প্রতিবেদনসম্পাদকীয়

দল যার যার- বাংলাদেশ সবার

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

 

সোহেল রহমান বাদল,

সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ, প্রধান উপদেষ্টা, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ 

 

পৃথিবীতে এমন অনেক মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা নিজেদের কাজের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেন সমাজসেবাকে; ঝাঁপিয়ে পড়েন মানবতার কল্যাণে- তাদেরই একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সোহেল রহমান বাদল। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রহমান বাদল বর্তমানে দলের এই স্টেটের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। 

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি যতোটা উজ্জ্বল তার চেয়েও বেশি আলোচিত সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। ক্যালিফোর্র্নিয়ার বাঙালি কমিউনিটির কাছেই শুধু নন, সেখানকার গোষ্ঠী ও ধর্মভেদে অন্যান্য ভাষাভাষীর কাছেও তিনি এ ব্যাপারে সমান জনপ্রিয়। তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাচ্চু ক্যালিফোর্র্নিয়ার মানুষের মাঝে সমাজসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সোহেল রহমান বাদল আমেরিকার মূলধারার রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত। তিনি সেখানকার ‘বাংলাদেশ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক পার্টি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি নারায়ণগঞ্জ এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (নানা)-এর প্রতিষ্ঠাতা। 

রাজনীতি সচেতন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান সোহেল রহমান বাদল ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত থেকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বাদলকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের পিতা একেএম শামসুজ্জোহা এবং বর্তমান সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি’র পিতা আলী আহাম্মদ চুনকার ডাকে তিনি আরও ক’জন কিশোরকে নিয়ে ট্রাকে চড়ে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশে আসেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তাকে এতোটাই উদ্বেলিত করে যে, তিনি সে বয়স থেকেই দলের মিছিল-সমাবেশে উচ্চকিত হয়েছেন। তার বড় ভাই নুর বাবুল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। 

কিশোর বয়স থেকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে হেঁটে ফেরা সোহেল রহমান বাদলের জন্ম নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক পরিবারে। তার পিতা আমির আলী ছিলেন নারায়ণগঞ্জের ২নং রেলগেট সংলগ্ন মিতালী ওয়ার্কশপ, আনারকলি বিড়ি ফ্যাক্টরি ও খাজা সেমাই কোম্পানির উদ্যোক্তা মালিক। তার মা শাহারা বেগম ‘মুক্তিযোদ্ধাদের মা’ হিসেবেই পরিচিত। তার মামা গিয়াসউদ্দিন বীর প্রতীক (মরহুম) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল। বাদল ছাত্রজীবনে ১৯৭৪ সাল থেকেই বাবার সাথে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ১৯৭৯ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। সৃজনশীল বাদল ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে ডিজাইন আঁকতেন। প্রায় ২৫টির মতো কোল্ড স্টোরেজের ডিজাইন তার হাতেই আঁকা। 

সোহেল রহমান বাদল ১৯৮৯ সালে আমেরিকায় আসেন। শুরুতে লস এঞ্জেলসে Holyday in Hotel-এ কাজ করেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন। চাকরির পাশাপাশি নিজেও ব্যবসার সাথে জড়িত হন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত লেক্সাস ডিলারের ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। বাদল বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। আয়ের জন্য বাড়ি ভাড়াসহ ডলার ডিসকাউন্ট প্রতিষ্ঠান ‘আটলান্টিক’ নামের দুটো শোরুম রয়েছে তার। 

নারায়ণগঞ্জের চৌকস সন্তান সোহেল রহমান বাদল ছোটবেলা থেকেই সৌখিন। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। এক মহল্লা থেকে অন্য মহল্লার বন্ধুদের খোঁজ-খবর নিতেন। নিজে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে বন্ধু, স্বজন এবং সমস্যায় পড়া মানুষদের উপকার করতেন। আমেরিকায় এসেও সেই স্বভাব বদলাতে পারেননি। এখানেও সমাজসেবার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ধর্মীয় বিধান মেনে নিজ হাতে মৃতদেহ কবরস্থ করেছেন- অনেকের লাশ বাংলাদেশে স্বজনের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। 

তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথেও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তার উদ্যোগে ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়ে একাধিকবার কনসার্ট হয়েছে। সাবিনা ইয়াসমিনসহ অনেক শিল্পীকেই তিনি কনসার্টে নিয়ে এসেছেন। তিনি ২০০৫ সালে বাংলা পত্রিকা ‘মতামত’ বের করেন। পত্রিকাটির উদ্যোক্তা পরিচালক তিনি। 

বাংলাদেশ কমিউনিটির অতি প্রিয়জন সোহেল রহমান বাদল ও তার বন্ধু বাচ্চুসহ সমমনারা মিলে এই কমিউনিটির মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকেন। কমিউনিটির কোনো পারিবারিক কলহ নিরসনেরও উদ্যোগ নেন তারা। উপকৃত প্রায় ৫৩টি পরিবার বাদলকে নিজেদের পারিবারিক বন্ধনে জড়িয়ে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনিও বলেন- তার বোনের সংখ্যা ৫৩ জন।

সোহেল রহমান বাদল আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত। তিনি তার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ কার্যক্রমের সাথে দীর্ঘ সময় থেকে জড়িত। ২০০১ সালের ২ মে তার উদ্যোগেই আমেরিকায় ‘লিটল বাংলাদেশ’ স্বীকৃতি পায়। এটি এখন বাংলাদেশকে অনন্য এক উঁচুতে উপস্থাপন করছে। মানুষের কল্যাণের জন্যে নিবেদিত মন-মানসিকতাসম্পন্ন বাদল দীর্ঘদিন যাবত ক্যালিফোর্নিয়ার ‘এডভাইজার কাউন্সিল মেম্বার’। 

মানুষ হিসেবে সোহেল রহমান দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে চিন্তা করেন। তিনি বলেন, দল যার যার- বাংলাদেশ সবার। বাংলাদেশ কমিউনিটির উন্নয়ন সবার। ২০০৭ সালে তার নেতৃত্বেই নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমেরিকায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তার গাড়ির পেছনের ডালায় সবসময় কাফনের কাপড় থাকে। করোনাকালে সকল ভয়-ভীতিকে বিসর্জন দিয়ে তিনি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মৃতদেহ সৎকারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার পুত্র আইভেন আমিরও পিতার মতোই সেবাব্রত বেছে নিয়েছেন। তিনি স্কুল লেভেল শেষ করে এখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছেন। সোহেল রহমান বাদল নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এই জায়গাটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে গ্রহণের মুহূর্তে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, স্বাধীনতার বীর যোদ্ধারা কারো দান-খয়রাত নেয় না। এ-কথা বলে তিনি ১ ডলার মূল্য পরিশোধ করে দেন।

দরদী মনের প্রবাসী সোহেল রহমান বাদল বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান যিনি দেশমাতৃকার শেকড়-ঘনিষ্ঠ আমেরিকায় বাংলাদেশ কমিউনিটি ও বাংলাদেশের উন্নয়নে সব সময় কাজ করছেন, নিয়োজিত রয়েছেন মানবকল্যাণে।

তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পুষ্প একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি এবং তার পুত্র আইভেন আমির সবসময়েই সোহেল রহমান বাদলের সমাজ-সেবামূলক কাজের প্রেরণা যোগান।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button