প্রতিবেদন

যতদিন ভাল লাগবে ততদিন লিখতে থাকব

প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

আনোয়ার হোসেন স্বনামখ্যাত কবি ও কথা- সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রকৌশলী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা তথা কবিতা ও গল্প লেখার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় ও মননের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। আনোয়ার হোসেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে, সব সময় স্বপ্ন দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, বাংলাদেশ একদিন জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা হবে।
প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ১ মে, ১৯৬৬ সালে জামালপুর জেলার রশিদপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মরহুম ময়েন উদ্দিন এবং মা মরহুম হাজেরা খাতুন। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল প্রকৌশলী হবার। সেই কারণে পড়াশোনা করেছেন প্রকৌশল বিষয়ে। ভর্তি হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে (কুয়েট)। তিনি এখান থেকে সাফল্যের সঙ্গে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার বিষয় প্রকৌশল হলেও শব্দের সাথে শব্দ সাজিয়ে গড়ে তুলেছেন বাক্যের ইমারত। ছেলেবেলা থেকেই তিনি লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগী। তার লেখা কবিতা দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক যেমনÑ দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, দৈনিক এশিয়ার বাণী, দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন, দৈনিক ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে কর্মরত। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।
স্ত্রী খন্দকার কামরুন নাহার, পুত্র সাকিব আনোয়ার (রিদম) এবং কন্যা অহনা তাবাসসুম (রাইমা)-কে নিয়ে সাজানো সংসার। ছোটকাল থেকেই কবিতা লিখছেন আনোয়ার হোসেন। কবিতা যেন তার প্রাণ স্পন্দন। প্রাত্যহিক জীবনের সকল কাজের মাঝেও তিনি মনের মধ্য গগনে কবিতাকে রাখেন সদীপ্ত। সময় সুযোগ পেলে তিনি বসে পড়েন কবিতা নিয়ে। ২০১৮ সালে অন্যধারা পাবলিকেশন্স থেকে প্রথম প্রকাশ হয় আনোয়ার হোসেন এর সাড়া জাগানো কবিতার বই ‘আমার আকাশ তুমি’। প্রথম কবিতার বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সকলের অভিনন্দনে সিক্ত হন আনোয়ার হোসেন।
প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি জানতে চাইলে প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি এমন অভিভ‚ত হয়েছিলাম যে- আমার প্রথম সন্তান জন্মের পর যে অনুভূতি ছিল সে রকম। বাংলা সাহিত্যের অনন্য সাগরে যেন একবিন্দু অংশ হিসেবে আমার লেখা যোগ হয়েছে। ২০১৯ এর অমর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে আনোয়ার হোসেন এর কবিতার বই ‘মিলেছি কাব্যের মোহনায়’। এবারও তিনি পাঠকের ভালোবাসায় সিক্ত হন। ইতোমধ্যে লেখক ও সাহিত্য-প্রেমী মানুষের মাঝে সমাদৃত হন লেখক আনোয়ার হোসেন। কবিতার বইটির নাম আকর্ষণীয় হওয়ায় কবি ও অনুরাগী পাঠকরা আগ্রহভরে বইটি লুফে নেয়। তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের কবিতা ও তার অনুভূতি নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন।
এটিএন বাংলাসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আনোয়ার হোসেনের সাক্ষাৎকার প্রচার হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো- আনোয়ার হোসেন এর দুটি বইই একুশের বই মেলায় প্রকাশিত হয় যা লেখক হিসেবেও তার জীবনে বড় প্রাপ্তি। প্রতিটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সময় বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। আনোয়ার হোসেন এর বইটি প্রকাশিত হয়েছে অন্যধারা পাবলিকেশন্স থেকে। আনোয়ার হোসেনকে প্রশ্ন করা হয় আপনি কবিতা কেন লিখেন? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কবিতা লিখি মনের আনন্দে, মনের একান্ত অনুভূতি থেকে। মনের কল্পনার রহস্যের রংধনু হলো কবিতা। মানুষের যদিও জীবনের বাইরে ব্যক্তির ভেতর যে মনটা বিরাজ করে তার অবয়ব হলো কবিতা। যে কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত কবিতা লিখেছেন- সেই পর্বত পথের পথ ধরেই আমি কবিতা লিখি।
কবিতার মাধ্যমে সমাজকে চিত্রায়িত করা যায় কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, কবিতা মানুষকে শুধু বর্তমানে রাখে না অতীতের ভুবনেও নিয়ে যায়। আবার ভবিষ্যতের দূরবর্তী আলোক পথও দেখায়। মানুষকে তার প্রচলিত চিন্তা-চেতনার বাইরে সমাজ-সংসার, মানবতা, প্রেম-বিরহে নতুন করে ভাবায়। মানুষকে অজানা এক জগতের মায়ামমতায় আচ্ছন্ন করে ফেলে। যে কোনো অন্ধকারে শক্তি অর্জনের জন্য প্রয়োজন কবিতার আলো। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা কেমন লেগেছে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, একুশের গ্রন্থমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। ক্রমেই মেলার পরিসর বাড়ছে। বাড়ছে নতুন লেখকদের বই। একুশে বই মেলা যখন আসে তখন আমরা যারা লেখক আমাদের মাঝে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করে। সারা বছর যারা কবিতা লিখি আমাদের বেশির ভাগ বই প্রকাশিত হয় একুশের বই মেলায়। মেলা প্রাঙ্গণে দেখা হয় দেশের নবীন ও প্রবীণ সব বয়সের লেখকদের সাথে। আর আছে পাঠকের সরাসরি অনুভূতি লাভের এক অকৃত্রিম সুযোগ যা আমাদের আন্দোলিত করে। আনোয়ার হোসেনকে প্রশ্ন করা হয় আপনিতো ব্যস্ত প্রকৌশলী লেখালেখির সময় কীভাবে বের করেন? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের খুব অভাব; এর মধ্যে থেকে সময় বের করে নেই। বিভিন্ন ট্যুরে যাই, ওই সময় অবসর যেটুকু সময় পাই তখন লিখি। লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী বই মেলায় কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে আমার দেখা ছোট বেলা থেকে বর্তমান সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে একটি উপন্যাস লিখবো। আর যতদিন ভাল লাগবে ততদিন লিখতে থাকব।
প্রতিটি লেখক তার প্রথম বই খুব আবেগের সাথে প্রকাশ করেন যে কারণে তার বইও উৎসর্গ করেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ মানুষকে। প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন তার প্রথম কবিতার বই ‘আমার আকাশ তুমি’ উৎসর্গ করেছেন তার বাবা ময়েন উদ্দিন ও মা হাজেরা খাতুনকে। সন্তান হিসেবে বাবা-মা’র প্রতি প্রথম বই উৎসর্গ করা সৌভাগ্যবান লেখকদের মধ্যে তিনি একজন। কেন বাবা-মা’র নামে বই উৎসর্গ করলেন জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা এ নশ্বর পৃথিবীতে নেই, আছেন আমার সমস্ত সত্ত¡া জুড়ে, বেঁচে আছেন হৃদয়ের গহীনে, আমার সকল আবেগ ও অনুভ‚তিতে; আমার সকল কাজের প্রেরণা হিসেবে আমার দ্বিতীয় বই ‘মিলেছি কাব্যের মোহনায়’ উৎসর্গ করেছি আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস সহধর্মিণী খন্দকার কামরুন নাহারকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button