সাক্ষাৎকার

মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে জার্মানিতে কনফারেন্স করেছি

ড. হাবিব সিদ্দিকী লেখক, গবেষক ও বিশ্বশান্তি আন্দোলনকর্মী

মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগকারী এক বাংলাদেশি প্রতিভাবান লেখক, গবেষক ও প্রকৌশলী ড. হাবিব সিদ্দিকী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কার্যক্রমে বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করছেন। তার এই কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হচ্ছে। মিয়ানমার, সিরিয়া, বসনিয়া, চেচনিয়াসহ বিশ্বের যেখানেই রাষ্ট্র বা সরকার নাগরিকদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করছে সেখানেই ড. হাবিব সিদ্দিকী প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শান্তিকামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। গবেষক ও মানবপ্রেমী ড. হাবিব সিদ্দিকী সাম্প্রতিক সময়ের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপারেও বিশ্বের মানুষকে সমস্যা নিরসনে তার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গবেষণাপত্রের মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছেন। মিয়ানমার (বার্মা) সরকার ও সেনাবাহিনী কর্তৃক আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মম ও নৃশংস হত্যাকা- এবং নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা তিনি দলিলসহ বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন। এ জন্যে তিনি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন এবং নির্যাতিতদের সাথে কথা বলে নিবন্ধ-প্রবন্ধ লিখে তা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রকাশ করেছেন।

ড. হাবিব সিদ্দিকী শুধু মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত দেশ বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিয়ে নয়, বিশ্বের দেশে দেশে নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের সাথে সংঘটিত অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজেই এখন এক সংগঠনে পরিণত হয়েছেন। ‘মানবতার দূত’ হিসেবে তার পরিচিতি বিস্তৃত হচ্ছে নিপীড়িত মানুষের মধ্যে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর যে মর্মান্তিক নির্যাতন করা হয়েছে তা তুলে ধরে তিনি বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন।
ড. হাবিব সিদ্দিকী বলেন, মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে জার্মানিতে কনফারেন্স করেছি। তিনি সেমিনারে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা’ বিষয়ক তথ্যাদির ‘কী নোট’ উপস্থাপন করেছেন। এতে মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক পলিসির Gerald R. Ford, Penn Human Right Forum Gi Ann Arbor University of Pennsylvania, Philadelphia, Thammasat University In Bangkok, Thailand; University of Wisconsin, Milwaukee এবং আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন, জাপান (JARO) উপস্থিত ছিলেন। হাবিব সিদ্দিকী রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ক লেখা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্বের এই মানবতাবাদী ও গুণী ব্যক্তিত্ব ১৬টি বই এবং ১২০০-এর অধিক নিবন্ধ রচনা করেছেন। ড. হাবিব সিদ্দিকী মানবাধিকার, ধর্ম, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মুসলিম সভ্যতা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ইসলামের রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, Strategic and Security Issues, Terrorism and Democracy in the Muslim World with Emphasis of the South Asia and the Middle East বিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও জার্নালে এবং ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়ে আসছে। তিনি মুসলিম ওয়ার্ল্ড আলমানাক, ২০০৮ সালে উপস্থিত ছিলেন।
ড. হাবিব সিদ্দিকী Bangladesh Expatriates Council, USA এর বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের চেয়ারম্যান।
ড. হাবিব সিদ্দিকী এক বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী।Bangladesh University of Engineering and Technology থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত একজন প্রকৌশলী হিসেবে তিনি BUET-এর অ্যালামনাই। একজন বিজ্ঞ প্রকৌশলী হয়েও তিনি মানবতাবাদ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে নিরন্তর আন্দোলন-সংগ্রাম করে চলেছেন। তার স্ত্রী ইভা ফিলাডেলফিয়ার West Chester-এ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্সের অধ্যাপক।
ড. হাবিব সিদ্দিকী একজন সত্যনিষ্ঠ ও বাস্তববাদী মানুষ। তিনি স্পষ্টবাদী। কর্পোরেট চিন্তার মানসিকতাপূর্ণ হাবিব সিদ্দিকী উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি খাত পরিষেবা ও সরবরাহ চেইন ইত্যাদি কার্যক্রমে তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও বেশ সমাদৃত। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অপারেশনাল এক্সিলেন্স এবং বিচক্ষণতার জন্যে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এনআরবি কাউন্সিলের পরিচালক ও উপদেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী কাউন্সিলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন। গত ২৫ বছরে তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ৪টি কর্পোরেশনের (এএসফ, মের্ক, রোমে অ্যান্ড হাস এবং উইটকো) সিক্স সিগাম উদ্যোগকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ড. হাবিব সিদ্দিকীর দক্ষতা রূপান্তর প্রক্রিয়া ক্ষেত্রে কণার পরিবর্তন, এক্সিকিউশন পদ্ধতি, কোয়ালপ্রো, পিএসিই (পণ্য/প্রক্রিয়া এবং চক্রের সময় এক্সিলেন্স) এবং মোট গুণমানের নেতৃত্ব/পরিচালনা (টিকিউএল/টিকিউএম) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি ২০১০ সালে BASF-এ যোগদানের আগে একটি পরামর্শকারী সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট সেন্টার অব এক্সিলেন্স, মার্ক, রিসার্চ ডিভিশন (MRL) এর ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে তিনি এক্স রিসার্চ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডুপন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্যেও কাজ করেছেন।
মেধাবী প্রকৌশলী হাবিব সিদ্দিকী বর্তমানে সেন্টার অব এক্সিলেন্স, উত্তর আমেরিকার পুরো অঞ্চলের মধ্যে বিএএসএফ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠার জন্যে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। মানবিক কার্যক্রম ও প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট কাজের বাইরেও তিনি দু’টি জার্নালের সম্পাদকীয় পর্যালোচকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাবিব সিদ্দিকী লস এঞ্জেলসের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট ডিগ্রিসহ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইউসিএলএ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button