক ডোমেন জ্ঞান আহরণ ও পথ প্রতিক্রমার পর ২০১৫ সালে ফামাক্যাশ ফিন্যান্সিয়াল  হোল্ডিংস ইনক প্রতিষ্ঠান করেন। এই প্রজেক্ট পূর্বাপর কোম্পানি Mi3 Inc. এবং ফ্রিবিপে ইনক এর অভিজ্ঞতার উক্তরসূরি। একটি সাফল্যের লক্ষ্যে পৌছাতে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি নিজস্ব পথ খুঁজে পেতে হয়। ড. সাইফুল অবশেষে সেই পথের দেখা পেয়েছেন।

২০০+ বাংলাদেশি-আমেরিকান এবং ৫০+ বিভিন্ন দেশিও-আমেরিকান ফামাক্যাশে বিনিয়োগ করেছেন এই পর্যন্ত। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৪টি বিশেষায়িত ফিন্যান্সিয়াল  প্রোডাক্ট তৈরি হয়েছে যা একদিকে নিজস্ব মালিকানাধীন প্রযুক্তি অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে একটি মানবিক ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ড. সাইফুল এখন সেই বিশেষ লক্ষেই মনোনিবেশ করেছেন। ফলশ্রুতিতে ফিনটেক ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামে একটি কোম্পানি করেছেন যার মাধ্যমে এখন NASDAQ-এ লিস্টেড হওয়ার জন্য একটি SPAC-IPO প্রক্রিয়া চলছে। ফামাক্যাশ ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস ইনক একটি প্রাইভেট কোম্পানি থেকে পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হচ্ছে অচিরেই। আর এই উত্তরণের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে একটি ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম বলতে যা বুঝায় তা হলো ‘end-to-end global fintech service provider’ যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেন এতোটাই সহজ ও সাশ্রয়ী হবে যে মনে হবে যেন ‘moving money and services like thoughts’। মানুষ যেভাবে চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করতে পারে নিমিষেই- ড. সাইফুল অনেকটা সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইছেন। এর মধ্যেই আছে ক্রস-বর্ডার  মানিট্রান্সফার যা আন্তর্জাতিক পেমেন্টে কম খরচ ও দ্রুত নিষ্পতি নিশ্চিত করবে। POS বা অফলাইন লেনদেন আরো সহজ ও বেগবান করবে, Crypto/ Stablecoin/ Blockchain ইত্যাদি প্রযুক্তির সর্বশেষ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে নতুন ধারায় বিশ্বব্যাপী সম্পদ ও মানি ট্রান্সফরমেশন করবে। বিশ্বব্যাপী আনব্যাংকডদের জন্য ডিজিটাল ওপেন ব্যাংকিং করছেন যার ফলে অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ উন্মুক্ত হবে। AI বেইসড ব্যাংকিং টেকনোলজি গ্রাহক-ঋণ সেবা আরও উন্মুক্ত ও সহজতর করবে। ড. সাইফুলের ভাষায় ‘ফামা’র নতুন নতুন ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস মানুষের আর্থিক জীবন-যাপান পরিচালনা সহজ থেকে সহজতর করবে। ফামার সব ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস অ্যাপ একত্রে ইন-বিল্ড করে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও যোগ হবে এই মহাযজ্ঞে। আমরা ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চাই এবং তা নিজেদের আয়ত্তে রাখতে চাই। একজন আত্মপ্রত্যয়ী ড. সাইফুল খন্দকারকে খুঁজে পাওয়া গেল তার অকপট বক্তব্যে। 

ফামাক্যাশ তার ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার অভীষ্ট লক্ষ্য যে পদ্ধতিতে অর্জন করতে চায় তা হলো Total Financial System এর ৮টি ক্যাট্যাগরিতে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া। ফামাক্যাশের বর্তমান ১৪টি ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস প্রযুক্তিগতভাবে এই ৮টি ক্যাটাগরিতে আবর্তিত। যেমন :  ১. মোবাইল ওয়ালেট এবং রেমিট্যান্স ২. ডিজিটাল ব্যাংকিং ৩. ব্যক্তিগত ফিন্যান্স ৪. ক্রিপ্টো ৫. জেনারেল  লেন্ডিং অ্যান্ড মার্কেটপ্লেস ৬. পেমেন্ট প্রসেসিং অ্যান্ড  নেটওয়ার্কস ৭. বিজনেস লেন্ডিং অ্যান্ড ফিন্যান্স ৮. POS এবং কনজিউমার লেন্ডিং। ফামাক্যাশ তার নিজস্ব মালিকানাধীন প্রযুক্তিসমূহের সাথে নানান ধরনের লোকাল অ্যান্ড রিজিওনাল পার্টনারশীপ অ্যান্ড একুইজিশন মাধ্যমে ব্যাপক ইউজারবেইজ গড়ে তুলবে যাতে দ্রুত পর্যাপ্ত রেভিনিউ আসে যার ফলে কার্যক্রম আরও বিস্তার ও বেগবান করা যায়।

