এনামুল হক এনাম
ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী এক সময়ের সুদর্শন তরুণ মোহাম্মদ ফাহিম জান বিশ্বের সর্বাধুনিক নগরী নিউ ইয়র্কের ব্যবসাসফল প্রতিষ্ঠান Allied Mortgage Group এর শাখা ম্যানেজারের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি নিউ ইয়র্কের Hicksville এর স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আমেরিকার গর্বিত নাগরিক। তার স্ত্রীর নাম সাইয়েদা ফাহিম। তিনি একজন কর্মপ্রিয় বহু গুণে গুণান্বিত নারী ব্যক্তিত্ব।

Allied Mortgage Group আমেরিকার জাতীয় ভিত্তিক মর্টগেজ লেন্ডার প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান কার্যালয় Suburban Philadelphia এ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে আমেরিকার অধিবাসীদের সম্পত্তি মর্টগেজ রেখে ঋণ সুবিধা প্রদান করছে। বিশেষ করে যারা আমেরিকায় বাড়ি বা জমি কেনার স্বপ্ন দেখেন তাদের আশা পূরণে এগিয়ে আসে Allied Mortgage Group। তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ঋণ গ্রহীতাকে বাড়িঘর ক্রয়ে সহায়তা প্রদান করে। তারা তাদের বিশেষজ্ঞ দ্বারা ফ্ল্যাট/বাড়ির কাগজপত্র ও নির্মাণ অবকাঠামো পরীক্ষা-ধনিরীক্ষা করে। এতে ক্রেতা বিশেষভাবে উপকৃত হন।
অনেক শিক্ষিত বাংলাদেশি আমেরিকার মতো স্বপ্ন রাজ্যে গিয়ে বেমানান কাজ করেন। সেদিক থেকে মোহাম্মদ ফাহিম জান সত্যিই ভাগ্যবান। তিনি একটি সুবিখ্যাত কোম্পানি Allied Mortgage Group-এ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশি তরুণরা যত বেশি দায়িত্বশীল পদে কাজের সুযোগ পাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তত বাড়বে।
বিশ্বের একটি উন্নত দেশে অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবন যাপন করলেও বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে ভুলতে পারেননি মোহাম্মদ ফাহিম জান। তারুণ্যে উজ্জীবিত এই মেধাবী নির্বাহী যখনই সময় পান দেশের মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেন। তিনি নিউ ইয়র্কের বাঙালিদের সে দেশে একটি বাড়ির স্বপ্ন পূরণে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। তিনি নিজে বাঙালি কমিউনিটিতে যোগাযোগ করেন এবং যারা বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ে আগ্রহী তাদের সৎ পরামর্শ দেন যাতে তারা প্রতারণা কিংবা জটিলতার শিকার না হন।
মোহাম্মদ ফাহিম জান এর স্ত্রী সাইয়েদা ফাহিম একজন বন্ধুবৎসল নারী। তার অনেক বন্ধুই সেলিব্রেটি। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের বিখ্যাত টিভি তারকা কেয়া চৌধুরী এবং একসময়ের বিটিভির প্রডিউসার শাহিদা আরবী অন্যতম। তিনি নিজেও নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ।

উদ্যমী ও স্বপ্নদর্শী মোহাম্মদ ফাহিম জান এবং সাইয়েদা ফাহিম বেড়াতে পছন্দ করেন। অবসর পেলেই তারা নিজেদের বন্ধুবান্ধব ও দর্শনীয় স্থান দেখতে ছুটে যান। নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক কর্মকা-েও তারা ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট। বৈশাখী উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস তারা নিউ ইয়র্কে বেশ উৎসাহ নিয়ে পালন করে থাকেন। বাংলাদেশকে তারা অনন্য এক উঁচুমাত্রায় তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ ফাহিম জান মনে-প্রাণে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার সৈনিক। তিনি বাংলাদেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় পরে হলেও উন্নয়নের যাত্রাপথে সংযুক্ত হতে সক্ষম হয়েছে। যখন ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের গৌরবগাথা লক্ষ্য করেন, তখন নিজেকে খুবই গর্বিত সন্তান ভাবেন। বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে থাকা দরিদ্র রাষ্ট্র নয়। এখন এটি মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। এক সময় নিজেরা ভালো থাকলেও এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে বেশ কষ্ট পেতেন। এখন বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আর এ দেশের মানুষের অনাহারে মৃত্যু ঘটে না।
তবে আশাবাদী মোহাম্মদ ফাহিম জান বাংলাদেশের দুর্নীতি ও নারী-শিশু ধর্ষণের ঘটনায় বিমর্ষ হন। তিনি এক মানবিক বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন- যে দেশে খুন ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে না। বাংলাদেশ পরিচালিত হবে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার ভিত্তিতে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্তভাবে উন্নয়নের পথ বেয়ে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এভাবে লাখো শহীদের স্মৃতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে।৩


