সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম
মোহাম্মদ ইমরান। একজন আলোকিত উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। তিনি আমেরিকার ফ্লোরিডায় শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী। তিনি ফ্লোরিডায় পামবিচ কাউন্টিতে সুপার মার্কেটসহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ ইমরানের জন্ম চট্টগ্রামের এক বনেদি শিক্ষিত ব্যবসায়ী পরিবারে ১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব আবু তাহের। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ইমরান চট্টগ্রামের বিখ্যাত রহমানিয়া স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজ যা বর্তমানে সরকারি মহসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি এখানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করেন এবং ১৯৯০ সালে ব্যবসার সাথে সংযুক্ত হন।
বাংলাদেশে তিনি তাদের পারিবারিক ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। দেশে তাদের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি ‘ফার্মিং গ্রুপ’ দেখাশোনা করেন তার বড় ভাই মোহাম্মদ ফেরদৌস। তিনি বিজিএমইএর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। উদ্যমী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইমরান এর স্ত্রী জাহানারা বেগম গৃহিণী এবং ব্যবসাতেও পরিচালক হিসেবে সময় দেন। তাদের ৩ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে একজন ডাক্তার, একজন প্রকৌশলী এবং দু’জন অধ্যয়নরত। দক্ষ সংগঠক মোহাম্মদ ইমরান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, ফ্লোরিডায় ২০ বছর প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন; এখন তিনি চিফ অ্যাডভাইজার। মায়ামী বীচে ৩২তম ফোবানা সম্মেলনের তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। নর্থ আমেরিকার সবচেয়ে বড় ফেস্টিভ্যাল এশিয়ান ফেস্টিভ্যালেরও তিনি চিফ অ্যাডভাইজার। তিনি পামবিচ কাউন্টিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ বায়তুল মোকাররম ফ্লোরিডায় ৩ জন উদ্যোক্তা নির্মাতার একজন। দূরদর্শী সুদর্শন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইমরান স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় থাকলেও দেশের শেকড়-ঘনিষ্ঠ। তিনি বছরে ৪/৫ বার দেশে ফিরে আসেন। এখানকার যোগাযোগও তার বেশ গভীর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট। তিনি বিশ্বাস করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রবাসে যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে চিন্তাভাবনাসহ ভূমিকা রেখে চলেছেন তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমরান অন্যতম। এক সময়কার তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা মোহাম্মদ ইমরান। অর্থকণ্ঠকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেন এখানে তা উপস্থাপন করা হলো-

অর্থকণ্ঠ : ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে বাংলাদেশের একটি দুর্নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের কাতারে যোগ দেয়ার অপেক্ষায়; আপনার অনুভূতি কি?
মোহাম্মদ ইমরান : ১৯৭১ সালে যে সব পরাশক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তারা আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জন মেনে নিতে পারেনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ওই সময় স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন- ‘বাংলাদেশ ইজ বটমলেস বাস্কেট’। দেখুন, ২৩ বছর পাকিস্তানি সামরিক জান্তার শোষণ ও ’৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা থাকাই স্বাভাবিক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন যা সব পরাশক্তি মেনে নিতে পারেনি। তারা ও তাদের এ দেশীয় দোসররা ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
দীর্ঘ সময় পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ক্রমশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ এভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী ২০/২৫ বছরের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি- শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র।
অর্থকণ্ঠ : এই উন্নয়ন ধারার পেছনে কাদের অবদান বেশি বলে মনে করছেন?
মোহাম্মদ ইমরান : এর পেছনে দেশের প্রতিটি উৎপাদন খাতেরই অবদান রয়েছে। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সমাজের অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কৃষক সমাজ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংস¤পূর্ণ করার মাধ্যমে দেশ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে দূর করে দিয়েছেন। যে বাংলাদেশের প্রতি বছর বিদেশের কাছে খাদ্য সাহায্যের জন্যে হাত পাততে হতো সেই চিত্রের বিশাল পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানিতেও সক্ষম। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে প্রায় ২১০০ ডলার হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এদেশের গার্মেন্টস ও জনশক্তি রপ্তানি খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বলতে গেলে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বিশ্বের কাছে রোল মডেল। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিভিন্ন দরিদ্র দেশের উন্নয়নে তাদের বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলেছেন। তবে এসবের পেছনে শেখ হাসিনার সরকারের অবদান ব্যাপক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে, এখন তাঁরই সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতে কৃষকদের অবদানের কথা বলেছেন। অনেক উদ্যোক্তাই পিছিয়ে থাকা অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি এই সমস্যা না থাকতো- আমরা আরো দ্রুত উন্নয়নের দিকে যেতে পারতাম; আপনার মন্তব্য কি?

