সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম
এ দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের যে ক’টি শিল্প গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করে চলেছে ‘ফারিহা গ্রুপ’ তাদের মধ্যে অন্যতম। ফারিহা গ্রুপ- শিল্প সাম্রাজ্যের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিভাবান, দক্ষ শিল্পোদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুনীর হোসেন। তাদের এই ব্যবসা পারিবারিক হলেও মোহাম্মদ মুনীর হোসেন তার শ্রম ও নিষ্ঠা এবং অধ্যবসায় দ্বারা পৈতৃক ব্যবসাকে বিশাল আকারে পরিণত করেছেন, গড়ে তুলেছেন এক বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য।
কর্মোদ্যমী এই শিল্পোদ্যোক্তার জন্ম ১৯৬২ সালের ৭ মে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী তারাবো শিল্প নগরীর নয়াপাড়ার এক বিখ্যাত শিল্প পরিবারে। তার পিতা আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ দেশখ্যাত ‘নূর সিল্ক শাড়ি’ ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোক্তা। তার পূর্ব পুরুষরা এক সময় ইতিহাস খ্যাত ‘মসলিন’ শাড়ি শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের হাত দিয়েই তৈরি হতো বিশ্ব নন্দিত মসলিন।

স্বাভাবিকভাবে, পারিবারিক কারণে ছাত্রজীবনেই মোহাম্মদ মুনীর হোসেন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন। কিন্তু তার পিতা সবসময়েই বলতেন, আগে পড়াশোনা- তারপর ব্যবসা। ফলে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে হয় মুনীরকে। তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা শেষে ব্যবসায় পুরোপুরি মনোযোগ দেন। প্রথমে পিতার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি নিজেই একের পর এক শিল্প ব্যবসার উদ্যোগ নিতে থাকেন, গড়ে তোলেন বেশ ক’টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। গড়ে ওঠে ‘ফারিহা শিল্প সাম্রাজ্য’।
ফারিহা গ্রুপভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ফারিহা স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ফাহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ফারিহা হোমস অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড, কেয়ার ব্যাংকস প্রোপার্টিস লিমিটেড, ফোর স্টার জেনারেল ট্রেডিং (এএলসি) ইউএই, ফরচুন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, ফাহিম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এবং ফারিহা জামদানি লিমিটেড। মুনীর হোসেন সকল প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও উদ্যোক্তা। তিনি দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য। তিনি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’ এর ভাইস চেয়ারম্যান। এই উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব মনে করেন, এ দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা সরকারের একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে দেশের ধনবান ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসা উচিত। তারা কয়েকজন মিলে ঢাকার ওয়ারিতে ‘ওয়ারি গোল্ডেন হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আধুনিক চিকিৎসা ও মানোন্নত সেবার দ্বারা এই হাসপাতাল ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। দূরদর্শী ও বিচক্ষণ শিল্পোদ্যোক্তা মুনীর হোসেনের মতে, পৃথিবীতে অন্নের পর বস্ত্রই হচ্ছে মানব জীবনের অন্যতম উপাদান। বস্ত্র হচ্ছে সভ্যতা ও উন্নয়নের প্রতীক। যতদিন পৃথিবী থাকবে, পৃথিবীর মানুষ থাকবে; তত দিন বস্ত্রের চাহিদাও থাকবে। তিনি মনে করেন, যেহেতু প্রাচীনকালেও বাংলাদেশ বস্ত্রে উন্নত ছিল, এদেশের মসলিন বিশ্বের দেশে দেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশের বস্ত্রও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হবে এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আমাদের এ ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। তৈরি করতে হবে উন্নতমানের পোশাক। এই শিল্পোদ্যোক্তার মতে, বর্তমান ব্যাংক সুদের হার যথেষ্ট উচ্চ। একে দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই কমিয়ে আনতে হবে।
মোহাম্মদ মুনীর হোসেন দেশের বিভিন্ন ট্রেড অর্গানাইজেশনের সঙ্গে জড়িত। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সদস্য। তিনি রাজধানীর গুলশান ওয়েল কম্যুনিটি ক্লাব, বিজিএমইএ এবং টিটিএমইএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদের কন্যা নিগার সুলতানার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন। এই সুখী দম্পতি তিন পুত্র ও এক কন্যার গর্বিত জনক-জননী।
খ্যাতিমান শিল্পোদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুনীর হোসেন এলাকার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন।



