সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশি আমেরিকানরা নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব

মোরশেদ আলম, বিশিষ্ট লেখক এবং রাষ্ট্রচিন্তক

বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ আছে- ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’। প্রবাদটি দিয়ে তাদেরই উদাহরণ টানা হয়- যারা নিঃস্বার্থভাবে সমাজসেবা করে থাকেন। আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি আমেরিকান সমাজ সচেতন চিন্তাবিদ ও লেখক মোরশেদ আলমের বেলায় কথাটি প্রযোজ্য। এই চিন্তক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম পরিচয় হচ্ছে ‘Morshed Alam is a life long civic and Political activist, Fighting for new American right in USA.’

অগ্রসর চিন্তার নায়ক মোরশেদ আলমের জন্ম বাংলাদেশের এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তিনি যখন হাই স্কুলের ছাত্র তখন দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। কিশোর মোরশেদ আলম দেশ-মাতৃকার মুক্তির এই লড়াইয়ে অংশ নেন। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর খবরাখবর মুক্তিবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার মতো অকুতোভয় কিশোররা ছিল বলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে বিএসসি অনার্সসহ ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্র্জন করেছেন। 

এক পর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন আমেরিকায় আসার। ১৯৮৪ সালে তিনি স্ত্রীসহ আমেরিকায় আসেন। রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা ও পেশাজীবনে রসায়ন শাস্ত্রের অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি আমেরিকায় এসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ‘রসায়নবিদ’ হিসেবে কাজের সুযোগ পান। মোরশেদ আলম একজন গর্বিত বাংলাদেশি আমেরিকান। যিনি শেকড় সত্তার জন্মভূমি বাংলাদেশের মতোই আমেরিকাকেও নিজের দেশ মনে করেন। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ রসায়নবিদ হিসেবে তিনি ১৯৯২ সাল থেকে নিউ ইয়র্ক সিটি পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

মোরশেদ আলম একজন সংগঠনমনা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ কমিউনিটিতে তিনি সবিশেষ পরিচিত। তিনি দু’বার কুইন্সের স্কুল বোর্ডে নির্বাচিত হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি মনে করেন, এ সংগঠন যে কোনো নতুন অভিবাসীর জন্যে সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। তিনি বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক। তিনি নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ৪২% ভোট লাভ করেন।

স্কুল বোর্ড এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় অসংখ্য নাগরিক পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি। তার সামাজিক কার্যক্রমের বিষয়টি মূল্যায়ন হওয়াতেই তাকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সফর করতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিল তাকে ভোটার সহায়তা কমিশনার হিসেবে ভোট দিয়ে তার সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মানবপ্রেমী মোরশেদ আলম মনে করেন, আমেরিকার বাংলাদেশ কমিউনিটি এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এজন্যে বেশি সমস্যা ভাষা এবং আমেরিকার জন্যে উপযোগী কর্মসহায়ক অধ্যয়ন। এটা হলে মূলধারার চাকরি মেলে, অন্যথায় ‘অডজব’ করতে হয়।

তিনি একজন সমাজকর্মী হিসেবে শুধু কমিউনিটির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নন, আমেরিকার মূলধারার অনেক কিছুতেই রয়েছে তার অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশি আমেরিকানরা নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন অতিদ্রুত সম্ভব হবে।

মোরশেদ আলম ও তার স্ত্রী তিন কন্যা সন্তানের জনক-জননী। স্ত্রী এবং সন্তানরাও তার বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবা কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি নিজ গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্য সুবিধার লক্ষ্যে একটি মেডিক্যাল ক্লিনিক স্থাপন এবং শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও দৃঢ় করার ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার প্রত্যাশা বাংলাদেশেও আমেরিকান বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটবে।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button