ফামাক্যাশের এই অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের জন্য থাকছে একটি বিশেষায়িত মানি ট্রান্সফার পদ্ধতি যা এ পর্যন্ত আর একটাও নেই। সেটা হলো যেসব NRB জীবন জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে আছেন, থাকছেন তারা খুব কম ফি’তে এবং নগণ্য এক্সচেঞ্জ রেট লসে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। এটা একটা একমুখি অর্থাৎ ওয়ান-ওয়ে মানি ট্রান্সফার পদ্ধতি। বলা যায় ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ও বিকাশ একসাথে একটি প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ ডলারে বাংলাদেশের বেনিফিশিয়ারি প্রায় ৬/৭ শত টাকা এখনকার চেয়ে বেশি পাবেন। ড. সাইফুল এভাবেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন। এই প্লাটফর্মের আরো বেনিফিট হলো হুন্ডিওয়ালাদের দৌরাত্ম্য অনেক কমে যাবে,  দেশের রিজার্ভ সিস্টেমে বেশি ফরেন কারেন্সি  যোগ হবে, চোরা পথে বিদেশে টাকা পাচার কমবে। একই প্লাটফর্মে থাকছে আরেকটা বিশেষ পদ্ধতি তা হলো NRB ব্যাংকিং। NRB গণ ব্যাংকিং সেবা পাবেন নানান ধরনের। ই-ওয়ালেট দিয়ে  সেভিংস ফর্ম করতে পারবেন। ঋণ নিতে পারবেন প্রয়োজনে। আরও অনেকগুলি বর্তমান সময়ের ব্যাংকিং সার্ভিসেস এভেইলএভল হবে। শুধু তাই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের বাংলাদেশি ট্রেড ডেবিট কার্ডও দিতে পারবে। যার মাধ্যমে তারা অনেক ধরনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকা- চালাতে পারবে।

ফামাক্যাশ থেকে যে বিশেষায়িত মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন হবে তা বাংলাদেশেই করা হবে। এই প্রজেক্টে কয়েক হাজার কর্মী কাজ করবেন। বাংলাদেশের আইটি ইঞ্জিনিয়াররা ফামার বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট ও প্রজেক্টে নিয়োজিত হবেন। অনেককে USA সহ বিভিন্ন দেশের ইউনিটগুলিতে নিয়োজিত করা হবে। প্রোডাক্টগুলির মার্কেটিংয়ে নিয়োজিত হবে প্রচুরসংখ্যক কর্মী। SEO, SMM, SMO, Contents Creation, Analytics, Research, Customer Care এইসব ক্ষেত্রে অর্থাৎ ফামার যে যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে প্রফেশনাল নেয়া যায় তা নেয়া হবে। এভাবেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসবে ফামা।

ফামার SPAC-IPO হয়ে যাবার পর অলরেডি গো-টু-মার্কেট ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টগুলি বিশ্বজুড়ে নিয়োজিত করা হবে। একই সাথে চলবে বিশেষ বিশেষ মার্কেটে টার্গেটেড প্রোডাক্ট অ্যান্ড প্লাটফর্ম একুইজিশন্স। ইতিমধ্যে অনেকের সাথে নেগোশিয়েশন্স এগিয়ে আছে। সব প্রোডাক্টের জন্য যত ধরনের লাইসেন্সিং প্রয়োজন তা অলরেডি হাতে নেয়া হয়েছে। সব ধরনের রেগুলেটরি প্রসেস সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস শুধুমাত্র টেকনোলজির ব্যাপার নয়। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও ব্যাপক ও বিস্তৃত। SPAC-IPO প্রক্রিয়ায় এইসব বিষয়ও দেখা হচ্ছে স্টেপ-বাই-স্টেপ।

