ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান, সাবেক প্রেসিডেন্ট, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্ট (অঅইঊঅ)
Engineer Jalil Khan, President of Professional Engineers in California Government,
Representing 58 Countries also Convener NRB Council USA
বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশের মেধাবী পেশাজীবীরা তাদের সফল পদচারণার মাধ্যমে শুধু নিজেরাই প্রতিষ্ঠিত হননি, বাংলাদেশের অন্যদেরও ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে সহযোগিতা করে চলেছেন। সেই কৃতী পেশাজীবীদেরই একজন ইউএসএর লাইসেন্সড প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান। তিনি California Department of Transportation (CALTRANS)-এর সাথে সম্পৃক্ত। Caltrans বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি ট্রান্সপোর্টেশন এজেন্সি যা প্রতিদিনের রুটে লক্ষ লক্ষ মাইলব্যাপী বিস্তৃত এবং ৩৩০০০ এর বেশি ব্রিজ ও ফ্লাইওভার মেইনটেইন করে থাকে। এই মেধাবী প্রকৌশলী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এখানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও উজ্জ্বল করছেন। বরিশালের কৃতী সন্তান জলিল খান বরিশাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর BUET-এ ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সাথে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে আমেরিকা আসেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলসে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির সুযোগ পান।

ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্ট (AABEA) এর সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি এর প্রেসিডেন্ট এবং জব কমিটির চেয়ারম্যান থাকার সুবাদে অসংখ্য প্রকৌশলীকে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন। বর্তমানে ২শ’র অধিক বাংলাদেশি NRB ইঞ্জিনিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ায় Caltrans-এ কর্মরত। তিনি বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্যে এখানে কাজের ব্যবস্থা এবং তাদের ইমিগ্র্যান্ট হবার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এমনকি অনেক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার যারা এখানে ক্যাবচালক হিসেবে কাজ করতেন তাদেরকেও এখানকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের চাকরিতে নিয়োগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে তাদেরকে গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন। এখনো তিনি AABEA এর সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া চ্যাপ্টারে জব কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বিভিন্ন এসোসিয়েশন ও কমিউনিটিতে নিজের ফোন ও ইমেইল নম্বর দিয়ে রেখেছেন, যারা তার কাছে কোনো বাংলাদেশি আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির প্রয়োজনে তাকে জানালে তিনি তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি নিজেও বিভিন্নভাবে খোঁজ নেন কোনো বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার চাকরি খুঁজছেন কিনা? এটি তিনি করেন আত্মতৃপ্তির জন্যে। তিনি মনে করেন, এটি তার নৈতিক সামাজিক দায়িত্ব।
AABEA-Sc’র প্রেসিডেন্ট থাকার সুবাদে তিনি তার সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স এবং এগ্রিকালচারে রিসার্চ করার জন্য অঅইঊঅ-ঝপ ফান্ড সংগ্রহ করেছেন যা এখনো অব্যাহত আছে। তিনি ১৯৯৮ সালে নিউ ইয়র্কে কনভেনশনের সময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ সময়টিতে অনেক ইঞ্জিনিয়ার AABEA’র সদস্যপদ গ্রহণ করেন- ফলে সদস্য সংখ্যা ১০০ হতে ২০০-তে উন্নীত হয়। তিনি মনে করেন শুধু নামের জন্যে পদে আসীন নয়, কাজের জন্যে আসীন হতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান বাংলাদেশ আমেরিকান শেরিফ অ্যাডভাইজার কাউন্সিল (BASAC)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০০৬ সালে কমিউনিটির অন্য নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে Loss Angeles Country Sheriff’s Bangladeshi-American Advisory Council (BASAC) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঘজই ঈড়ঁহপরষ NRB Council (Non Resident Bangladeshi) এর মাধ্যমে সেদেশে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং মহান একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করেন। তিনি একজন সমাজসচেতন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে আমেরিকার নির্বাচনে নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশও নেন। তিনি ২০১৭ সালে তিনি মিসেস হিলারী ক্লিনটনের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের জিএসপি ইস্যু নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যান ঔধহরপব ঐধনহ এর সাথে আলোচনা করেন। তিনি ঈড়হমৎবংংড়িসধহ উৎ. ঔঁষু ঈযঁ কর্তৃক দক্ষতা ও মানুষের প্রতি সেবার স্বীকৃতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপ্রেসিয়েশন সার্টিফিকেট লাভ করেন। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মমেলায় তিনি প্রধান অতিথি এবং জুডি চু বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। লস এঞ্জেলসের বৈশাখী মেলাতেও জলিল খান ব্যাপক আয়োজন করেন। দেশীয় সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে সচল রাখতে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরসহ অন্যদের অতিথি হিসেবে নিয়ে আসেন। ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (BAPAC) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক। এই কমিটি আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে বিভিন্ন নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায়ও অংশ নেয়। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে আমেরিকার সরকার এবং জনগণের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হবে। ২০০৭ সালের নির্বাচনে এই কমিটি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে কাজ করে। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে লস এঞ্জেলসের মেয়র ২০০৭ সালে বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে সেখানে ‘Little Bangladesh’কে স্বীকৃতি প্রদান করেন। এটি বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্যে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত।
মানবপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব জলিল খান দু’বার ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের লস এঞ্জেলস সেকশনের প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারদের (PECG) প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ সংগঠনে প্রায় ৪০০০ ইঞ্জিনিয়ার সদস্য। তিনি ২০১৯ সালে পুন:রায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশে সিডরের দুর্যোগ মুহূর্তে তিনি প্রায় ২০০০০ ডলার সংগ্রহ করে দুর্গতদের সহায়তা দেন।
তিনি সাউথ এশিয়ান আমেরিকান কমিউনিটির (FOSAAC) কো-চেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ‘বাঁচাও’ এর পরিচালক। এ প্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে দুস্থ ও অসহায় শিশুদের জন্যে ১,৪০,০০০ ডলার ব্যয় করেছে। জলিল খান বলেন, আসহায় ও দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে না পারলে সে তো সত্যিকার অর্থে-মানুষের মর্যাদা লাভ করে না।
ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান তার সেবাদান ও কর্ম সাফল্যের জন্যে অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মধ্যে Golden Hal Award, Excellence in Community Services Award, লস এঞ্জেলস বৈশাখী মেলা কর্তৃক একুশে পদক, প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষ থেকে PECG অ্যাওয়ার্ড, AABEA-Sc কর্তৃক Certificate of Appreciation ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