মোহাম্মদ ইমরান : এ দেশে উদ্যোক্তাদের জন্যে বড় সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই উদ্যোক্তা সমাজকে অতীতে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের মধ্যেও ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে টিকে থাকতে হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে হরতাল বিদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। একসময় ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় দেড়শ দিনই হরতাল হতো- সরকারি ছুটি মিলিয়ে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা ১০০ দিনের বেশি উৎপাদন করতে পারতেন না। আমাদের দেশ স¤পর্কে বিদেশি উদ্যোক্তাদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ায় তারা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও রাস্তাঘাটের অপর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্যোক্তারা শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু এখন এর অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে মনোযোগ দিয়ে এখাতকে সমৃদ্ধ করেছে। উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে অর্থ নয়, তারা চান ব্যবসার সুযোগ। সরকার যদি অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটায় তবে উদ্যোক্তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন এটি নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে সরকার যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে- চাহিদাও কিন্তু দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন উদ্যোক্তারা শিল্পায়নে এগিয়ে আসছেন ফলে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ চাহিদা আরো বাড়ছে। রাস্তাঘাটেরও উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার এসে এক্ষেত্রে বেশ কিছু অগ্রগতি সাধন করেছে। দেশের বেশ ক’টি ফ্লাইওভার, ফোরলেন, হাইওয়ে সড়ক নির্মাণ, পদ্মা সেতুর মতো বিশাল সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ- নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অগ্রগতির সফল উদাহরণ। বিশেষ করে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে তাদের সহযোগিতার হাত ফিরিয়ে নেয়ার পরও জননেত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন- পদ্মা সেতু হবেই ইনশাআল্লাহ্। তা আজ দৃশ্যমান। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে এখনো ঘাটতি আছে, আশা করছি সরকার এখাতেও স্বয়ংস¤পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি আমেরিকার মতো উন্নত দেশে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই বলেন, যানজট বিশেষ করে ঢাকার অসহনীয় যানজট আমাদের অর্থনৈতিক গতিশীলতা রুদ্ধ করে দিচ্ছে-
মোহাম্মদ ইমরান : এটা পরোপুরি সত্য নয়। শুধু ঢাকায় নয়, পৃথিবীর অনেক দেশের রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর যানজট লক্ষণীয়। মেক্সিকোতে যানজট রয়েছে, চীনের বেইজিংয়েতো একসময় আমাদের চেয়েও ভয়াবহ যানজট ছিল। এখন তারা সমস্যার সমাধান করেছে। বাংলাদেশেও মেট্রোরেল, উড়াল সড়কসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, এতে করে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
এখন এদেশে বিদেশি উদ্যোক্তারা অধিক হারে বিনিয়োগ করবেন বলে আমি মনে করি।
অর্থকন্ঠ : দেশ-বিদেশের অনেক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরই অভিযোগ, এ দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে- আপনার পরামর্শ কি?
মোহাম্মদ ইমরান : দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতা উপযোগী আমলাতন্ত্রের অনেকেই নিজেদের প্রভু মনে করেন, এটা ঠিক নয়। তবে আগের তুলনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেক কমেছে। আমি উল্লেখ করেছি, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদেরকে ¯পষ্ট বলে দিয়েছেন- আপনারা শাসক নন, সেবক। আগে কিন্তু কোনো সরকারপ্রধান তাদেরকে এভাবে বলতে পারেননি। আমি বিশ্বাস করি, এদেশের নাগরিক হিসেবে তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে জনকল্যাণে নিজেদের স¤পৃক্ত করবেন।
অর্থকণ্ঠ : বর্তমানে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের হার অনেক কম- এর পেছনে কি কি কারণ?