২০২৫ সাল নাগাদ ফামার ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট হবে কমপক্ষে ২৫টি। একটি ফুলফ্লেজড ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে অনেক ধরনের  প্রোডাক্টস দরকার। বিভিন্ন মার্কেটের জন্য এখন থেকেই ১৪টি টিম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষে ১০টি ফিন্যান্সিয়াল  প্রোডাক্টস যাদের সম্মিলিত বর্তমান ভ্যালুয়েশন প্রায় ৩৬০ বিলিয়ন ডলার, ফামা তার নিজস্ব প্রোপ্রাইটরি ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস দিয়ে একইসাথে ওই ১০টি প্রোডাক্টকে মার্কেট কম্পিটিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মানে হলো ফামা ২০২৫ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩৬০  বিলিয়ন ইউএস ডলার মূল্যের কোম্পানি হয়ে যাবে। ফামার লক্ষ্য হলো ২০৪০ নাগাদ এক ট্রিলিয়ন ভ্যালুয়েশন অর্জন করা। ফামার শেয়ার ও সিকিউরিটি Nasdaq Stock Symbol : FEXD। যারা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করবেন তাদের প্রযুক্তিসম্মত রিটার্ন এনে দেওয়াটাই ড. সাইফুলের মূল লক্ষ্য। একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসাবে তিনি চান যে NRBরা ফামাতে বিনিয়োগ করে তার কর্মের থেকে বেনিফিট নিক। এটা হবে তার সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক সুখবর।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা

ড. সাইফুল খন্দকার ১৯৯৪ সালে DeVry University থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেন। কম্পিউটার ইনফরমেশন সিস্টেমসে ২০০২ সালে DeVry University থেকে টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে এমএস কমপ্লিট করেন। পরবর্তীতে নিজের শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতাকে ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ-এ University of Phoenix থেকে Doctor of Management সম্পন্ন করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস বিল্ড করে যে ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম গড়তে চাইছেন তার জন্য এই অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ শিক্ষা খুব বেশি জরুরি ছিল।

 

কর্মী জীবন

প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের পর কর্ম জীবনে শুরু হয় হাতেকলমে শিক্ষা যা মূলত আসল শিক্ষা। ড. সাইফুল তার জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্র হিসেবে ডেল্টা এয়ারলাইন্সকে খুব সহজেই পেয়ে যান। ইনফরমেশন সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একজন ট্যালেন্টেড গ্র্যাজুয়েট হওয়ার সুবাদে কাজের শুরুতেই ট্যালেন্ট টেস্ট শুরু। ‘তোমাকে টোটাল ডেল্টা ফ্লিট এর ফ্লাইট সিডিউল একটি প্রোগ্রামের আন্ডারে আনতে হবে।’ ডেল্টা আজও ওই প্রোগ্রামিং ইউস করে তাদের সব ফ্লাইট সিডিউল পরিচালনা করছে। পরবর্তী কর্মক্ষেত্র বেলসাউথ। এখানেও প্রোগ্রামার হিসেবে কতটা দক্ষ তা হাতেকলমে প্রমাণ দিতে হলো ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়’। লং ডিসটেন্স বিলিং এর ক্ষেত্রে গতিশীল, দক্ষ এবং বিস্তৃত একটি বিলিং সিস্টেম প্রোগ্রাম করতে হলো। ড. সাইফুল তারপর সিঙ্গুলার ওয়্যারলেসে জয়েন করেন। অল্প বয়সী ড. সাইফুল এখানে টেকনিক্যাল লিড হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। সব ইন্টারনাল টেক টিমকে ম্যানেজ করতে হবে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে। বিভিন্ন কাজে নানান ধরনের সফটওয়্যার সল্যুশন ডেভেলপ করাই ছিল মূল কাজ। প্রোডাক্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নেশা এখান থেকেই শুরু হয় যা আজও ড. সাইফুলের মন-মননে গেঁথে আছে। ডজেন্স অব টেকনিক্যাল টিমস কিভাবে ম্যানেজ করতে হয় একইসাথে তার হাতেকলমে শিক্ষা এখান থেকেই হয়ে যায়। ড. সাইফুলের ৪র্থ কর্মক্ষেত্র অঞ্ঞ। আগেরগুলি টঝঅতে যত উচ্চতার প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন এবারেরটা হিমালয়। একটা বিশেষ উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব নিয়ে ড. সাইফুল এটিঅ্যান্ডটি-তে জয়েন করেন টেকনিক্যাল লিড সলিউশনস আর্কিটেক হিসেবে। ৭০ মিলিয়ন গ্রাহককে মাস শেষে বিলিং ইনভয়েস পাঠানোর সফটওয়্যার সল্যুশন ডেভেলপ করাই ছিল মূল দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ে কাজ ডেলিভারি দিয়ে নিজেই বিদায় নেন AT&T থেকে।

