বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (ইজও/বিআরআই) আওতায় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি জোরদারের সুযোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেছেন, এ উদ্যোগ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে। কাক্সিক্ষত উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগিদের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগীতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম উপলক্ষে চীন সফররত শিল্পমন্ত্রী ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ উদ্যোগ এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সুফল ভোগের জন্য নীতি সহায়তা ও সম্মিলিত প্রয়াস জোরদারকরণ শীর্ষক থিমেটিক সেশনে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
বেইজিংয়ের চায়না ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের মাল্টিফাংশনাল হলে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) মহাপরিচালক লি ইয়াং-এর সঞ্চালনায় থিমেটিক সেশনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় গণচীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী মুক্ত অর্থনীতির উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় বাণিজ্য স্বার্থ সুরক্ষায় বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ একটি সম্মিলিত প্রয়াস। এ উদ্যোগের সুফল ভোগে বাংলাদেশ এশিয়া অঞ্চল এবং এর বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদারে কাজ করছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দ্রæত শিল্পায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ দেশের জাতীয় শিল্পনীতিতে টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে লিংকেজ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যে কোনো রাষ্ট্রের একক প্রচেষ্টার চেয়ে আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনে অধিক কার্যকর উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শিল্পায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য স¤প্রসারণ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইনোভেশন ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে সম্মিলিত উদ্যোগ দ্রæত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশে ব্যাপক হারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, দ্রুত শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রচুর সম্পদ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে চীন সহায়তার ক্ষেত্র স¤প্রসারণ করতে পারে। চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম উপলক্ষে ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ১২টি থিমেটিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের ১৫০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে মোট ৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেয়। ২৬ এপ্রিল বিশ্বের ১৫০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম এবং উচ্চ পর্যায়ের সভা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। গণচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর উদ্বোধন করেন।
জনতা ব্যাংক লিমিটেড বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর এর আওতাধীন শাখাসমূহের ব্যবস্থাপক সম্মেলন সম্প্রতি বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের সিইও অ্যান্ড এমডি মোঃ আব্দুছ ছালাম আজাদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ব্যাংকের ডিএমডি মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং মোঃ জিকরুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর এর জিএম মোঃ মুরশেদুল কবীরের সভাপতিত্বে প্রধান কার্যালয়ের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিএম মোঃ আব্দুল জব্বার, সংশ্লিষ্ট এরিয়া প্রধান এবং শাখা ব্যবস্থাপকগণ সম্মেলনে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইও অ্যান্ড এমডি ২০১৯ সালের লক্ষমাত্রা অর্জনসহ ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কর্মকৌশল নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে সকলকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।


