সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী নানা প্রশ্ন উঠেছে সরকারের উচিত তা স্পষ্ট করা

ফিরোজ আহমেদ, প্রেসিডেন্ট ল্যান্ডমার্ক কনস্ট্রাকশন ইউএসএ করপো

নেশা ও পেশায় যারা অদম্য, চিন্তা ও চেতনায় যারা অগ্রসরমান, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে যারা আগামীর পথচলার দিক-নির্দেশনা খুঁজে নেন, সাফল্য তাদের হাতে ধরা পড়বেই- এমনই একজন সফল বাংলাদেশি আমেরিকান ফিরোজ আহমেদ। বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমুদ্রের উচ্ছ্বাস ঘেরা সন্দ্বীপের এই কৃতী সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রসর বাংলাদেশি সংগঠকদের একজন- যিনি সেখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান Landmark Construction USA Corp-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে উত্তরোত্তর উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলেছে। আলোকিত সংগঠক ও কমিউনিটির উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ফিরোজ আহমেদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)’র সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ফোবানা সম্মেলন-২০১৯ এর সদস্য সচিব।

ছোটবেলা থেকেই ফিরোজ আহমেদ পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী এবং বেশ সৃজনশীল। তিনি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সরকারি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর সরকারি হাজী মহসিন কলেজ থেকে বিকম ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পেশা হিসেবে প্রথমে আয়কর আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রাম ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সাবেক ট্যাক্স এটর্নি। তখন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন।
ফিরোজ আহমেদ এর জন্মস্থান সন্দ্বীপ বারবার সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাঙনের সম্মুখীন। তিনি এই ক্ষতিগ্রস্ত দ্বীপ রক্ষায় প্রবাসেও নিজ এলাকার লোকদের সংগঠিত করে সহায়তা প্রদান করছেন। তিনি ইউএসএ’র সন্দ্বীপ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি আমেরিকার বাংলাদেশ সোসাইটি নিউ ইয়র্কের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি এই সোসাইটির নির্বাচনে ইলেকশন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সন্দ্বীপ সোসাইটির নির্বাচনকালীন সময়ে চিফ ইলেকশন কমিশনার হিসেবে ভূমিকা রাখেন।

মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ফিরোজ আহমেদ করোনাভাইরাস অভিঘাতে মানবিক দুর্যোগ মুহূর্তে বাংলাদেশি কমিউনিটির সেবায় নিরলস কাজ করছেন। পাশাপাশি নিজ জন্মস্থান সন্দ্বীপের পিছিয়ে থাকা অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ত্রাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে প্রত্যেকের উচিত নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। বিশিষ্ট সংগঠক ব্যক্তিত্ব ফিরোজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতে পরিচিত মুখ। তিনি সেখানে বিভিন্ন টিভি টকশোতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।
করোনাভাইরাস নিয়ে তিনি সন্দ্বীপসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদেরকে নানাউপায়ে মানসিকভাবে সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন- ‘বাংলাদেশে যারা করোনা আক্রান্ত তারা কোনো ক্রিমিনাল নন, তাদের প্রতি সদয় হোন। আপনার প্রতি এই আচরণ হলে কেমন লাগতো?’ ফিরোজ আহমেদসহ সমমনাদের উদ্যোগে নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্নস্থানে বাংলাদেশি অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারদের মধ্যে খাদ্যসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ফিরোজ আহমেদ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হিসেবেই শুধু নন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও সমধিক পরিচিত। তিনি বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক। একজন সচেতন ও অগ্রসর মানুষ হিসেবে ফিরোজ আহমেদ রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি মূল্যবান দর্শন হচ্ছে- ‘ব্যক্তির চেয়ে দল এবং দলের চেয়ে দেশ বড়’। তিনি মনে করেন, এই আদর্শিক কথা অনুসরণ করলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, যেকোনো দেশের উন্নয়নের প্রথম শর্ত হচ্ছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। শুধুমাত্র একদলীয় গণতন্ত্র দ্বারা রাষ্ট্রের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী নানা প্রশ্ন উঠেছে; সরকারের উচিত তা স্পষ্ট করা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা।
ফিরোজ আহমেদ একজন গুণী রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সুপরিচিত।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button