প্রতিবেদন

প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান ধানমন্ত্রীর

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদেরকেও সেসব সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘কনভেনশন অন এনআরবি ইঞ্জিনিয়ারস’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আজকে আমরা ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সেখানে আমরা আশা করছি যারা বিদেশি তারা তো বিনিয়োগ করবেনই, আমাদের প্রবাসী যারা তারাও বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রবাসীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি।
প্রবাসীদের সুবিধার জন্য তিনটি ব্যাংক করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে একটা জিনিস চিন্তা করতে হবে। গার্মেন্টসে আমরা দ্বিতীয় এটা ঠিক। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, একটা পণ্যের ওপর নির্ভর করে একটা দেশ চলতে পারে না। আমাদের রপ্তানি পণ্যকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।
পাট, সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করা এবং আইসিটি পণ্য রপ্তানি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রবাসীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নটা শুধু শহর বা রাজধানীভিত্তিক নয়। একেবারে গ্রাম পর্যন্ত উন্নয়ন করতে চাই। আপনারা যার যার অঞ্চল কীভাবে উন্নয়ন করতে পারেন সেদিকেও নজর দেবেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দক্ষতা তৈরির জন্য যেসব প্রবাসী বিদেশে থেকে যাচ্ছেন সেটাকে তিনি মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বলে মনে করেন না। বরং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা সবসময় বলা হয় যে, ব্রেইন ড্রেইন। আমি কিন্তু কখনো এ কথাটা মনে করি না। অনেকে বিদেশে থেকে যান, অনাবাসী হয়ে যান। কিন্তু সেখানেও একটা সম্ভাবনা থাকে, যে অভিজ্ঞতা আপনারা সঞ্চয় করেন। যদি বিশ্বকে না দেখি, তাহলে আমরা জানব কি করে যে, বিশ্বের কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে, কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। সুতরাং সেটা জানা এবং জ্ঞান অর্জনের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেই জ্ঞান অর্জনের যে সুযোগটা আপনারা অর্জন করেছেন। আজকে আপনারা বাংলাদেশের উন্নয়নে শরিক হতে চান, কাজে লাগাতে চান- আমি আপনাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, এই উদ্যোগটা আপনারা নিয়েছেন। আমি ব্রেইন ড্রেইন বলিনি কখনও। আমি বলেছি বরং সেখানে গিয়ে আরও জ্ঞান অর্জন করা হয়।
বাংলাদেশ ছেড়ে মানুষ যেতে চেয়েছে কেন- তার কারণ ব্যাখ্যায় সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ঘটনা যদি না ঘটত তাহলে হয়তো অনেকে দেশেই থেকে যেতে পারতেন এবং দেশের উন্নয়নে শরিক হতে পারতেন। কিন্তু যে পরিবর্তনটা হয়েছিল সেটা তো দেশের কল্যাণে হয়নি। হয়তো একটা গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কোনো কাজ তারা করেনি। যদি করত তাহলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নত হতো। আর সেটা করেনি বলেই আমরা পিছিয়ে ছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ছয় দফা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন।
দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ সুপরিকল্পিতভাবে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সর্বক্ষেত্রে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি বলে আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতি এবং প্রবৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার কমানো এবং সড়ক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বড় বড় ভৌত অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button