প্রতিবেদন

ইউএসটিআর প্রতিনিধি-বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক সেক্টরে আমূল পরিবর্তন এনেছে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলো আধুনিক ও কর্মবান্ধব করা হয়েছে। ফায়ার ও বিল্ডিং সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন শ্রমিকরা নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ^মানের পণ্য উৎপাদন করতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার ও উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে একের পর এক গ্রীন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে তৈরি পোশাকের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় ক্রেতাগোষ্ঠী পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানি বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিস কক্ষে ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট ইউএসটিআর মিসেস জেবা রিয়াজউদ্দিন, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইয়াল আর. মিলার (ঊধৎষ জ. গরষষবৎ) সহ টিকফা মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারী ১২ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দল এর সাথে মত বিনিময়ের সময় এ আহবান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত স্থান। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ মার্কিন বিনিয়োগ আশা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার খুবই আন্তরিক। অতি সহজেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য করার সুযোগ এসেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা) কাউন্সিলের ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উল্লিখিত টিকফা সভার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এটি মধ্য মেয়াদি পর্যালোচনা সভা। এ সভায় বাইলেটারেল ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট, ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস, ফেয়ার প্রাইজ, টেরিফ এবং নন-টেরিফ বেরিয়ার, ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস, টেকনোলজি ট্রান্সফার, ডিজিটাল ইকোনমি, ট্রেড ফেসিলিটেশন, রিজিওনাল কানেকটিভিটি, ট্রেড রিলেটেড ক্যাপাসিটি বিল্ডিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট ইউএসটিআর মিসেস জেবা রিয়াজউদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সভায় যুক্তরাষ্ট্র হতে আমদানিকৃত তুলার দ্বিত্ব ফিউমিগেশন, ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড পলিসি অবহিতকরণ, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয় তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ হতে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে জিএসপি, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশে বিনিয়োগ, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো সভায় তুলে ধরা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button