সাদামাটা অর্থে বাজেট হচ্ছে সরকারের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুলিপি। তাত্তি¡কভাবেই এটা হচ্ছে স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে সংসদ কর্তৃক গৃহীত অর্থ আদায় এবং খরচ করার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আইনগত দলিল। এই দলিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারের প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরের কর্মকর্তারা রাজস্ব এবং উন্নয়ন কাজে অর্থ ব্যয় করে থাকেন। প্রতিটি স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারই অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বেঁধে দেওয়া হয়। তা সত্তে¡ও অর্থ খরচের বিষয়টি রহস্যের অন্ধকারে ঢেকে রাখা হয়। বাজেটের অনুলিপি রচিত হয় অত্যন্ত গোপনে এবং সুউচ্চ পরিবেশে। সারা বিশ্বজুড়েই বাজেট প্রণয়নে একটি গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার চাপ থাকে। কিন্তু তা প্রণীত হয় গুটিকয়েক বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং শিল্পপতির স্বার্থে। সেই অর্থে প্রতিটি বাজেটেরই উদ্দেশ্য হচ্ছে ধনীদের আরও ধনী হবার সুযোগ করে দেওয়া। এতে হয়তো কিছু বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়; কিন্তু কর্মহীন মানুষের জন্য তেমন কোনো স্বস্তি সৃষ্টি করে না। বরং বছরের পর বছর ধরে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাড়তেই থাকে। ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে কমতে থাকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়। বাজেট প্রণীত হয় প্রতি বছর একবার। এই জন্য প্রতি বছরই গণমানুষের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে।
বাজেট বক্তৃতা ২০১৯-২০
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটটি সকল মানুষের জন্য। এতে পার্বত্য অঞ্চল যেমন বাদ যায়নি, পূর্ব-পশ্চিমের কেউ বাদও পড়েনি। দেশের কৃষক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, হিজড়া, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সকল পেশার মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট জাতীয় জীবনে বাজেটের ব্যাপকতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এই ক্ষেত্রে সরকরের মূলনীতি হচ্ছে সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা। দেশে আয়কর প্রদানকারী নাগরিকের সংখ্যা ২১-২২ লাখ। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এই সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করা। এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশকে উচ্চতর প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া। এই ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘মূলত প্রত্যক্ষ কর অর্থাৎ আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক এই তিনটি খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হয়ে থাকে। আয়কর ব্যতীত বাকি দুইটি পরোক্ষ কর। সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি শুল্কও পরোক্ষ কর হিসেবে আহরিত হয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের ৫০ শতাংশ আয়কর থেকে আহরণের একটি লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করেছি। ইতোমধ্যে আয়কর খাতে রাজস্ব আদায়ে আমরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। মাত্র এক দশক আগেও এ খাত থেকে এনবিআর-এর মোট রাজস্বের ২০ শতাংশ আদায় করা হতো। বর্তমানে তা ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’ বাজেটের এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, অফিসের দৈনন্দিন কার্যপরিচালনার জিনিসপত্র ক্রয়, মেরামত এবং উন্নয়ন কাজে। অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে মন্ত্রী, এমপিদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা প্রদান বাবদ ব্যয়। এটা পরিষ্কারভাবেই বলা যায়, রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ অর্থই ব্যয় হয়ে থাকে প্রশাসন, সংসদ ও বিচার বিভাগের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক আমলা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ। তাদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। সরকার তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর একটি বিরূপ প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। গত কয়েক বছরে বেড়েছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। ভ্যাটের আওতা বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারে ব্যয় অনেক বেড়েছে। কিন্তু তাদের আয় তেমন বাড়েনি। তবে সরকারের বিবেচনায় দরিদ্র ও অতি দরিদ্র মানুষের হার হ্রাস পেয়েছে। ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা হয়েছে ২১ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ১১ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘হতদরিদ্র দেশ থেকে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীনের মতো দেশসমূহের সাথে একই কাতারে শামিল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি।’
উন্নয়নের প্রয়োজনে মধ্যবিত্ত মানুষকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। সরকার তাদের মনের ব্যথা বোঝেনি। ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় আট গুণ। বাজেটের আকার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ রাজস্ব খাতে ব্যয় বৃদ্ধি।
