সম্পাদকীয়

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ

এনামুল হক এনাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

দেশের অর্থনীতির সবসূচক ইতিবাচক। প্রবৃদ্ধি থেকে শুরু করে সামাজিক ক্ষেত্রের প্রায় প্রতিটি সূচকে যোগ হয়েছে নতুন পালক। দেশের অর্থনীতির ভিত দিন দিন মজবুত হচ্ছে। স্বাধীন সার্বভৌম সোনার বাংলাদেশ চমকে দিচ্ছে বিশ্বকে। স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। কৃষি অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ শিল্পায়নেও এগিয়েছে বহুদূর। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে বিপুল গতি। অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ এখন রোল মডেলের পরিচিতি অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সোনার বাংলার স্বপ্ন এ জাতির আশা ও আকাক্সক্ষা তা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে যুক্ত এ দেশের প্রতিটি নাগরিক। এক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা পালন করছেন অগ্রণী ভূমিকা। তাদের নিরলস নিরন্তর প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে চলছে অনন্য উচ্চতার দিকে। উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে পেশাজীবীদের নিবিড় অংশগ্রহণ দেশকে এনে দিচ্ছে বিপুল সমৃদ্ধি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার মহান স্থপতি। তাঁর জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। মুজিব জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি আমাদের বিন¤্র শ্রদ্ধা। হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন সোনার বাংলার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদেশের মুক্তিপাগল মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর অসংখ্য নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির সহায়-সম্পদ হারানোর মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর আহ্বানে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি পেশাজীবী অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কর্মস্পৃহা ও সৃজনশীল মেধা দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা আজকের বাংলাদেশ বিজয়ের ৫০ বছর পূর্ণ করলো। এ বছর আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নিজ নিজ ভূমিকা পালন এবং অবদান রেখে চলেছেন। প্রাকৃত্কি দুর্যোগ-দুর্বিপাক এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকা সমান তালে এগিয়ে যায় সকলের কর্তব্যনিষ্ঠা এবং একাগ্র ও দৃঢ় মনোভাবের সুবাদে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের যে মহতী অর্জন সেটি বিশ্ব দরবারে স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব থাকবে না। দেশের জনগণের আহার, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। এ জন্যে প্রয়োজন টেকসই অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন। তথ্য প্রযুক্তির দিক দিয়ে অগ্রসরমান বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে নিম্ন মধ্য আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সরকারের কর্মপরিকল্পনায় আমরাও অংশীদার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button