একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের এই বিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা করেন, তিনি ব্যাংক ও আর্থিক খাতের উন্নতি এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন
দেশের অনেক উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্ব তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের পর রাজনীতি সংশ্লিষ্ট হলেও এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। এমন কেউ কেউ আছেন যারা কৈশোরেই রাজনীতির মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন। তাদেরই একজন দেশখ্যাত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আ হ ম মুস্তফা কামাল; যিনি লোটাস কামাল নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট-প্রেমী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখে চলেছেন।
দেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের জন্ম ১৫ জুন ১৯৪৭ সালে কুমিল্লায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার পিতা মরহুম হাজী বাবরু মিয়া এবং মা সায়েরা খাতুন। স্কুল জীবন থেকেই অত্যন্ত মেধাবী মুস্তফা কামাল ১৯৭০ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষায় তৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষার মতো কঠিন বিষয়ের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করা থেকেই বোঝা যায় তিনি কত মেধাবী ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বিকম (অনার্স) এবং পরবর্তী বছর একই বিষয়ে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জ্ঞানপিপাসু এই মানুষটি আইনেও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রমী চেতনার অধিকারী। তিনি লক্ষ করলেন, পাকিস্তান স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসীরা শোষিত, নির্যাতিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে তিনি নিজ এলাকায় ব্যাপকভাবে এর পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
একইভাবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে লোটাস কামাল নিজ এলাকায় আন্দোলন-সংগ্রামকে জোরদার এবং নির্বাচনী বিজয়ের লক্ষ্যে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকলেও নিজের জন্য তার তেমন কোনো চাওয়া পাওয়ার বিষয় ছিল না।
এলাকার জনগণের চাপের মুখে তিনি ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একজন হিসাববিজ্ঞানী হিসেবে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি, বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট, প্রাইভেটাইজেশন কমিশন, পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ফিন্যান্স মিনিস্ট্রি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। লোটাস কামাল ২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি ২০০৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলা আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে এমপি হবার পর এই বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মনোনীত হন ২০০৯-২০১৩ মেয়াদের।
এই ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্ব ২০০৯-২০১৩ মেয়াদের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট খেলায় যুগান্তকারী উন্নয়ন সম্ভব হয়। তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই ২০১১ সালে বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয় ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। চমৎকার ও নিরাপদ আয়োজনের জন্য তিনি দেশ-বিদেশের ক্রীড়ামোদীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন।
তিনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি আইসিসি অডিট কমিটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সফল প্রেসিডেন্ট। নেতা হিসেবেও নন্দিত। লোটাস কামাল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ লাভ করেন। তার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় দেশের নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের এই বিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা করেন, তিনি ব্যাংক ও আর্থিক খাতের উন্নতি এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।


