প্রতিবেদন

জমে উঠেছে এফবিসিসিআই নির্বাচন

জমে উঠেছে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এফবিসিসিআই নির্বাচন। নির্বাচনে সরব দেড় শতাধিক প্রার্থী। তাদের তৎপরতায় ব্যবসায়ী মহলে উৎসবের আমেজ। তারা চান ভোট সুষ্ঠু হোক। এফবিসিসিআইর নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে এবার অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের একজন সভাপতি হবেন। অংশগ্রহণমূলক অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও।

এফবিসিসিআই হওয়া উচিত গবেষণাভিত্তিক সংগঠন

মো. জসিম উদ্দিন
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এফবিসিসিআইর মতো সংগঠন খুবই জরুরি। সেই সংগঠন হওয়া উচিত গবেষণাভিত্তিক। ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীকে নিয়ে কাজ করা উচিত। অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত। যারা নির্বাচন করেন, তারা যেসব সেক্টর থেকে আসেন সেসব ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদের সংগঠনই হওয়া উচিত এফবিসিসিআই। বিপিজিএমইর সভাপতি জসিম উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। অনেক ছোট থেকে বড় হয়েছি। আমিও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ছিলাম। সুতরাং আমি জানি ছোট ব্যবসায়ীদের দুঃখ-দুর্দশা। এফবিসিসিআইর মতো সংগঠন সবার জন্য দরকার। বিশেষ করে ছোটদের। বড়দের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারে। কিন্তু ছোটরা নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে পারে না। তাদের জন্য বেশি দরকার। তিনি বলেন, আমি এফবিসিসিআইর দায়িত্ব নিতে পারলে সারা দেশের সব চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই। ব্যাংক এখন ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের টাকা দিতে পারে না। ব্যাংকগুলো মনে করে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা তাদের। চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন এদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে, কো-অপারেট করা গেলে সবাই উপকৃত হবে। এসব কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ ভূমিকায় মহামারি করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। তবে রপ্তানি এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। সামনে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করার জন্য আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ আসছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি খাতকে একত্রে কাজ করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর বিজনেস উইংগুলোর মাধ্যমে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট-এফটিএ নিয়ে কাজ করতে হবে। চলতি বছর ভিয়েতনাম ইউরোপের এফটিএ সুবিধা পেলে তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। তখন কিন্তু আমাদের প্রতিযোগিতা থাকছে না। রাশিয়া, তুরস্কের মতো জায়গায় এফটিএ নিয়ে কাজ করা দরকার। এফবিসিসিআই সেই কাজটিই করবে। সরকারি আমলাদের সঙ্গে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা দরকার। পলিসিগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ত করা। যেমন আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো যখন বাস্তবায়ন হবে সেখানে পরিবেশের কী হবে, সমস্যাগুলো কী তা চিহ্নিত হয়নি। এসব পলিসি ঠিকমতো করা না গেলে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা রুখতে সক্ষম নেতৃত্ব দরকার

 