সরকারি হিসাবে দেশের চার কোটি মানুষ মধ্যম আয়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আয়কর প্রদানকারী লোকের সংখ্যা মাত্র ২১-২২ লাখ। এতেই বুঝা যায়, বিপুলসংখ্যক মধ্যম আয়ের নাগরিক ট্যাক্সনেট-এর আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে ব্যয় করে। তাদের কাছ থেকে সরকার আয়কর আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ভোগ্যপণ্যের উপর ভ্যাট আদায় করতে বাধ্য হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি তৈজসপত্র, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, সান ফ্লাওয়ার অয়েল, সরিষা তেল ইত্যাদি পণ্যের উপর মূূল্য সংযোজন কর আরোপ করা হয়েছে। চিনির উপর রয়েছে ¯েপসিফিক ডিউটি। এতে নি¤œবিত্ত মানুষের সংসার পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে গত তিন বছর ধরেই করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর উৎস কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুবিধাভোগী গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি, যা মধ্যম আয়ের নাগরিকদের প্রায় অর্ধেকের সমান। সঞ্চয়পত্রের সুবিধাভোগীদের মধ্যে অধিকাংশই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বয়স্ক নারী ও পুরুষ, গৃহিণীসহ অন্যান্য পেশার মানুষ; তাদের মধ্যে অনেকেরই সংসারের ব্যয় নির্বাহ হয়ে থাকে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফার অর্থ দিয়ে। এই খাত থেকে সুবিধাভোগীদের মোট আয় বিশ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকারও বেশি। এই আয়ের উপর উৎস কর পাঁচ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অথচ ধনীদের সারচার্জমুক্ত সম্পদের পরিমাণ সোয়া দুই কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বাজেটে কালো টাকার মালিকদের ফ্ল্যাট কেনার এবং শিল্পে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট পাস
সংসদে নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট উপস্থাপন করা হয় ২০১৯ সালের ১৩ জুন। সংসদে এই বাজেট উপস্থাপনের পর বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৫৫ জন সংসদ সদস্য। তারা মোট ৫১ ঘন্টা ৫২ মিনিট বাজেটের উপর আলোচনা করেন। তাদের আলোচনা শেষ হবার পর কোনো রকম বড় ধরনের সংশোধন ছাড়াই বাজেট পাস হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে বাজেটে মোট ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এই ব্যয় বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপি ১৮.১ শতাংশের সমান।
২০১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মানবসম্পদ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে ২৭.৪ শতাংশ, সার্বিক কৃষি খাতে ২১.৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৩.৮ শতাংশ, যোগাযোগ খাতে ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১১.৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বলতে গেলে সরকারের পক্ষে কোনো প্রকল্পই নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। প্রতি বছরই শেষ প্রান্তে গিয়ে প্রকল্প ব্যয় কাটছাঁট করা হয়। তা টেনে নেওয়া হয় পরবর্তী বছরে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয় দুটিই বৃদ্ধি পায়। এর অন্যতম কারণ জনশক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব। এই সমস্যা দূর না করে প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়লেও কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। বাজেট ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাবও পড়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে।
বাজেট ঘাটতি
২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি জিডিপির ৫.০ শতাংশ। জিডিপির হিসাবে বাজেট ঘাটতি বাড়েনি। তবে টাকার অঙ্কে ঘাটতি বেড়েছে। ঘাটতি পূরণের উৎস রয়েছে দুইটি- বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উৎস। অর্থমন্ত্রী প্রাপ্তির সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা সংগৃহীত হবে সঞ্চয়পত্র থেকে এবং ব্যাংক-বহিভর্‚ত খাত থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব সংগ্রহের প্রচেষ্টা
সরকার সমসময়ই উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এতে এর ফলে জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু উচ্চ প্রবৃদ্ধির খেসারত দিয়েছে সাধারণ মানুষ, মূল্য সংযোজনের বোঝা চেপেছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। অন্যদিকে কালোটাকার পাহাড় গড়েছে এক শ্রেণির মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকেই দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। তারা সেখানেই নির্মাণ করেছে নিজেদের দ্বিতীয় নিবাস। অন্যদিকে এক শ্রেণীর গরিব মানুষ বিদেশে গিয়ে দেশের জন্য উপার্জন করেছে বৈদেশিক মুদ্রা। ২০০৫-০৬ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৪.৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ২০১৮ সালের শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ের মধ্যে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষক এবং শ্রমিকদেরও ব্যাপক অবদান রয়েছে। ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রথম শিকারই তারা। জাতীয় বাজেট বরাদ্দের সময় তাদের কথা খুব কমই মনে রাখা হয়।
সরকার দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শিল্পপতি, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি যে সুদৃষ্টি রেখেছে, গরিব মানুষের প্রতি তা রাখেনি।
ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘এই বাজেট হচ্ছে ব্যবসাবান্ধব বাজেট’। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অতীতে তাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পায়নি সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে। এই জন্য সরকারকে বাজেটের সংশোধন করতে হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সম্পূরক বাজেটে তা কমিয়ে করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। এমনকি বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের প্রাক্কলন সরকারকে হ্রাস করতে হয়েছে।
আমাদের রাজস্ব আহরণের হার জিডিপির তুলনায় অন্যান্য দেশের চেয়ে কম। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদের মাধ্যমে জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছেন এই হার বর্তমানে ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪ শতাংশে উন্নীত করার। আমাদের একটাই অনুরোধ, এর আঁচড় যেন গরিব লোকের গায়ে না লাগে।