ড. সাইফুলের পরবর্তী কর্মী হিসেবে কর্মক্ষেত্র কক্স কমিউনিকেশনে (২০১৩-১৫)। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে সেলফোনে, টিভি ইন্টারনেট কাস্টমারদের জন্য বিলিং ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় নানান প্রয়োজনের সফটওয়্যার ডেভেলপ করা ছিল মূল কাজ। এখান থেকেই একটা প্রোডাক্টকে মার্কেটিং, কম্পিটিশন, রিসার্চ, চেঞ্জ এইসব বিষয়াদি দিয়ে বিবেচনা করার দৃষ্টি উন্মোচিত হয়। বলা যায়, একটি সফটওয়্যার বা টেকনোলজি প্রোডাক্ট যে অনেক বিষয়ের সমাহার তার স্পষ্ট ধারণা গড়ে ওঠে।

কর্ম-জীবন

১৯৯৪ থেকে ২০০৮ এই ১৫ বছর একটানা আইটি প্রফেশনাল হিসেবে জব করার পর নিশ্চিত সেফটি স্যালারি ও নানান সুযোগ সুবিধার ভা-ার ফেলে অনিশ্চিত যাত্রায় পা রাখলেন ড. সাইফুল। জবে থাকা অবস্থায় ভাবছিলেন কি করে USA থেকে বাংলাদেশে আইটির জব আউটসোর্সিং করা যায়। একমাত্র যুক্তিসঙ্গত পথ হলো একটি আইটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের কাজ বাংলাদেশের আইটি কোম্পানিগুলি থেকে করিয়ে দেয়া। সেই লক্ষে ২০০২ সালে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করে ছিলেন Mi3 Inc. জব এর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সফটওয়্যার ডেভেলপ করতে থাকেন। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি আইটি কোম্পানি আউটসোর্সিং পার্টনার হিসেবে সহায়তা করতে থাকে । ২০০৯ এ সম্পূর্ণভাবে বিজনেসে মনোনিবেশ করার পরিকল্পনা করেন। ক্লায়েন্ট হিসেবে পেলেন GEকে। কিছু ছোট ছোট প্রজেক্ট দিয়ে Mi3 তথা ড. সাইফুলের ক্যাপাসিটি পরিমাপের চেষ্টা করে GE ।

গর৩ কে মাস্টার সার্ভিস প্রোভাইডার স্ট্যাটাস দেয়া হয় যার ফলে GEর টপ ম্যানেজমেন্ট যেকোনো প্রোডাক্ট বা সফটওয়্যার তৈরিতে ড. সাইফুলকে আলোচনার অংশ করে নেয়। এই পর্যায়ে GE বাংলাদেশে ড. সাইফুলের দায়িত্বে ১০০০ আইটি প্রফেশনাল নিয়োগের প্রস্তাব করেছিল। তখন ইন্ডিয়াতে GEর জন্য ১৬০০০ আইটি প্রফেশনাল কাজে নিয়োজিত ছিল। GE চাইছিল ইন্ডিয়াতে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে কিছু বাংলাদেশে নিয়োজিত করা। ‘আমি খুব গর্ব করে GEকে বুঝিয়েছিলাম যে বাংলাদেশে কর্মীবাহিনী শেয়ার করলে তোমাদের হিউম্যান রিসোর্সের রিস্ক ফ্যাক্টর কমবে। তাছাড়া ইন্ডিয়ার চেয়ে কিছু কম স্যালারিতে সম যোগ্যতার আইটি প্রফেশনালস পাবে’। ড. সাইফুল বলেন, GE আমাকে ১০০০ মিড-লেভেল আইটি প্রফেশনাল রিক্রুট করতে বলে ৩/৪ মাসের মধ্যেই। কয়েকটা আর্জেন্ট প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ছিল যা GE খুব দ্রুত ডেপ্লয়মেন্টে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তখন বাংলাদেশের বাস্তবতায় ছিলাম একদম জ্ঞানহীন। অনেক চেষ্টা করেও আমি GEর স্ট্যান্ডার্ড মতো আইটি প্রফেশনাল রিক্রুট করতে পারলাম না। GE র কাছে আমার মুখ দেখানোর অবস্থা রইলো না। নিজেকে GE থেকে গুটিয়ে নিলাম’। 