আবদুল আউয়াল মিন্টু
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, এফবিসিসিআই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন। এই সংগঠন ব্যবসা-বাণিজ্যের সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সবার প্রয়োজনে কাজ করে। ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো একক ব্যক্তির সুবিধা নয়, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে। সেই সংগঠনে যদি যোগ্য নির্বাচিত নেতা না আসেন তাতে দেশের ক্ষতি হয়।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দেশের সব ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। ফেডারেশন গঠন করার মূল উদ্দেশ্য আমরা যদি দেখি ভারতে ফ্রি কি বা ইউএস ফেডারেশন সেখানে জাতীয় চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্যিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। জাতীয় বাণিজ্যে ইউএস চেম্বার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব দেশে এসব বাণিজ্য সংগঠন সরকারি কর্তৃত্বে যায়নি তারা পুরো ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেন। আমাদের এখানকার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান সরকারের কর্তৃত্বে চলে গেছে। সরকার চায় তাদের লোক নির্বাচিত হোক। এভাবে কোনো সংগঠন ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, একজন উদ্যোক্তা যখন কোনো ব্যবসা শুরু করেন তাকে বিদ্যুতের জন্য, পানির জন্য সরকারের কাছে যেতে হয়। নানা কিছুর জন্য সরকারের কাছে দৌড়াতে হয়। দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে এসব সমাধানে এফবিসিসিআইকে কাজ করতে হবে। যারা সভাপতি বা পরিচালক তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যদি সে রকম যোগ্য নেতৃত্ব আসে তারা অনেক কিছু করতে পারেন। ব্যবসা-বাণিজ্যকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সংস্থার ভূমিকা রাখতে হবে ব্যবসার স্বার্থ রক্ষায়। এফবিসিসিআই জাতীয় প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সময় পুরোপুরি নির্বাচন হতো। যা কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা যাবে না। আমি যখন নির্বাচন করেছিলাম প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। চার বছর প্রতিনিধিত্ব করেছি, কেউ বলতে পারবে না সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করিনি। আজকাল জেলা চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশন সরকারের লোকজন দখল করার চেষ্টা করে। এটা কোনোভাবে একটি শক্তিশালী সংগঠনের জন্য কাম্য নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ভালো নেতা পাব। যে বাধা আছে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে ভালো নেতৃত্ব। সংগঠন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক তার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা কাজ করতে পারবে। নেতৃত্ব যদি ঠিক না থাকে তবে সেই প্রতিষ্ঠান থাকা বা না থাকা একই কথা।

এফবিসিসিআই বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে

এ কে আজাদ
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ বলেছেন, দেশের বাণিজ্য সংগঠনের শীর্ষ সংস্থা এফবিসিসিআই ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এটা সবাই প্রত্যাশা করে। চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সারা দেশে ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করেন। সরকারি নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই সংগঠন। একটি শক্তিশালী সংস্থা গড়তে হলে যোগ্য নেতৃত্ব আসতে হবে।
এ কে আজাদ বলেন, এফবিসিসিআই সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের নীতি প্রণয়নে বিশেষ করে শুল্ক হার, ভ্যাট হার, কর হার ছাড়াও বিভিন্ন খাতের সমন্বয় সাধনে যৌথ নেতৃত্ব দিয়েছে। অতীতে এটি ভূমিকা রেখেছে, করোনাকালীন সংকটের সময় কিছুটা শিথিল ছিল। কিন্তু এ সময়ে ব্যাংকিং কাজে উদ্যোগ নেওয়া, সিঙ্গেল ডিজিট দাবি ও বাস্তবায়ন, ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধা নিয়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অতীতে আমরা ভারত, ভুটানের সঙ্গে জিরো ট্যারিফ সুবিধা নিয়েও সরকারের সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। এসব কাজের উদ্দেশ্য একটাই দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা। ব্যবসা করতে হলে নীতি সহায়তাই গুরুত্বপূর্ণ। সব ব্যবসায়ী তাই চায়। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রণোদনার জন্য এফবিসিসিআই কাজ করেছে। সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করেছে। যদিও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা কম পেয়েছে। বড় ব্যবসায়ীরা বেশি পেয়েছে। এটা নিয়ে এখনো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব এসব বিষয়ে নজর দেবেন এমনটি সব ব্যবসায়ীর প্রত্যাশা। সারা দেশের চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোয়ালিশন করেই কাজ করা উচিত। তাদের প্রতিনিধিদের দিয়ে এফবিসিসিআই নতুন নেতৃত্ব আসবে। সামনের নির্বাচনে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে মূল নেতৃত্ব আসবে। এ বছর যারা মূল নেতৃত্বে আসবেন তাদের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা ভ্যাট নিয়ে কাজ করেছেন। সেসব অভিজ্ঞতা দিয়ে আশা করি ভালো যোগ্য নেতৃত্ব ফিরবে এফবিসিসিআইতে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সৌজন্যে

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button