
মোহাম্মদ আহসান একজন প্রতিভাবান মেধাবী উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান যিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ‘টেক বিজনেস’ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করেছেন। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করা মোহাম্মদ আহসান নিজের বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তা এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তিনি আমেরিকার উল্লেখযোগ্য নতুন টেক বিজনেস প্রতিষ্ঠান কেরিকরো (Carrykoro)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। নতুন ধারার এই প্রতিষ্ঠান আমেরিকার উল্লেখযোগ্য স্থানের বাইরে বাংলাদেশেও চালু হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু করা হচ্ছে।

বিজনেস টেকনোলজি খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আহসান মাত্র ১৯ বছর বয়সে আমেরিকা আসেন। তিনি রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার্থে আমেরিকা আসেন এবং St. Cloud State Universityতে ২০০৪ শিক্ষাবর্ষে ‘Business Computer Information System’ নিয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি ফাউন্ডার ইনস্টিটিউট সিলিকন ভ্যালি থেকে ২০১৬ সালে Tugforce Project নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন – সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টর উপর তার নিজস্ব পেটেন্ট রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যয়ন শেষে ২০০৫ সালে তিনি Century Software প্রতিষ্ঠা এবং এর সিইও হিসেবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক আইন এবং চেইন ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মোহাম্মদ আহসান ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে Mizutro Bank এর বিজনেস প্রসেস অ্যানালিস্ট/প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। এ প্রতিষ্ঠানে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
মেধাবী তরুণ মোহাম্মদ আহসান ব্যাংকিং পেশাজীবন ছেড়ে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে Tugforce Inc. প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু হয় তার উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী জীবনের নতুন অধ্যায়। ২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Ecommerce Gladiator- এটি একটি টেকনোলজি বিজনেস ফার্ম। এটি Business to Business (B & B) এবং বিজনেস টু কাস্টমার (B & C) উভয় খাতেই ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ তিনি ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সাড়াজাগানো টেকনোক্যাল বিজনেস ‘কেরিকরো’ প্রতিষ্ঠা করেন। মোহাম্মদ আহসান কেরিকরো’র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও)। এটি তার একটি উন্নতমানের টেক বিজনেস। তিনি ঢাকাতেও কেরিকরো চালু করেছেন। কেরিকরো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছে এবং চার্জ মাত্র ৬০ টাকা। সারাদেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি করা হয়। কেরিকরো থেকে করোনা ভাইরাসের টেকনোলজি, অন ডিমান্ড, অন ডিমান্ড ডেলিভারি বিভিন্ন বিষয়ে অতিদ্রুত সেবা দেয়া হয়।
উদ্যমী ও স্বপ্নদর্শী তরুণ মোহাম্মদ আহসান মনে করেন, মানুষের মধ্যে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনায় রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যস্ততার জন্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা পণ্য ক্রয়ে অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায় অর্থাৎ সময় নষ্ট হয়। সেই নষ্ট সময়ের মূল্য যোগ করলে ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য অনেকগুণ বেড়ে যায়। এ জন্যে কেরিকরো’র মাধ্যমে পণ্য চাহিদা জানালে স্বল্প খরচে অতিদ্রুত তার কাছে পণ্য পৌঁছে যায়।
আবার এমন অনেক পণ্য আছে যা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছুতে ৪/৫ হাত বদল হয়। এতে পণ্যমূল্যের এক বিশাল অংশ চলে যায় মিডলম্যানদের হাতে। প্রকৃত উৎপাদনকারী যথাযথ মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন আবার ভোক্তাকে অধিক মূল্যে তা ক্রয় করতে হয়। কেরিকরো সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবে বলে উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আহসান আশাবাদী।
কেরিকরো ইতোমধ্যে আমেরিকা এবং বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় তাদের কার্যক্রম চালু করেছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এর বিস্তৃতি ঘটানোর ইচ্ছে আছে। অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহক কেরিকরোতে যে কোনো পণ্যের জন্যে নক করলে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাতে পৌঁছে যাবে। মোহাম্মদ আহসান তার ‘কেরিকরো’কে পাঠাও-এর মতো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করার আশা পোষণ করেন। বর্তমানে ওষুধ, পার্সেল ও গ্রোসারির উন্নতমানের মালামাল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।
মোহাম্মদ আহসান ইন্ডিয়াতেও এর বিস্তৃতি ঘটাতে চান। বাংলাদেশে টেকনোলজি সাপোর্ট মার্কেটিংয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে কেরিকরো।
মোহাম্মদ আহসানের প্রতিষ্ঠিত কেরিকরো’র মূল লক্ষ্য শুধু ব্যবসা নয়, এর মাধ্যমে তিনি জনগণের সেবাও করতে চান। অর্থাৎ তিনি তার এই বিজনেসকে জনকল্যাণমুখী ব্যবসায় রূপান্তর করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে ঝুঁকি থাকবে এটা যেমন সত্য, তেমনি এর সাফল্য শুধু উদ্যোক্তাকে নয়, এর সাথে দেশ এবং জাতিকেও অনেক সম্ভাবনাময় করে তোলে।
তিনি বিশ্বাস করেন, কেরিকরো’র মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজনেসের ক্ষেত্রে গ্লোবাল মার্কেটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান করে নিতে সক্ষম হবে। এদেশের অনেক পণ্য বিদেশের মার্কেটেও চাহিদার অংশ হবে এবং এতে করে বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ঢাকায় বর্তমানে ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ী ও পল্টনে এর ৩টি শাখা চালু হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশব্যাপী এর কার্যক্রম বিস্তৃত হবে।
নতুন প্রজন্মের কাছে সমাদৃত টেকনোলজিক্যাল উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আহসানের জন্ম ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার স্ত্রী মিনু উদ্দিন, শিক্ষিত এবং মেধাবী। তাদের দুই ছেলে জয় আহসান এবং মিখাইল আহসান। মোহাম্মদ আহসানের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। তার পিতা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