মোহাম্মদ ইমরান : আমি অবশ্য আপনার প্রশ্নের সাথে পুরোপুরি একমত নই। এখন কিন্তু বিদেশি উদ্যোক্তারা এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। তারা বিনিয়োগের জন্যে নিবন্ধন করছেন। সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করেছে। আমি মনে করি, এতে প্রচুর বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে।
অর্থকণ্ঠ : এদেশে ব্যাংকের উচ্চ সুদহার বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে বলে অনেকে মনে করেন- আপনার প্রস্তাবনা কি?
মোহাম্মদ ইমরান : এটি ঠিক, পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদহার অনেক বেশি। উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা যখন উচ্চ সুদ হারে ব্যাংক থেকে ঋণ নেন- সেক্ষেত্রে তাদের উৎপাদন ব্যয় এবং আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। এতে বিদেশি পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় হিমসিম খেতে হয়। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি মনে করি, ব্যাংকগুলো তার এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে এগিয়ে আসবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে রয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিদেশিদের কাছে যে ব্যবহার ও আচরণ পেয়েছেন- এখন কি তার পরিবর্তন ঘটেছে?
মোহাম্মদ ইমরান : এটি চমৎকার প্রশ্ন করেছেন। একসময় আমরা ছিলাম দরিদ্র। কোথাও গেলে পাসপোর্টে বাংলাদেশ দেখেই একটা তুচ্ছ- তাচ্ছিল্যের ভাব ফুটে উঠতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশ ও আমাদেরকে যে কোনো দেশের মানুষই সম্মান ও সমীহের চোখে দেখে। তারা এখন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাও বলে। এর কারণ বাংলাদেশের দুইটা ব্র্যান্ড খুব পরিচিতি এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে, একটা হচ্ছে ক্রিকেট। ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দ্বিতীয় হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের পণ্য। এছাড়া জনশক্তি- বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানও আমাদের ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে।
এক সময় আমাদের মনে করতো গরিব, গরিবদের প্রতি যে আচরণ হয়- তাই করতো। এখন আমরা উন্নতি করছি, ক্রিকেটে নাম করছি- এখন আচরণ সমীহের। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের অনেক বৃহৎ রাষ্ট্রের নেতাদের মতোই মূল্যায়ন পান।
অর্থকণ্ঠ : বিদেশি বিনিয়োগকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আনার ব্যাপারে আপনার কোনো প্রস্তাবনা আছে কি?
মোহাম্মদ ইমরান : প্রত্যেক জিনিসেরই ব্র্যান্ডিং করতে হয়। বাংলাদেশকেও তা করতে হবে। এখানে উদ্যোক্তাদের জন্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর করতে হবে। অর্থনৈতিক অঙ্গনের সুবিধা জানিয়ে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহী করতে হবে। তাদেরকে সবরকম নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : এদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা স¤পর্কে আপনি কতোটা আশাবাদী?
মোহাম্মদ ইমরান : অনেকখানি। এদেশে পর্যটনের জন্যে উৎকৃষ্ট অনেক স্থান আছে- কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকায় সেভাবে এই শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না। বিদেশিদের কাছে উন্নত বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশের প্রচার মাধ্যমে এদেশকে নিয়ে প্রতিবেদন ও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতের সাথে স¤পৃক্ত। ফ্লোরিডাতেও আপনি স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। ফ্লোরিডার ব্যবসা-বাণিজ্য স¤পর্কে জানতে চাইছি।
মোহাম্মদ ইমরান : আমেরিকার ফ্লোরিডার পামবিচ কাউন্টিতে আমার বেশ কিছু ব্যবসা রয়েছে। এর মধ্যে সুপারমার্কেট অন্যতম। আমার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ই¤পাচ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেশন, এমজে কর্পোরেশন অব ফুড, পামবিচ ইত্যাদি।
অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ভয়াবহ দুর্নীতির ঘটনা বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করছে- আপনার পরামর্শ কি?
মোহাম্মদ ইমরান : শুধু এদেশেই নয়, বিদেশেও দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। তবে সে সব দেশে বিচার ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। আশা করছি- দুর্নীতিবাজরা সতর্ক হবেন। আমি মনে করি দুর্নীতি যেই করুন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হলে দুর্নীতি কমবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স¤পর্কে কতোটা আশাবাদী?
মোহাম্মদ ইমরান : আমি আশাবাদী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হবে। এর জন্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাহক সরকার ক্ষমতায় থাকতে হবে।



