সাক্ষাৎকার

ডিবিএল গ্রুপ শিল্পোন্নয়নে অনবদ্য ভ‚মিকা রেখে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে

এম এ জব্বার ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডিবিএল গ্রুপ

দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সরকারকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। শক্তিশালী পুঁজিবাজার উদ্যোক্তাদের অর্থসংগ্রহে সহায়ক। তাহলে আর অধিক সুদ দিয়ে ব্যাংকের পেছনে দৌড়াতে হতো না

এদেশে এমন অনেক শিল্প ব্যক্তিত্ব আছেন, যারা শিল্পোন্নয়নে অনবদ্য ভ‚মিকা রেখে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তাদের মধ্যে দেশখ্যাত শিল্পোদ্যোক্তা এম এ জব্বার অন্যতম। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প সাম্রাজ্যের একটি ‘ডিবিএল গ্রুিপ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বেসরকারি খাতের যে ক’টি শিল্প গ্রæপ নিজেদের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড দিয়ে দেশের অর্থনীতিসহ সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে ডিবিএল গ্রুপ তাদেরই একটি। সময়ের মূল্যায়নে ডিবিএল গ্রæপ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনেও ব্যাপক সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
দারুণ আত্মপ্রত্যয়ী, মেধাবী, দূরদর্শী এবং নিরলস কর্মোদ্যোগী শিল্প ব্যক্তিত্ব এম এ জব্বার ডিবিএল শিল্প সাম্রাজ্যকে তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, পারদর্শিতা, ভিশন, মিশন সবকিছুতেই ব্যতিক্রমী স্বকীয় ধারা সৃষ্টির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে এই শিল্প গ্রæপে কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। ২০১৬ সালে এই শিল্পগ্রুপের টার্নওভার ছিল ৩৬৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার। স্মার্ট, স্বপ্নদর্শী, বিচক্ষণ ও উদ্যমী ব্যক্তিত্ব এম এ জব্বারের সুদৃঢ় নেতৃত্বে এই গ্রুপ ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ার্ল্ড টেক্সটাইল অ্যাওয়ার্ড স্পিনার অব দ্য ইয়ার, ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল ফার্ম অব দ্য ইয়ার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু দূষণ প্রতিরোধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘এইচএসবিসি ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড’ এবং রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’ অন্যতম।


শিল্প জগতের অধ্যবসায়ী শিল্পাদ্যোক্তা এম এ জব্বারের আন্তরিক উদ্যোগেই ডিবিএল গ্রæপ অত্যাধুনিক ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে যা হবে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ শিল্প কারখানা। ডিবিএল গ্রুপ শুধু নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরই নয়, শিল্প খাতের উন্নয়নেও ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।
ডিবিএল গ্রুপ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ জব্বার আধুনিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, শ্রমিকরাই হচ্ছেন শিল্প প্রতিষ্ঠনের প্রাণ। আর এই উপলব্ধি থেকেই এ গ্রæপের সকল শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের মানসম্মত জীবন যাপনের নানা সুবিধাসহ উন্নত ধরনের চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়।
আমেরিকা থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিধারী এম এ জব্বার বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নের ব্যাপক উপাদান বিদ্যমান। সেই সাথে যদি অবকাঠামোগত সুবিধাদি যেমন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় তবে ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে।
উচ্চশিক্ষিত এম এ জব্বার একজন দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার এক ভাই দুলাল শহীদ হয়েছেন। সে অর্থে তাদের পরিবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এই পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে এম এ জব্বার বরাবরই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবেন, একটি উন্নত দেশের কথা ভাবেন যে দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তার ভাই জীবন দিয়েছেন। এ জন্যেই তিনি প্রতি মুহূর্তে মনে করেন, অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের মানচিত্র ও পতাকার জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনেই ডিবিএল গ্রুপ অবিরাম কাজ করে চলেছে। এ দেশ অর্থনৈতিকভাবে যত সমৃদ্ধ হবে ততই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। দেশখ্যাত শিল্প ব্যক্তিত্ব এম এ জব্বারের মতে, বর্তমান বিশ্ব হচ্ছে প্রতিযোগিতার বিশ্ব। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন মানসম্মত পণ্য। প্রয়োজন শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করা, তাদের নিরাপদ রাখা। এ লক্ষ্যে ডিবিএল-এর সকল প্রতিষ্ঠানেই শ্রমিকদের জন্যে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের পাশাপাশি ‘ইটিপি’র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ডিবিএল গ্রæপের পণ্য এখন গ্লোবালি সমাদৃত। এর ফলে দেশের ভাবমূর্তিও সমুন্নত হচ্ছে। বিশ্বের উন্নত দেশের লোকেরাও এখন এদেশের উন্নত মান বস্ত্র পণ্যের ভ‚য়সী প্রশংসা করে। এম এ জব্বার দেশের বর্তমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার পেছনে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও কৃষক সমাজের অবদানকে বড় করে দেখেন। বর্তমানে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার গৌরবে তারা বড় অংশীদার। তিনি আশা করেন, এভাবে যদি উন্নয়নকে গতিশীল করা যায় তবে ২০২১ সালের মধ্যেই এ দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, এ জন্য ব্যাংকের সেবার মান বাড়াতে হবে এবং ব্যাংক সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ব্যাংক সুদ হার ৩%-৪% এর বেশি নয়। তার মতে, দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সরকারকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি মনে করেন, শক্তিশালী পুঁজিবাজার উদ্যোক্তাদের অর্থসংগ্রহে সহায়ক। তাহলে আর অধিক সুদ দিয়ে ব্যাংকের পেছনে দৌড়াতে হতো না।
উদ্যমী উদ্যোক্তা এম এ জব্বার মনে করেন, বাংলাদেশ একটি অমিত সম্ভাবনার দেশ। ইতোমধ্যেই এ দেশের মাথাপিছু আয় সাড়ে চৌদ্দশ ডলার ছাড়িয়েছে। সঠিক পথ ধরে এগোতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে মাথাপিছু আয় চৌদ্দ হাজার ইউএস ডলারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিন দিন স্ফীত হচ্ছে, বর্তমানে তা ৩২ বিলিয়ন ইউএস ডলার ছাড়িয়েছে, এটা আশাব্যঞ্জক চিত্র। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও আমাদের উন্নয়ন ঘটছে।৩
এনামুল হক এনাম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button