বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী ও কৃতী সন্তান পৃথিবীর বহু দেশে স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছেন এবং সেই সব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতিসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন- তাদেরই একজন বাংলাদেশি আমেরিকান মাসুদ চৌধুরী। যিনি আমেরিকার অন্যতম সেরা বাঙালি রেস্তোরাঁ কনকর্ড রেস্টুরেন্ট ইন-করপোরেশন (Concord Restaurant Inc.) এর উদ্যোক্তা ও প্রেসিডেন্ট। তিনি বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইউএসএ (BCCUSA), ডালাস, টেক্সাস-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

ছোটবেলা থেকেই অদম্য মেধাবী মাসুদ চৌধুরী স্বপ্ন দেখতেন বড় মনের মানুষ হবেন। তার মনে দুটি চরণ খোদাই হয়ে গিয়েছিল যে, ‘নিজে যাকে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে- বড় সেই হয়’, এবং আরেকটি চরণ হচ্ছে- ‘মানুষ মানুষের জন্যে’। মেধাবী মাসুদ চৌধুরীর শিক্ষাজীবন বেশ উল্লেখযোগ্য। তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ালেখা করেছেন। পরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ সময় তিনি উপলব্ধি করেন, বড় মনের মানুষ হতে হলে সুশৃঙ্খল ও নিয়মনীতির সৎজীবন প্রয়োজন। তিনি পেশাজীবনের সকল ক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠাকে গুরুত্ব সহকারে ধরে রেখেছেন।
মাসুদ চৌধুরী একজন নিবেদিতপ্রাণ উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। তিনি তার প্রচেষ্টা, আত্মপ্রত্যয় দিয়ে আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছেন। তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের Texas এর ডালাসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাস গড়ে তোলেন। তিনি আমেরিকার মূলধারার জীবনে নিজেকে সম্পৃক্ত এবং একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তিনি বিখ্যাত ‘কনকর্ড রেস্টুরেন্ট ইন-করপোরেশন’ এর প্রেসিডেন্ট। Sonic Americas Drive-In এর প্রেসিডেন্ট/প্রিন্সিপাল। Texas এর ডানকানভ্যালিতে তার অফিস। তিনি বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইউএসএ (BCCUSA), ডালাস, টেক্সাস-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট। মাসুদ চৌধুরী শুধু নিজের ব্যবসার কথা ভাবেন না, বাংলাদেশ কমিউনিটির অন্য ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করেছেন নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায়। এছাড়া তিনি আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান Sonic Industries এর প্রোডাক্ট সরবরাহকারী হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এ সকল ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি বৈশাখী উৎসব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি নিজের সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভুলতে পারেননি। আমেরিকায় ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন Jhenidah Ex Cadets Association (JEX CA-NA), North America. তিনি অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়েও ভাবেন। তিনি Distressed Children & Infants International (DCI), Cheshire Connecticut এর প্রধান উপদেষ্টা।

মাসুদ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম লিমু চৌধুরী। সুখী এই দম্পতির তিন সন্তানই পিতার মতো মেধাবী। বড় মেয়ে লিরা চৌধুরী একজন বিশিষ্ট ইউরোলজি সার্জন, দ্বিতীয় মেয়ে লোরা চৌধুরী একজন করপোরেট ট্রায়াল এটর্নি এবং একমাত্র ছেলে মারাজ চৌধুরী Austin এর Texas University’তে Bio-need Engineering-এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পিতা হিসেবে মাসুদ চৌধুরী যেমন সন্তানদের বন্ধু তেমনই সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে থেকেছেন যথেষ্ট কঠোর। সন্তানদের প্রতি তার পরামর্শ- ধনসম্পদের চেয়ে জ্ঞানার্জন অধিক শক্তিশালী। সন্তানরা পিতার আদর্শে নিজেদের অধ্যয়নের মধ্যে রেখেছেন বলেই আমেরিকার মতো উন্নত সমাজেও তারা স্ব-স্ব কর্মে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন।
মাসুদ চৌধুরী মাঝে মাঝেই নাড়ির টানে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রশ্নে তার সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে হবে। তাহলে এ জাতি অতি দ্রুতই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছুতে সক্ষম হবে। যখনই বাংলাদেশের সুসংবাদ দেখেন তার মনটা আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। তিনি সন্তানদের প্রতি মুহূর্তে বলেন, কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের বাঙালি সংস্কৃতিকে ভোলা যাবে না, এটাই আমাদের শেকড়। তিনি যখন অন্য বাঙালিদের সাথে কথা বলেন, তখন বাংলায় বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন; সন্তানদেরও সেভাবে গড়ে তুলেছেন।
একজন মেধাবী আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশি আমেরিকান উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব মাসুদ চৌধুরী আশাবাদী যে- বাংলাদেশে একদিন কাক্সিক্ষত উন্নয়ন আসবেই।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