নর্থ আমেরিকায় অন্যতম পানির মিটার ম্যানুফ্যাকচারার নেপচুন টেকনোলজি গ্রুপ। Mi3 Inc. কে একটা স্পেশালাইজড সফটওয়্যার তৈরির প্রজেক্ট দেয় যা ড. সাইফুল দ্রুততম সময়ে করে দেন। সফটওয়্যারের মূল কাজটি ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, শিল্প কারখানা, বাসাবাড়ি যেকোনো ধরনের পানির মিটারকে রিমোটলি রিড করতে হবে এবং বিলিংয়ের জন্য যাবতীয় ডাটা স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সাজাতে হবে। এই কাজটি নেপচুনের কয়েক হাজার ফিল্ড কর্মী বাড়ি বাড়ি যেয়ে ম্যানুয়ালি করতো। 

US Navyর জন্য একটা বড় মাপের এপ্লিকেশন ডেভেলপ করছে Mi3 Inc. জর্জিয়া পাওয়ার এর জন্যও তাদের ট্রাক ব্যবহারে প্রতিটি ট্রাকের গ্যাস এবং অয়েল ওয়্যারলেসলি পরিমাপ করার সফটওয়্যার ডেভেলপ করে দেয় Mi3। ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ছোট মাঝারি প্রচুর ক্লায়েন্টের অনেক সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশনস করে দেয় Mi3 Inc.।

 

