বোরহান উদ্দিন
বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ মোতালেব হোসেনের জন্ম ১৯৬১ সালের ৭ জানুয়ারি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জগন্নাথ কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে এম কম পাস করেন ১৯৮৩ সালে। ব্যাংকিং জগতে রয়েছে তার ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছেন। যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশিবিরে। ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব জনাব মোতালেব হোসেন যে সব ব্যাংকে চাকরি করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- আরব বাংলাদেশ ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। বর্তমানে তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ব্যাংকিং সেক্টরে সুনাম অর্জন করেছেন প্রশাসনিক দক্ষতা, লিডিং করপোরেট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচিতি এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যক্তিগত সাফল্যের সুবাদে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে তার রয়েছে ব্যাপক ধারণা। তিনি মানিলন্ডারিং সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা এবং বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ শিবিরে তা উপস্থাপন করেছেন। এই জন্য শুভার্থীদের কাছ থেকে অর্জন করেছেন প্রশংসা।
ব্যবসা সফল ব্যাংকার মোঃ মোতালেব হোসেন ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, কতর্বনিষ্ঠ ও বিনয়ী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি মানিলন্ডারিং সম্পর্কে বলেন, মানিলন্ডারিং হচ্ছে অত্যন্ত প্রাচীন একটি বিষয়। রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি অর্থনৈতিক বন্ধনে বাধা। প্রতিটি অর্থনৈতিক সমাজেই সাদা ও কালো টাকার প্রবাহ রয়েছে। যে সমাজে কালো টাকা রয়েছে, সেখানে মানিলন্ডারিংও রয়েছে। চার শত বছর আগেও চীনের ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে সম্পদ। তারাই মুদ্রা পাচারের জন্য ব্যবহার করেছে সিল্ক রুট। কিন্তু বিশ শতক থেকেই মুদ্রা ও সম্পদ পাচারের প্রতিশব্দ হিসেবে মানিলন্ডারিং পরিভাষা শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে।
১৯২০ সালের দিকে ইতালির ব্যবসায়ী আল কাপনে এলকোহল ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আড়াল করার জন্য শুরু করেন Laundry ব্যবসা। তা থেকেই গৃহীত হয়েছে মানিলন্ডারিং শব্দ। এর অর্থ মুদ্রা পাচার। বিশ্ব অর্থনীতিতে কালো টাকা একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে। ১৯৭৩ সালে ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির সময় মানিলন্ডারিং শব্দটি গণমাধ্যমে উঠে আসে এবং তা ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং আইন খুব বেশি পুরোনো নয়। ১৯৮৬ সালে আমেরিকা প্রথম দেশ হিসেবে মানিলন্ডারিং কন্ট্রোল ল’ পাস করে।
মানিলন্ডারিং
মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী গড়ে তোলে কালো টাকার পাহাড়। সেই টাকা জনগণের কোনো কাজে আসে না। বরং কালো টাকার মালিকরা নিজেদের জড়িয়ে ফেলে অবৈধ ব্যবসায়। তারা জড়িত হয়ে পড়ে মাদক পাচারে, অস্ত্র ব্যবসায় কিংবা মানব পাচারে। এই ধরনের ব্যবসা সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক পাচারকারীরা সামান্য অর্থের লোভে মানুষ হত্যা করতেও কুণ্ঠিত হয় না। মানিলন্ডারিং ইস্যু বাংলাদেশের একক বিষয় নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। অনেক বিশেষজ্ঞেরই ধারণা, সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের মূলেও রয়েছে মানিলন্ডারিং। এই সম্পর্কে মেধাবী ব্যাংকার এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ মোতালেব হোসেন বলেন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘই সর্বপ্রথম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এটা প্রতিটি দেশের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একক কোনো দেশের পক্ষে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এই জন্যে প্রয়োজন বিভিন্ন দেশের মধ্যে আন্ত:যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিনি বলেন, মাদক পাচার এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে গৃহীত হয়েছে ভিয়েনা কনভেনশন। এই কনভেনশন কার্যকর হয়েছে ১৯৯০ সালের ১১ নভেম্বর। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন দমনের জন্য কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল সম্মেলনে চুক্তি স্বাক্ষর করে ১৩২টি দেশ এবং চুক্তি অনুমোদন করে ১১২টি দেশ। বাংলাদেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ২০০৫ সালের ১৫ আগস্ট। এরপর থেকেই মানিলন্ডারিং-এর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার শীর্ষে উঠেছে। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই মানিলন্ডারিং আইনের প্রয়োগ করছে। ২০০২ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পাস করেছে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০২। এরপর জাতীয় সংসদে পাস করেছে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯।
বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ মোতালেব হোসেন বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিংয়ের স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ঞৎধফব ইধংবফ গড়হবু লন্ডারিং হচ্ছে বৈধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ব্যবসা করা। এর মাধ্যমে বৈধ পণ্যের পরিবর্তে অবৈধ পণ্য আমদানি কিংবা রফতানি করা। অবৈধ পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র কিংবা পারমাণবিক বর্জ্য। এই ধরনের আমদানি-রফতানি প্রায় সব দেশেই নিষিদ্ধ। তাছাড়া অন্যান্য পণ্য রয়েছে, যেমন সোনা। এসব পণ্য আমদানি কিংবা রফতানির সময় ভুয়া তথ্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এছাড়া রয়েছে Under Invoicing I Over Invoicing। তিনি বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহৃত হয় নানা রকম অপরাধমূলক কাজে। প্রায় দেশেই রয়েছে অবৈধ অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্যের বাজার। অপরাধীদের প্রধান লক্ষ হচ্ছে তরুণ সমাজ। অস্ত্র কিংবা মাদক দ্রব্য সেবনের মোহে পড়ে তরুণ সমাজ দিশেহারা হয়ে পড়ে অবৈধ ব্যবসা এবং খুন খারাবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। অপরিণামদর্শী কাজের জন্য তারা মারাও যায়। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো এই ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। কিন্তু তাদের পক্ষে মানিলন্ডারিং বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। কাজেই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। এই ব্যাপারে সরকারেরও কড়া দৃষ্টি রয়েছে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক পরিচালনা খুবই কঠিন কাজ এবং এর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও জটিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের মূল ঝুঁকি হিসেবে ছয়টি ঝুঁকিকে চিহ্নিত করেছে। যথা ১. ঋণ ঝুঁকি; ২. সম্পদ ও দায় ঝুঁকি; ৩. বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি; ৪. মানিলন্ডারিং ঝুঁকি; ৫. অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ঝুঁকি; ৬. তথ্য প্রযুক্তি ঝুঁকি। বিভিন্ন ব্যাংক চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর শিকার হয়েছে কোনো না কোনো সময়। বিশেষ করে ঋণ দানের ক্ষেত্রে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের ঝুঁকি কোনো না কোনোভাবে সামাল দিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করে খেলাপি ঋণের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। কিন্তু তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই কারণে সম্পদের দায়-দেনা নিয়ে রয়েছে বিরাট জটিলতা। এই সম্পর্কে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোতালেব হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে দক্ষতা আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালু করেছে। ব্যাংকগুলো তা কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক তাও তদারকি করছে। ব্যাংকগুলো নতুন ফরমেট অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নিয়মিতভাবে তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করছে। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরপরও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত রয়েছে। সমস্যাটি অনেক পুরোনো। তাই জটিল সমস্যার সমাধানে সময় বেশি লাগবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ হ্রাস করার জন্য ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক স্থাপন করেছে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)। ঋণ গ্রহীতা এবং জামিনদারদের নিয়ে গড়ে উঠেছে সিআইবি ডাটা বেইস। যে সব ঋণগ্রহীতার ঋণের স্থিতি পঞ্চাশ টাকা বা তার অধিক এবং শ্রেণিকৃত; খেলাপি ঋণের পরিমাণ দশ হাজার টাকা বা তার অধিক- সে সব ঋণগ্রহীতাকে ডাটা বেইসের আওতায় আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের শেষের দিকে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়ে মোট ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা হয়েছে ১৩,১৭,৬৬৪ জন। তিনি আরও বলেন, দেশে ঋণখেলাপি, ঋণগ্রহীতা এবং খেলাপি ঋণের সংখ্যা ও পরিমাণ বেড়েছে। এটা অবশ্যই আশঙ্কার বিষয়। এর মধ্যেও আশার বিষয় এই যে, দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা বেড়েছে। রফতানি বাজার বড় হয়েছে। দেশের ক্রেতাদের সামর্থ্য বেড়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৭.