আরিফ আহমেদ আশরাফ
জেনারেল সেক্রেটারি ,বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা Chief Executive Officer Mun Trading Corporation
বাংলাদেশ এখন আর ছোট আয়তনের একটি রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশের অদম্য ও পরিশ্রমী এবং সাহসী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীসহ অন্য পেশাজীবীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃভূমি বাংলাদেশের গৌরবগাথাকে সমুজ্জ্বলভাবে তুলে ধরছেন। সেই কৃতী সম্ভানদেরই একজন ফ্লোরিডায় বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকান আরিফ আহমেদ আশরাফ। এক্সপোর্ট, ইম্পোর্ট, শিপিং এবং হসপিটালিটিসহ বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ী আরিফ আহমেদ আশরাফ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা’র জেনারেল সেক্রেটারি।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ সময়ের কৃতী সন্তান আরিফ আহমেদ আশরাফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৯২ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে উচ্চ শিক্ষার প্রত্যাশায় আমেরিকা আসেন। তিনি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলসে যান এবং এখানে Southland Corporation যা 7-eleven হিসেবে পরিচিত সেই প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার এবং পরে ম্যানেজার পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু গলায় যার সফল উদ্যোক্তার মালা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে তিনি কেন চাকরির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন! সত্যিই তাই, ১৯৯৫ সালে তার জীবনের নতুন মাইল ফলক শুরু হলো। এ বছর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি ফ্লোরিডায় ফিরে মিয়ামিতে পেট্রোলিয়াম ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ওই সময়ের তরুণ উদ্যোক্তা আরিফ আহমেদ আশরাফ বড় ধরনের স্বপ্ন দেখতে থাকেন। এরপর তিনি অন্য শহর Belle Glade-এ যান ব্যবসা করার জন্য। এ সময়েই তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে H.E. Docklill-এর সাথে। বাংলাদেশি আমেরিকান আশরাফের কাছে তিনি হয়ে আসেন বিনিয়োগের দেবদূত হিসেবে। তার আন্তরিক সহযোগিতায় তিনি এক্সপোর্ট, ইম্পোর্ট, শিপিং এবং হসপিটালিটিসহ নানাবিধ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ পান। তার ভাগ্যের চাকা বেগবান হতে থাকে। তিনি H.E. Docklill এর অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হবার সুযোগ লাভ করেন।

অধ্যবসায়ী ও দৃঢ়প্রত্যয়ী আরিফ আহমেদ আশরাফকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। তার ব্যবসায়িক পথ এখন শুধু এগিয়ে চলার। আরিফ আহমেদ আশরাফ একজন সংগঠনমনস্ক। তিনি শুধু নিজের জন্যে কখনো ভাবেন না। বরাবরই আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং তার শেকড় ভূমি বাংলাদেশের উন্নয়নের চিন্তাও মাথায় রেখেছেন। তিনি মনে করেন, আমেরিকায় যদি বাংলাদেশ ও বাঙালি কালচার সচল রাখা না হয় তবে নতুন প্রজন্ম তার প্রিয় মাতৃভাষাকেও ভুলে যাবে, বিস্মৃত হবে নিজ সংস্কৃতিকে। এ কারণে তিনি ফ্লোরিডার বাংলাদেশ কমিউনিটিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন এবং অন্যদেরও সহযোগিতা করেন।
স্বপ্নদর্শী আরিফ আহমেদ আশরাফ একজন গুণী এবং উদ্যমী সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা’র জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে প্রবাসে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন। সংগঠক আশরাফ তার পারিবারিক আবহে বাঙালি সংস্কৃতির ব্যাপক চর্চা করে থাকেন। তার স্ত্রী এবং দুই ছেলে ও মেয়ে প্রত্যেকেই বাঙালি পোশাক ও আচার-আচরণের মাধ্যমে প্রগতিশীল। বাংলাদেশের গৌরবময় দিনগুলো যথাযথ মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দের সঙ্গে উদযাপন ও পালন করেন।
বাংলাদেশের ভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় তারাও গর্ববোধ করেন। তারা আমেরিকায় ঘটা করে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস পালন করেন।

তিনি Mun Trading Corp / HE Hill’s Charity-র কার্যক্রম আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। দেশে অনেক স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংস্থায় এবং মসজিদে সহায়তা করেন। এ ছাড়া দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কাজের উদ্যোগী করে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করেন। এ ধরনের মনোভাব থেকেই বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে তাদের পড়াশোনা ও উন্নত জীবন যাপনের জন্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছেন। তার স্ত্রী এবং তাদের তিন সন্তানও এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন।
গর্বিত বাংলাদেশি আমেরিকান আরিফ আহমেদ আশরাফ জানান, বাংলাদেশ সত্যিই একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অবশ্যই দুর্নীতির হার কমিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, স্বপ্নবান পরিশ্রমী বাংলাদেশিদের জন্যে বাংলাদেশ যেমন অপার সম্ভাবনার ভূমি তেমনি আমেরিকাও যথেষ্ট সম্ভাবনাময় দেশ। তার মতে, প্রবাসী বাংলদেশিদের শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবে না; বাংলাদেশ কমিউনিটির কথাও ভাবতে হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশিদের ইংরেজি এবং আইটি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা’র জেনারেল সেক্রেটারি আরিফ আহমেদ আশরাফ বাংলাদেশের উন্নয়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



