সাক্ষাৎকার

ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন অনস্বীকার্য

মতিউল হাসান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড

বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যাংকার মতিউল হাসানের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মরিচাকান্দি গ্রামে। উপজেলা বাঞ্ছারামপুর। তার পিতার নাম এ. কে. এম মোমিনুল ইসলাম। মায়ের নাম ফাতেমা আক্তার। মতিউল হাসানের জন্ম ১৯৬২ সালের ১ জুন। তিনি ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এসএসসি পাস করেছেন ১৯৭৭ সালে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। মতিউল হাসান পেশাগত জীবনে বহু ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। তিনি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাউথ এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (এমবিএম) ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্যাংকিং ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। কর্মজীবনে আইএফআইসি ব্যাংকের দেশে ও ওভারসিজ শাখা পাকিস্তান-নেপালে বিভিন্ন পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
মতিউল হাসান ২০১৪ সালের ৪ মে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে মার্কেন্টাইল ব্যাংক যোগ দেন। বিনয়ী স্বভাব, কর্মদক্ষতা এবং একান্ত নিষ্ঠার জন্য ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি চিফ রিস্ক অফিসার (ঈজঙ) ও চিফ এন্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (ঈঅগঊখঈঙ)-এর দায়িত্ব পেয়েছেন। মতিউল হাসান ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন সৎ ও কর্মনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে বহু সেমিনার ও কর্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মতিউল হাসান বলেন, আমি কর্মজীবনে বহু বাধার সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু কোনো বাধার মুখে থেমে যাইনি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে সব বাধা অতিক্রম করতে পেরেছি বলেই এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস, শিক্ষা ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটলে জীবনে সাফল্য আসবেই।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যে কোনো ব্যবসাতেই ঝুঁকি রয়েছে। ব্যাংকিং খাত সরাসরি অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বলে ঝুঁকিও বেশি। এ সব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে- ঋণ গ্রহীতার চুক্তি পালনে ব্যর্থতা, সুদ ও বিনিময় হারের ওঠানামা, ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, দক্ষ জনবলের অভাব, অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ, জালিয়াতিসহ আরও নানা রকম ঝুঁকি। এসব ঝুঁকির সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলা করার জন্য ব্যাংকগুলো বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলেছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান এই ব্যাপারে একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের ঋণ শ্রেণিকরণ, সম্পদের মান নির্ধারণ, ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত সতর্কীকরণ, নতুন নতুন ঝুঁকির খাত চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি। প্রতিটি ব্যাংকই ঝুঁকির মাত্রা হ্রাস করার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। ব্যাংকগুলো সকল ঝুঁকিকে সম্ভাব্য পাঁচটি ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই পাঁচটি ঝুঁকি হচ্ছে-
১. অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন ঝুঁকি;
২. বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি;
৩. ঋণ ঝুঁকি;
৪. সম্পদের দায় ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি;
৫. মানিলন্ডারিং ঝুঁকি।
ব্যাংকিংয়ের ভাষায় একে বলে ‘কোর রিস্ক’। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংককে উল্লিখিত ঝুঁকির মাত্রা নির্ণয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আরও ঝুঁকি চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে। এসব নির্দেশ মেনে চলার ব্যাপারে মার্কেন্টাইল ব্যাংক সদা সতর্ক রয়েছে। আমার বিশ্বাস, ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ব্যাংকের দক্ষতা অনেক উপরে। এই জন্যেই এই ব্যাংক বড় ধরনের বিপদে পড়েনি। ফলে ব্যাংকিং জগতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সুনাম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি ঋণ কিংবা অগ্রিম প্রদানের ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকি।
এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত বহু জটিল আর্থিক কর্মকাÐের সমাহার। ব্যাংকের কাজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নয়। তাই ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক। ব্যাংকগুলোকে দেশ-বিদেশের বিধি-বিধান মেনে কাজ করতে হয়। এ ব্যাপারে শৈথিল্য দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিনিময় ঝুঁকি
১৯৯০-এর দশকের আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করত। সে সময় মুদ্রার দু’টি হার প্রকাশ করা হতো। এর একটি ছিল গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেনের হার এবং অন্যটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের হার। ১৯৯৩ সালের দিকে মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মুদ্রা বিনিময় হার কিছুটা শিথিল করা হয় এবং চলতি হিসাবে হস্তান্তরযোগ্য করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে এর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকে। ২০০৩ সালের ৩১ মে মুদ্রা বিনিময় হারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি উঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যাংকার মতিউল হাসান বলেন, মুদ্রার বিনিময় হার কিছুটা বাজারভিত্তিক করায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় ঝুঁকি অবশ্যই বেড়ে যায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল ঝুঁকি হচ্ছে ঋণ ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি ও অপারেশনাল ঝুঁকি।
ট্রেজারি হচ্ছে ব্যাংকের সকল আর্থিক লেনদেন এবং তা থেকে উদ্ভ‚ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের দায়-দেনা এবং তার তারতম্যের ফলে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, তা নিরসনের মূল দায়িত্ব ট্রেজারির। বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর প্রচুর গবেষণা রয়েছে। ঝুঁকির একক কোনো কেন্দ্র নেই এবং টেকসই সমাধানও নেই। কাজেই ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতাই হচ্ছে সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম
এমন একটা সময় ছিল যখন গ্রামে ব্যাংকের শাখা খোলার কথা ভাবা হয়নি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম গ্রাম পর্যন্ত স¤প্রসারিত। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলোর মোট শাখা ছিল ৯,৭২০টি। এর মধ্যে শহর ও গ্রামে শাখার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪,২১৯ ও ৫,৫০১টি। তাই এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ভালো। মানুষ সহজেই সেবা নিতে ব্যাংকের কাছে যায় এবং ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় সেবার মান উন্নত করেছে। এই সম্পর্কে ব্যাংকার মতিউল হাসান বলেন, ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে। যে ব্যাংকের সেবার মান যত উন্নত, সেই ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ তত বেশি। ব্যাংক ও গ্রাহকদের পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর ব্যাংকের ব্যবসা নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই ভালো সেবার একটি উপায় হচ্ছে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা। সৎ ও দক্ষ বিনিয়োগকারীকে ব্যাংক কখনো ফিরিয়ে দেয় না। তিনি আরও বলেন, সুশাসন ছাড়া টেকসই সেবা প্রদান প্রায় অসম্ভব। টেকসই সেবার অর্থই হচ্ছে ব্যাংকের স্টেকহোল্ডার এবং জনস্বার্থকে সুরক্ষা প্রদান। এটা মনে রাখা প্রয়োজন ব্যাংকগুলো বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করলেও শিল্প খাতেই বিনিয়োগ পুঞ্জীভূত। তাই এই খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে অনেক ব্যাংক নানামুখী ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ সব সমস্যা অনেক জটিল আকার ধারণ করেছে। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক সমস্যাগুলোর উপর কড়া দৃষ্টি রেখেছে। আমি বলবো, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো অনেক বেশি সচেতন।

