দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্যে একাত্তরে যে তরুণ বই কলম ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন শত্রু নিধনের অস্ত্র, স্বাধীনতার পর তিনি আবার মনোযোগী হন পড়াশোনায়। তিনি ভাবলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রয়োজন শিক্ষিত উদ্যমী মানুষ। এই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় যিনি নিজের সকল কর্মকান্ড বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে লালন করেন তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এইচবিএম ইকবাল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক এই সৈনিক দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম ব্যাংক দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান। তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সুপরিচিত, একজন সাবেক সংসদ সদস্য।
আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়নে ব্যাপক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত এই মানুষটির জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ এপ্রিল, বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলাধীন বাঁশগাড়ি গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম কে এম জিল্লুর রহমান এবং মাতা মরহুমা কানিজ ফাতিমা। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও সুদর্শন এই তরুণ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরে উদ্যমী এই মানুষটি ভাবলেন একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি খুব অল্প মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারবেন, কিন্তু এখন প্রয়োজন দেশ মাতৃকার স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের চেষ্টা করা।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক এই সৈনিকের মতে, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া শুধুমাত্র পতাকা লাভের স্বাধীনতা কোনো জাতির ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারে না। সেই লক্ষ্যেই তিনি ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। ব্যবসায়িক অঙ্গনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি একে একে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্পোদ্যোগের সাথে ব্যাংক, বীমা, লিজিং, ম্যানুফেকচারিং, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম, ট্রেনিং সেন্টার, বিপণন, ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম, এভিয়েশন, মেডিক্যাল সেন্টার, সুপার মার্কেট, হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টসহ নানাবিধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সততা, নিষ্ঠা ও ব্যবসায়িক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন নিজগ্রাম বাঁশগাড়িতে বিশ্বমানের ‘ড. ইকবাল এডুকেশন সিটি’ও আজ বাস্তবায়নের পথে। প্রায় তিনশ’ একর জায়গার মধ্যে বিশাল এই এডুকেশন সিটিতে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, নার্সিং ডিগ্রি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এখানে এক সাথে ৪৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়ার সুযোগ পাবে। ইতোমধ্যে এখানে জেড রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ড. এইচবিএম ইকবাল আজীবন জ্ঞানপিয়াসী। তিনি যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ক্ষেত্রে তার বিশেষ বিষয় হলো ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন গ্রাজুয়েট স্কুল থেকে কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তার বড় সাফল্য প্রিমিয়ার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা। এটি একটি মাল্টি ডাইমেনশনাল কর্পোরেট গ্রæপ। এই গ্রæপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড দেশের বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই ব্যাংকটির মোট শাখার সংখ্যা ১০৯টি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৬০০। ব্যাংকটির মোট অ্যাসেটের পরিমাণ প্রায় ২০০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। তিনি এ ব্যাংকের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এবং অদ্যাবধি এ পদে দায়িত্বে রয়েছেন। একই সাথে তিনি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডেরও চেয়ারম্যান। তিনি দেশের বেসরকারি খাতের প্রথম এয়ারলাইন্স কোম্পানি এরো বেঙ্গল এয়ারলাইন্স-এর উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব।
স্বপ্নদর্শী কর্মবীর ড. এইচ বি এম ইকবাল যেসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সেগুলো হলো প্রিমিয়ার গ্রুপ অব কোম্পানিজ, প্রিমিয়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লি. (হিলটনস স্টার আমেরিকান চেইন হোটেল); প্রিমিয়ার হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লি. (কোট ইয়ার্ড মেরিয়টস ৫ স্টার আমেরিকান চেইন হোটেল), বেঙ্গল টাইগার সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি., প্রিমিয়ার টেকনোলজি অ্যান্ড হোল্ডিংস লি., আটাব সেন্টার লি., বুখারা রেস্টুরেন্ট (প্রা.) লি., দি প্রিমিয়ার টেলি লিংক লি., এয়ার কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল লি., বনানী ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস লি. এবং আইবিসি পাওয়ার লি.।
তিনি রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান। ড. ইকবাল সেন্টার লি., নওরীন ইলেক্ট্রনিক্স লি. এবং বিকন ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল লি.এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি বনানীর দৃষ্টিনন্দন ২৩ তলা কমার্শিয়াল বিল্ডিং ‘ইকবাল সেন্টার’ এবং কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল এর প্রোপ্রাইটর। এছাড়াও তিনি প্রিমিয়ার ফাউন্ডেশন, প্রিমিয়ার ব্যাংক ফাউন্ডেশন এবং জেড রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এইচবিএম ইকবাল সফল উদ্যোক্তা। তিনি একজন সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বেশক’টি সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি বায়রার নির্বাহী সদস্য।
তিনি ভিকারুননিসা নূন ওমেনস ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক চেয়ারম্যান, তেজগাঁও ইউনিভার্সিটি কলেজ ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তিনি ইস্পাহানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, সিদ্ধেশ্বরী ইউনিভার্সিটি কলেজ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, তেজগাঁও ওমেন কলেজসহ বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান।
সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল চিন্তার উন্নয়ন সারথী উদ্যোক্তা ও সমাজ সেবার স্বীকৃতি হিসেবে দেশ ও বিদেশে অসংখ্য পদক ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে ইউরোপ বিজনেস অ্যাসেম্বলি (ইবিএ) ঈধহহবং, ঋৎধহপব কর্তৃক ইউরোপিয়ান কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, ওভারসীজ চাইনিজ এসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ কর্তৃক সম্মাননা সহ বেশ কিছু স্বীকৃতি পেয়েছেন। সমাজসচেতন এই মানুষটি গ্রিন ঢাকা-ক্লিন ঢাকার রূপকার হিসেবে ঢাকাবাসীর মনে ব্যাপক স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।