Mi3 অফ FreebeePay শুরু

GE থেকে যে শিক্ষাটা আমার হয়েছে তা হলো অন্যের জন্য প্রোডাক্ট সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনস প্লাটফর্ম এইসব বানানোর চেয়ে নিজেই প্রোডাক্ট বানাতে হবে- যার ফলে প্রয়োজনীয় আইটি রিসোর্সেস একটু ট্রেইন আপ করে বাংলাদেশে নিয়োগ করা যাবে। এক ঢিলে দুই পাখি মারতে হবে। ২০১০ এর ফেব্রুয়ারিতে FreebeePay Inc. প্রতিষ্ঠা করেন ড. সাইফুল। উদ্দেশ্য হলো ফিনটেকের বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় পদচারণা। ড. সাইফুল ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজির উপর ডোমেইন নলেজ বিল্ডাপ করছিলেন প্রায় এক দশক আগে থেকেই। চাকুরি আর কিছু বিজনেসের অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে এর সাথে। মজার ব্যাপার হলো ১৯৯৪ থেকে ২০১০ এর মধ্যে কোনো ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনোভাবেই সংযোগ হয়নি। না চাকুরিতে না বিজনেসে। FreebeePay একদিকে একটি ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট এবং একইসাথে একটি ফিনটেক কোম্পানি। একদিকে ইনভেস্ট জোগাড় করতে হয়, আরেকদিকে প্রোডাক্টের ডিজাইন রোডম্যাপ ডেভেলপ করতে হয়। তারপর বাংলাদেশ ইন্ডিয়া লিথুনিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে আইটি প্রফেশনালস জোগাড় করে প্রোডাক্টের ফিচারগুলি সাজাতে হয়। FreebeePay ধীরে ধীরে একটা পরিপূর্ণ ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট হিসেবে দাঁড়াতে থাকে। কাস্টমার তার মোবাইল ফোন দিয়ে POS কন্টাক্টলেস ট্রানজেকশন করতে পারবে দ্রুত। একটি POS ট্রানজেকশনের দ্রুততম সল্যুশনের জন্য কাস্টমারের মোবাইলে আগেই তার পে মেথড লিস্টেড করে রাখবে। POS আসলে শুধু সিলেক্ট করবে কোন মেথড অ্যাপ্লাই করে পে করবে। তবে এটা ছিলো FreebeePay ব্যাসিক ফিচার। কিন্তু এর মার্কেটিং ফিচারগুলি ছিলো ওই সময়ের জন্য অনেক অগ্রগামী যা অন্য কারও ছিলো না। যেমন বিজনেস ডিল বা কূপন মার্কেটিং যা দ্বারা অনেক ধরনের বিজনেস অ্যাডভান্স সেলস করে রেভিনিউ জেনারেট করতে পারতো। লোকেশন বেইজড মার্কেটিং ছিলো FreebeePay আরেকটি অন্যতম আইডিয়া যা ২০১৭/১৮-র দিকে বিভিন্ন দেশের লোকাল মানি ট্রান্সফার প্রোডাক্টসে অ্যাড হতে দেখা যায়। FreebeePay সবধরনের বিজনেসকে এনহ্যান্স করতো। একটা ব্যবসাবান্ধব ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট ছিলো FreebeePay। একইসাথে ছিলো কাস্টমার বান্ধবও। যার কারণে ফরচুন ১০০ এর একটা কোম্পানি FreebeePay কে হাই ভ্যালুয়েশনে একওয়ার্ড করতে প্রস্তাব করে। তবে শর্ত ছিলো যে, আমেরিকার ৯টা লোকেশনে পাইলট প্রজেক্ট করে FreebeePay সাকসেসফুল অপারেশন দেখাতে হবে। আটলান্টাতে একটি পশ কফি চেন যাদের ৮টি লোকেশন ছিলো ওখানেই FreebeePay প্রথম পাইলট প্রজেক্ট হয়। POS এ পেমেন্ট এক্সসেলেন্ট পারফরমেন্স দেয়। অন্য ফিচারগুলিও অশানুরূপ কাজ করতে থাকে। কিন্তু এই পর্যায়ে বাকি আর ৮টি পাইলট প্রজেক্ট রান করতে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার দরকার ছিলো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফান্ডিংয়ের অভাবে ওই ৮টি পাইলট আর করা যায়নি। ইন্টারেস্টেড কোম্পানির শর্ত ছিলো ৬ মাসের মধ্যেই সব পাইলট সিমালটেনিয়াসলি কমপ্লিট করতে হবে। বিপর্যয়ের মধ্যে একটা সম্ভাবনা বিলীন হয়ে গেলো। FreebeePay মাধ্যমে শিক্ষা হলো, বড়ো মাপের ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি বানাতে বড়ো মাপের ফান্ডিং দরকার। ‘মুখের কথায় চিড়ে ভিজবে না।’ ড. সাইফুল এই বিপর্যয়কে কিভাবে পজিটিভ দিক থেকে দেখা যায় তার চিন্তাভাবনা শুরু করেন। এই পর্যায়ে FreebeePay টেকনোলজিকে একটি কোর টেকনোলজিতে রূপান্তরের কাজ শুরু করেন। রেমিটেন্স, ক্রিপ্টো, ব্লকচেইন, অনলাইন ওপেন ব্যাংকিং ফর অল এইসব আইডিয়াস অ্যাড করতে থাকেন। ২০১৬ নাগাদ দেখা গেলো FreebeePay টেক অ্যাসেট একটা Omni-Channel হয়ে গেছে। যেমন একটা বড়ো প্রবহমান নদী যার থেকে অনেকগুলি ছোট বড় হোয়াইট-লেবেল প্রোডাক্ট প্রবাহিত করা যায়। বিশ্বব্যাপী একটি ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা এই পর্যায় থেকেই শুরু…

শিক্ষার শেষ নাই 

জীবন-জীবিকার সবটুকু আমেরিকা নির্ভর হলেও ড. সাইফুলের মাথায় সারাক্ষণ বাংলাদেশমুখি চিন্তা-ভাবনা কাজ করে। যেমন ২০০৯ সালে Mi3 মাধ্যমে US CIO সামিট আয়োজন করেন। আমেরিকার ৩০০টি টপ-নচ্ছ কোম্পানির ৩০০ সিইও এটেন্ড করেন যা যেকোনো বিচারে একটা বড়ো মাপের আইটি কনফারেন্স। এটা ছিলো বাংলাদেশ ফোকাসড। বাংলাদেশকে আইটি আউটসোর্স ডেস্টিনেশন হিসেবে এস্টাবলিস্ট করার জন্যই এ বিশাল উদ্যোগ যেখানে সজীব ওয়াজেদ জয়-সহ তৎকালীন কমার্স মিনিস্টার, FBCCI এর প্রেসিডেন্ট, BASIS এর কয়েকজন ডিরেক্টর, বাংলাদেশ এম্বেসি থেকে কয়েকজন এবং আরও অনেক আইটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই CIO সামিটের সুফল বাংলাদেশ এখনো পাচ্ছে। এই সামিট আয়োজনের মাধ্যমে আইটিকে অনেক বড়ো পরিসরে দেখার সুযোগ আসে যা পরবর্তীতে নিজের ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টগুলি আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেখতে অনেক সহায়তা করে।

