অর্থনীতিপ্রতিবেদন

নারী শিশুদের সার্বিক কল্যাণে অনন্য অবদান রাখছে অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

‘The Reason as to why I am here in this world is maybe because I am set out to help those who are less fortunate than I am’ একজন শিক্ষার্থী অবিন্তা কবির এভাবেই পৃথিবীকে ভেবেছিলেন। তার এই ভাবনা ও ইচ্ছেতেই আজ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ‘অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে শতাধিক অসচ্ছল দরিদ্র শিশু ও বালিকাদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগসহ উন্নত মানের জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তারা এখন আর অনগ্রসর অবস্থার মধ্যে পড়ে নেই। তারাও এখন সমাজের উন্নতমানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হচ্ছে, পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
অবিন্তা কবির-এর জন্ম ১৯৯৭ সালের বাংলাদেশের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে। অবিন্তা কবির তার বয়সী মেয়েদের চেয়ে একটু ভিন্ন চিন্তার মানসিকতা নিয়ে বড় হচ্ছিলেন। তিনি তার চারপাশে তাকিয়ে দেখতেন যে, এদেশে এমন অনেক শিশু রয়েছে যারা তার মতো স্বাভাবিক উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পাচ্ছে না, পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। তার মনোজগতে সামাজিক এই তারতম্য প্রভাব ফেলে। মনের মধ্যে পরিবর্তন সৃষ্টিকারী, দেশ-প্রেমিক, গুণী এবং পরোপকারী চিন্তা-চেতনার এই তরুণী Oxford College of Emory University-তে পড়ার সময় Freshman Seminar এ তার মতাদর্শ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্রান্ত Essay লিখতে তার সুগভীর চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটান এভাবে যে, ‘আমি এই পৃথিবীতে এসেছি কারণ যারা আমার চেয়ে ভাগ্যহীন তাদের সহযোগিতার জন্যে’। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, পৃথিবীর দুর্ভাগ্য, দুর্ভাগ্য তাদের পরিবারের; ২০১৬ সালের ১ জুলাই মাত্র ১৯ বছর বয়সে অবিন্তা কবির এক দুঃখজনক পরিণতির শিকার হন।

মানবদরদী এই তরুণীর মৃত্যুতে তার পিতা-মাতা খুবই মুষড়ে পড়েন। মা চিন্তা করেন, তার মেয়েটি সব সময় চেয়েছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। তিনি মেয়ের সেই ইচ্ছেগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন’ এবং এর অঙ্গ সংগঠন ‘অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন স্কুল’। এই স্কুলের মাধ্যমে পশ্চাৎপদ ভাগ্যহীন শিশুদের যাদের পড়াশোনার সামর্থ্য ছিল না, তারা যাতে পড়াশোনার সুযোগ লাভ করে সেই উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবলেন। মা তার আদরের সন্তানের স্বপ্নগুলোকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন। এ প্রেক্ষিতেই অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অবিন্তা কবিরের সেই রচনা থেকেই মা অনুপ্রেরণা পান মেয়ের চিন্তা-ভাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে। সে অনুযায়ী তিনি স্কুলে অসচ্ছল অসহায় ছাত্রীদের জন্যে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ছাত্রীদের পরিবারের আয় ১৫০ ইউএস ডলারেরও কম। যা দিয়ে তাদের আহার ও থাকার ব্যবস্থার সঙ্কুলানই কষ্টকর সেখানে লেখাপড়ার খরচ যোগাবে কোথা থেকে? বর্তমানে এই স্কুলে ৯০ জনের মতো ছাত্রী রয়েছে। কিন্ডারগার্টেন থেকে গ্রেড-৪ পর্যন্ত এসব ছাত্রীর সকালে নাস্তা, দুপুরে আহার দেয়া হয়। প্রতি মাসে একজন চিকিৎসক এসব শিশু ও তাদের মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
প্রতিষ্ঠানে বই-পুস্তকের পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বয়স অনুযায়ী জীবন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়। করোনা মহামারী সময়েও তাদের শিক্ষাদানে কোনো বিরতি দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখেই তাদের পাঠ দান করা হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে স্কুলটিকে উচ্চ শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে মূল শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা। তাদের আত্মপ্রত্যয় বৃদ্ধিতে ক্লাস নেয়া, তাদের মানসিক সহায়তা প্রদান এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করা।

অবিন্তা কবির তার পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যে একটি এনজিও স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি বিশেষত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মেয়ে শিশুদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন ২০১৮ সালে ‘ঝঢ়ড়হংড়ৎ ধ এরৎষ চৎড়মৎধস’ চালু করে। এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশন এই স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুশিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন-এর অঙ্গ সংগঠন ‘Sponsor a Girl Program’-এর পাশাপাশি অবিন্তা কবিরের দেখা স্বপ্নগুলো সামনে রেখে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে, যা অদূর ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এ সমাজে সুন্দর দৃষ্টান্ত বাস্তবায়নে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button