স্থিতিশীলতা
অর্থনৈতিক খাতে ছোট-খাটো অস্থিরতা ছাড়া দেশের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৬ শতাংশ। মূলত ব্যক্তিখাতের ভোগ, বেসরকারি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় কৃষি খাতে গড় প্রবৃদ্ধি কম ছিল। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩-২ শতাংশ, সেবা খাতের গড় প্রবৃদ্ধি ৬.০ শতাংশ। কিন্তু শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় ৯.৬ শতাংশ বেশি। কাজেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে শিল্প খাত। এই সম্পর্কে মতিউল হাসান বলেন, ব্রিটেন কয়লা আবিষ্কারের বহু আগেই উন্নতি করেছে। জাপানে প্রাকৃতিক সম্পদ নেই বললেই চলে। তা সত্তে¡ও দেশটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কম বা বেশি থাকার উপর একটি দেশের উন্নতি নির্ভর করে না। বরং একটি দেশের উন্নতি নির্ভর করে শিল্পের উন্নতির উপর। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ মানেই হচ্ছে শিল্পোন্নত দেশ।
বাংলাদেশের আরও উন্নতির মর্মবস্তু নিহিত রয়েছে আরও বেশি শিল্পের উন্নতির উপর। বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্প খাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি পণ্যজাত শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পাটশিল্পকে আমরা যদি জাগিয়ে তুলতে পারি তবে বাংলাদেশের সোনালি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যেতে পারে। পাটের তন্তু দিয়ে শক্ত সুতো তৈরি করতে পারলে বস্তুশিল্পের বিপ্লব ঘটতে পারে। পাটের তন্তুর সমস্যা হচ্ছে এর তন্তু নরম এবং পানিতে ভিজলে পচে যায়। এই সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান সম্ভব কিনা, তা নিয়ে অনেক আগেই গবেষণা শুরু হয়েছে। নিশ্চয় এই গবেষণার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। পাটের বস্তা ও থলির বড় গুণ হচ্ছে তা পরিবেশবান্ধব। সরকারের প্রচেষ্টায় পাটের বস্তার ব্যবহার অনেক বেড়েছে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ২ জুন। এটি তৃতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংক। শ্রদ্ধা জানাই এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম মোঃ আব্দুল জলিলকে। তাঁর মহান লক্ষ্য ছিল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সেবা দেওয়া। তবে এই সময়ের মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংক শিল্প ও ব্যবসা খাতে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। আমানত ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই হয়েছে প্রবৃদ্ধি। ব্যাংকটির বয়স প্রায় বিশ বছর হলেও তেমন কোনো সমস্যায় পড়েনি। এই সম্পর্কে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, আমি মনে করি ব্যাংকের অবস্থা আগের তুলনায় মজবুত হয়েছে। এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অত্যন্ত সৃজনশীল ও দূরদর্শী। তা ছাড়া ব্যাংকে কর্মরত রয়েছে একদল দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনী। বিশ বছরে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় জমা হয়েছে অনেক অভিজ্ঞতা। মার্কেন্টাইল ব্যাংক তহবিলের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি আমানত পুনর্গঠনের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা বড় কর্পোরেট আমানতের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আমানতকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রকল্পগুলোকে আর্কষণীয় করে তুলেছি। ভবিষ্যতে নিশ্চয় আরও ভালো ফল অর্জন করতে সক্ষম হবো। ২০১৭ সালের শেষে ন্যূনতম মূলধন পর্যাপ্ত ১০ শতাংশের বিপরীতে ১১.৯৩ শতাংশ অর্জন করেছি। অর্থাৎ আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৭ সালের জন্য ১৭ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। পূর্ববর্তী বছরে তা ছিল ১৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক। স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাংক ধনাত্মক আয় অর্জন করেছে। ২০১৭ সালের শেষে শেয়ারপ্রতি আয় ৩.৮৯ টাকা। সবদিক দিয়েই ব্যাংকের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এরপরও আমরা আত্মতুষ্টিতে বসে নেই। ব্যাংকের স্টেকহোল্ডার এবং কর্মকর্তারা গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ক্রান্তিকাল
দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের রক্তক্ষরণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। এগুলোর মূলধনেরও অভাব রয়েছে। দেশজ উৎপাদনের উচ্চ ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সত্তে¡ও সংকটের ঘোর কাটেনি। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট অনেকটাই কম। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু তারল্য সংকট বেশি। এই সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যাংকার মতিউল হাসান বলেন, এদেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলনায় দক্ষ ব্যাংকারের সংখ্যা কম। প্রতিষ্ঠানগুলো একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একে আমি ক্রান্তিকাল বলতে রাজি নই। বরং বলবো, ব্যাংকিং খাতে পুরোনো রেশ এখনো রয়ে গিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে সেই ধকল সহ্য করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই সংকটের মধ্যেও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। ২০১৬ সালে এই ব্যাংক কর- পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে ১,২৬০.০০ মিলিয়ন টাকা। ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,৩০০.০০ মিলিয়ন টাকা। মুনাফার হার ততটা বাড়েনি। কিন্তু তা থমকে যায়নি। ২০১৬ সালে এই ব্যাংকের পরিচালনা দক্ষতার অনুপাত ছিল ৭৮.৭২ শতাংশ।

তথ্য প্রযুক্তি
মার্কেন্টাইল ব্যাংক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে। এই ব্যাংক ‘মাই ক্যাশ’ নামে নিজস্ব মোবাইল ব্যাংক সেবাও চালু করেছে। এই সম্পর্কে জনাব মতিউল হাসান বলেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। সেবার মান বাড়াতে এবং ঝুঁকি কমাতে সবক’টি শাখাকে কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে। আমরা গ্রিন ব্যাংকিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে (চধৎঢ়বৎষবংং ইধহশরহম) কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা যে কোনো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছি। কারণ, ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন অনস্বীকার্য।৩

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button