 

শেষ ভালো যার সব ভালো তার  

দীর্ঘ ২৮ বছরের কর্মব্যস্ত পথ পরিক্রমায় বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় ভরপুর ড. সাইফুলের জীবনে উত্থান-পতন, ভালো-মন্দ, ছোট-বড় বিচিত্র অনেক অভিজ্ঞতা। কিন্তু তার সবই IT/ICT কেন্দ্রিক। এটাই সবচেয়ে ভালো দিক। কাজের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ডস যেমন পেয়েছেন (ওয়্যারলেস ইনোভেশন ফোরাম ২০১১ মোবাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস / টপ ৪০ সফটওয়্যার কোম্পানি ইন জর্জিয়া ইন ২০১২ / বাংলাদেশ ICT অ্যাওয়ার্ডস ইন মোবাইল ওয়ালেট ইন ২০১৯) আবার কাজের মাধ্যমেই কিছু অধৈর্যশীল ইনভেস্টরদের দ্বারা দংশিত হয়েছেন। ড. সাইফুল দুঃখকেও অ্যাওয়ার্ড হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আরও ৯টি বিভিন্ন ধরনের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। বর্তমানে কোম্পানিকে প্রাইভেট থেকে পাবলিক করার যে প্রচেষ্টা তা ওই তিক্ত অভিজ্ঞতার ফসল। এই পথ পরিক্রমায় বেশ কিছু IT/ICT রিলেটেড এসোসিয়েশনের সাথে জড়িত ছিলেন এবং এখনো আছেন ড. সাইফুল। কোথাও কর্মী কোথাও লিডারশিপ সব ধরনের অভিজ্ঞতাই আছে ভান্ডারে। ব্যাপারটা এইরকম যে IT/ICT তার সব জীবনযাপন, বাঁচামরা। ২০১৩ থেকে ২০১৫ এই ৩ বছর কক্স কমিউনিকেশনে আবারো জব-এ ফিরে যাওয়া ছিলো বেদনার। এর পরপরই একইসাথে ফিনিক্সের মতো ঘুরে দাঁড়াবার অভিজ্ঞতা ড. সাইফুলের। আজকে ২০২১-এ NASDAQ লিস্টেড হওয়ার জন্য যে SPAC-IPO প্রসেস চলছে তার রূপরেখা নির্ণয় হয়েছিলো ২০১৫তে। অনেকগুলি ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস দিয়ে বিশ্বব্যাপী একটি সমন্বিত ব্যক্তি-ব্যবসা-প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়াস।

২০২০ সালে ৫০টি কোম্পানি NASDAQ-এ SPAC-IPO-র মাধ্যমে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার রেইজ করেছে। ফামাক্যাশ তার ১৪টি ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস এবং কিছু স্ট্রাটেজিক একুইজিশনের জন্য ২/৩ বিলিয়ন ডলার রেইজ করার লক্ষ্য নিয়ে কন্টাক্টস বিল্ডআপ করছেন। তবে ড. সাইফুল চান যে বাংলাদেশিরাও ফামার স্টকে ২টি কারণে বিনিয়োগ করুক। প্রথম কারণ হলো, ফামাক্যাশই হবে NASDAQ-এ প্রথম লিস্টেড ফিনটেক কোম্পানি যা একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। দ্বিতীয় কারণ হলো যে ফামার স্টক বা শেয়ার মূল্য দ্রুততম সময়ে অনেক বাড়বে যা অনেক বিজনেস এনালিস্টস ইঙ্গিত করছেন।

বাংলাদেশের জন্য ফামার পক্ষ থেকে বেশ কিছু মানবিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পথে। এ ব্যাপারে ৩টি সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ফামা। বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টে make donations on this transaction ফামা প্রমপ্ট করবে কাস্টমারদের ফর চ্যারিটি। ক্লাইমেট এঞ্জেল নামক একটি পরিবেশ প্রতিষ্ঠানকে ফান্ড জোগাড় করে দেয়ার দায়িত্ব হিসাবে ফামা একটি ক্রিপ্টো কয়েন রান করবে তার ব্লকচেইন-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রোডাক্টগুলিতে। ড. সাইফুল আশা করছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তার ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস ব্যবহার করে বেশি বেশি চ্যারিটি পাঠাবে বাংলাদেশে।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button