অর্থনীতিপ্রতিবেদন

আবদুল মুক্তাদির দেশের ওষুধ শিল্প খাতের মেধাবী উদ্যোক্তা

এনামুল হক এনাম

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প খাতকে যারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করেছেন তাদেরই একজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব আবদুল মুক্তাদির। দেশের ওষুধ শিল্প খাতের মেধাবী উদ্যোক্তা আবদুল মুক্তাদির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি:’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। দেশের ওষুধ শিল্প খাত আজ বিশ্বব্যাপী আলোকিত। ইতোমধ্যেই ওষুধ শিল্প নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তৃতীয় বিশ্বের যে দেশটি নানাবিধ সমস্যার শিকার, অভাব অভিযোগে জর্জরিত সে দেশটি ওষুধ শিল্পখাতে এতটাই এগিয়ে গিয়েছে যে, এখন এ দেশের ওষুধ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৫০/৬০টি দেশে সমাদৃত এবং গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। বাংলাদেশের অনেক কোম্পানির ওষুধই এখন রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড অন্যতম। প্রায় ১৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ইনসেপ্টা ইতোমধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। শুধু তাই নয়, দেশের শীর্ষ ৫টি ওষুদ কোম্পানির একটি ইনসেপ্টা। এ কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল মুক্তাদির যেমন স্বপ্নদর্শী তেমনি দক্ষ ও মেধাবী। তিনি শুরু থেকেই ইনসেপ্টাকে একটি বিশ্ব মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার চিন্তা করেছেন এবং বাস্তবে তা করে দেখিয়েছেন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রত্যয় ও দৃঢ়তার সুবাদে; কারণ আবদুল মুক্তাদির বরাবরই অন্যায়, অনিয়মের সাথে আপসহীন ব্যক্তিত্ব। তিনি ওষুধ উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কখনো অনিয়মের সাথে আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও করার ইচ্ছা নেই বলে বরাবরই দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন। তিনি মনে করেন, দেশের ওষুধ শিল্পের বাজার এখন প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের যা ভবিষ্যতে ১০০ বিলিয়নে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশিষ্ট নির্বাহী ব্যক্তিত্ব আবদুল মুক্তাদির-এর সুদৃঢ় পরিচালনায় ইনসেপ্টা লিমিটেড দ্রæত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। সময়ের বিবেচনায় এ কোম্পানির একটি দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল মানুষের নানা অসুখ-বিসুখ নিয়ে গবেষণা করে এবং সে আলোকে ওষুধ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। তারা ভ্যাকসিন উৎপাদনসহ বায়ো-সিমিলার প্রোডাক্টও শুরু করেছে। অত্যন্ত উঁচু মানের হরমোনাল প্রোডাক্টও তাদের কোম্পানিতে উৎপাদিত হচ্ছে। হরমোনাল প্রোডাক্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইনসেপ্টা বিশ্বে বৃহত্তম ফ্যাক্টরি। এর উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ট্যাবলেটেরও অধিক। চীনের বড় ফ্যাক্টরিগুলোতে যেখানে ৫/৬ বিলিয়ন ট্যাবলেটের বেশি উৎপাদন সম্ভব হয় না, সেখানে ইনসেপ্টার এই ব্যাপক উৎপাদন ক্ষমতা দেখে তারাও বিস্ময় প্রকাশ করে। শুধু ভ্যাকসিন, হরমোন এবং বায়োটেকনোলজি ফ্যাসিলিটিজের থেকে ব্যাপক উৎপাদনই নয়, উৎপাদিত ওষুধের মানও বিশ্বমানের। যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে ইনসেপ্টার ফ্যাক্টরি এবং আমেরিকার কোনো ওষুধ শিল্প কারখানা ঘুরে বলতে কষ্ট হবে যে, বাংলাদেশের ফ্যাক্টরিটিও আমেরিকার কিনা! অর্থাৎ বাংলাদেশের ইনসেপ্টা এতো উন্নত যে দুয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা হবে খুবই কঠিন। বিশেষ করে ইনসেপ্টার ভ্যাকসিন ফ্যাক্টরি বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং এতে সন্দেহ করার কিছু নেই। কারণ এই ফ্যাক্টরি নির্মাণে আন্তর্জাতিক মান এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও বিশ্বের সেরা সংগ্রহ।
ইনসেপ্টা লিমিটেড-এর রিসার্চের মান যেমন উন্নত তেমনি ল্যাবরেটরির মানও অত্যন্ত উঁচু। ফলে বিশ্বের উন্নত দেশের ওষুধের সাথেও প্রতিযোগিতায় এ কোম্পানির ওষুধ যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। একই সাথে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট নির্বাহী টেকনোলজিস্টসহ উৎপাদন কর্মীরাও যথেষ্ট দক্ষ। পেশাজীবী হিসেবেও তাদের তুলনা তারা নিজেরাই। ফলে দেশ-বিদেশের চিকিৎসা জগতে ইনসেপ্টার ওষুধ বেশ সমাদৃত। ইনসেপ্টা ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ জেনেরিকস লাঞ্চ করেছে। এতে করে মোট প্রেজেন্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৬৩৯টি। এর মধ্যে ১২৪টি জেনেরিকস বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন।
দেশখ্যাত উদ্যোক্তা ও নির্বাহী ব্যক্তিত্ব আবদুল মুক্তাদির-এর কর্ম নৈপুণ্য এবং দক্ষতায় ইনসেপ্টা বর্তমানে ইউরোপিয়ান দেশগুলোসহ ৪০টি দেশে ওষুধ বাজারজাত করছে। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রতিনিয়তই বিভিন্ন দেশে ইনসেপ্টার ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইনসেপ্টার ওষুধ যুক্তরাজ্যেও রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের অনেক ওষুধ কোম্পানিই নতুন নতুন প্রোডাক্টের ব্যাপারে ইনসেপ্টার সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ করে থাকে। ইনসেপ্টা আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় দেশসমূহে বাজার বৃদ্ধি করে চলেছে। কোনো একটি কোম্পানির ওষুধ যখন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান দেশে বাজার এবং গ্রহণযোগ্যতা পায় তখন বোঝা যায় সেই কোম্পানির ওষুধ কতটা মানসম্মত। পৃথিবীতে অন্যান্য পণ্য আর ওষুধ পণ্য সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ ওষুধে যেমন জীবন বাঁচে তেমনি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্য কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে মানের বিষয়টি জরুরি না হলেও ওষুধের ক্ষেত্রে এটি না দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে গর্ব ও অহংকার যে, এদেশের ওষুধ উন্নত দেশে বাজার পাচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হচ্ছে। দেশের ওষুধ শিল্প খাত নিয়ে বাংলাদেশিরা অবশ্যই গর্বিত; আর এই গর্ব অনুভব করার বিরল সম্মান যারা আমাদের দিয়েছেন তাদেরই একজন আবদুল মুক্তাদির।
জনাব আবদুল মুক্তাদির-এর উদ্যোগ এবং ইনসেপ্টা লিমিটেডের উন্নয়ন দেশের রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ওষুধ শিল্পের সুবাদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button