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মধ্যে ৫.২ শতাংশ এসেছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা থেকে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে ব্যক্তিখাতের ভোগ ব্যয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও বলেন, পেছনের জটিল সমস্যা সামনের দিকে এনে সেই সমস্যাকে আরও জটিল করে লাভ নেই। আমার বিশ্বাস, ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। ঋণ গ্রহীতারাও বুঝেছে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে পার পাওয়া যাবে না।
গ্রিন ফিন্যান্স
একুশ শতকের পৃথিবী মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। একদিকে পৃথিবীর বিরাট একটি অংশ আবর্জনায় ভরে উঠেছে। অন্যদিকে বায়ুমÐলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গিয়েছে। বেড়ে গিয়েছে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের তাÐব। এতে অগণিত মানুষ মারা গিয়েছে এবং গৃহচ্যুত হয়েছে। পরিবেশের ভয়ঙ্কর রূপ সম্পর্কে বিশ্ববাসী সচেতন। বাংলাদেশ পরিবেশ বিপর্যয়ের মারাত্মক শিকার। কিন্তু এই দেশ উন্নত দেশগুলোর তুলনায় খুব কমই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। উন্নত দেশগুলো মাত্রাতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে বিশ্বকে এই বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তা সত্তে¡ও বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংক চালু করেছে গ্রিন ফিন্যান্স কর্মসূচি।
এ সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ মোতালেব হোসেন বলেন, এই পৃথিবী প্রাকৃতিক চক্রের মধ্যদিয়ে সবসময় গতিশীল। শত শত বছর ধরে পৃথিবীর তাপমাত্রা শিল্প বিপ্লবের আগে একই রকম ছিল। এবার তা ধীরে ধীরে বেড়েছে। ফলে হিমবাহের বরফের আস্তরণ হালকা হয়ে গিয়েছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে গিয়েছে। বেড়েছে কল-কারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। এর ফলে বায়ুমন্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন বেড়ে গিয়েছে। পৃথিবী ক্রমেই উষ্ণতর হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার বেড়ে গিয়েছে। অসংখ্য মানুষ নিহত ও উদ্বাস্ত হয়েছে। এই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সারা পৃথিবীর মানুষ একজোট হয়েছে। তারা স্থাপন করেছে পরিবেশ শোধন কল-কারখানা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসের জন্য প্রণয়ন করেছে বিভিন্ন কর্মসূচি। পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলো পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী কল-কারখানা স্থাপনকে উৎসাহিত করার জন্য চালু করেছে গ্রিন ফিন্যান্স। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। এর ফলে চালু হয়েছে কয়লা, তেলসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতি। ১৯২৪ সালে ফরাসি গণিতজ্ঞ ও পদার্থবিদ জোসেফ ফোরিয়ার আবিষ্কার করেন যে, বায়ুমন্ডলে বিরাজমান বিভিন্ন গ্যাস পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। তার ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছে গ্রিন ব্যাংকিং একটি ইতিবাচক শব্দ।
ভবিষ্যৎ
এদেশের ব্যাংকিং খাত নানা ধরনের প্রতিকূলতা ও প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এই সম্পর্কে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ডিএমডি মোঃ মোতালেব হোসেন বলেন, অর্থনীতিতে বিজনেস সাইকেল বলে একটি কথা আছে। এটাকে মেনে নিয়েই ভালো, মন্দ কিংবা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। বাংলাদেশ সুখী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। Win Gallup International এর ২০১৭ সালের জরিপে দেখা গিয়েছে- সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। গত দশ বছরে ব্যাংকগুলোর আমানত ৭-৮ গুণ বেড়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি, ভবিষ্যতের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে রফতানি আয় ৬০ বিলিয়নে উন্নীত করা। এই জন্য শুধু পোশাক শিল্পের উপর নির্ভর করে এত দূর অগ্রসর হওয়া যাবে না।
পাটজাত দ্রব্য, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, আসবাবপত্রসহ আরও বেশি রফতানিজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে আরও গতি সঞ্চার করতে হবে। ব্যাংকিং খাতকেও ঐতিহ্যবাহী রীতির বাইরে এসে নতুন নতুন সেবার দ্বার উন্মোচন করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে আরও বেশি সৃজনশীল ব্যাংকিং খাতের।৩
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক



