প্রচ্ছদ প্রতিবেদনপ্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার

বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে ফ্রেশ গ্রুপ

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, সিআইপি চেয়ারম্যান, ফ্রেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজ

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম
দেশের অন্যতম শিল্প-বাণিজ্য গ্রুপ ‘ফ্রেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজ’ এর চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমানের জন্ম পটুয়াখালীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৫২ সালে। শিশুবেলা থেকেই মেধাবী তৌহিদুর রহমান ইউরোপ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং স্পেশালিস্টে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি ঊঊঈ-অংরধ ঊপড়হড়সরপ ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ এর ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করে দেশ-বিদেশে অনেক এক্সপোর্ট ফেয়ার ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তিনি তার জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন ফ্রেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজ। এই গ্রুপে বিভিন্নমুখী শিল্প এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি তার ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গত ২১ বছর ধরে সরকার কর্তৃক সিআইপি মনোনীত হয়ে আসছেন। কারণ, তিনি দেশের অর্থনীতিতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা। একদিকে যেমন তিনি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন তেমনি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।
আলোকিত শিল্প ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান একজন ব্যাংক উদ্যোক্তা হিসেবেও সুপরিচিত। তিনি বেসরকারি খাতের শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের বোর্ড অব ডিরেক্টর এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিসের পরিচালক। তিনি ১০০ ভাগ রপ্তানিমুখী সী ফুড ইন্ডাস্ট্রি ফ্রেশ ফুডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এ ছাড়া তিনি সী ফ্রেশ ফুডস লিমিটেড এবং লিবাস টেক্সটাইলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ফ্রেশ ট্রেডিং লিমিটেড, ঢাকা এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে তিনি তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক। দেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছেন। তিনি বেসরকারি খাতের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম ইউনিভার্সিটির গভর্নিং বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং প্রাইম ফাউন্ডেশনের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
দূরদর্শী শিল্প ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান পটুয়াখালী আলহাজ্ব জালালউদ্দিন কলেজ ও জালালউদ্দিন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি কুয়াকাটা দুলসার হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিরও চেয়ারম্যান।
দেশখ্যাত শিল্প গ্রুপ ‘ফ্রেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজ’-এর উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব তৌহিদুর রহমান সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কর্তৃক পদক ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে বেস্ট এক্সপোর্টার হিসেবে ২০০৭-২০০৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ন্যাশনাল সোল্ড অ্যাওয়ার্ড, এফবিসিসিআই কর্তৃক ২০১১ সালে বেস্ট এন্টারপ্রেনিয়র অ্যাওয়ার্ড, ২০০৭ সালে মাদার তেরেসা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮৮ ও ২০০৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এক্সপোর্ট ট্রফি, ২০০৬ সালে বেস্ট বিজনেস পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড, রবিনটেক্স বিজনেস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমানের ফ্রেশ গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৮০০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এ প্রতিষ্ঠান ১০০ মিলিয়নের অধিক ইউরোপ, এশিয়া এবং আমেরিকায় এক্সপোর্ট করে থাকে।
তিনি কর্মোপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, থাইল্যান্ড, পোল্যান্ড, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্ডিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চায়না, দুবাই, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ কোরিয়া, ফ্রান্স, জাপান, মেক্সিকো ভ্রমণ করেছেন। অর্থকণ্ঠকে দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেন তা এখানে উপস্থাপন করা হলো-

অর্থকণ্ঠ : দেশের আজ যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর পেছনে বেসরকারি খাতের ভ‚মিকা কতটুকু বলে আপনি মনে করেন?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : স্বাধীনতার ৪৮ বছরে এদেশের যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়তো সম্ভব হয়নি, এরপরও আমরা উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে হাঁটছি। আর এই যে সিঁড়ি বেয়ে হাঁটা এর পেছনে বেসরকারি খাতের ভ‚মিকা ব্যাপক। লক্ষ্য করলে দেখবেন, সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকার আশপাশে আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী অঞ্চল জুড়ে কয়েক হাজার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রামেও কয়েক হাজার শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; সবই হয়েছে বেসরকারি খাতের উদ্যোগে। শুধু শিল্প প্রতিষ্ঠানই নয়, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ অন্যান্য অনেক সার্ভিস প্রতিষ্ঠানও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দ্বারা বিস্তৃত হয়েছে, সমৃদ্ধ হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের পেছনে বেসরকারি খাতই মুখ্য ভ‚মিকা পালন করেছে।
অর্থকণ্ঠ : আপনার ফ্রেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজ দেশের অর্থনীতিতে কতোটা ভ‚মিকা রাখছে?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : আমি মনে করি আমরা আমাদের উৎপাদিত পণ্য এক্সপোর্টের মাধ্যমে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাই শুধু আনছি না একই সাথে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করছি। আমাদের সী ফুডসও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা দু’বার প্রধানমন্ত্রীর রপ্তানি ট্রফি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার কর্তৃক ২১ বছর ধরে সিআইপি নির্বাচিত হয়ে আসছি।
অর্থকণ্ঠ : বর্তমানে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে যাত্রা শুরু করেছে; আপনার অনুভ‚তি কি?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এক সময় বাংলাদেশ ছিল খুবই অনুন্নত একটি রাষ্ট্র। এরপর আমরা উন্নয়নশীল দেশের সারিতে ঠাঁই পেলেও তাচ্ছিল্য ও উপেক্ষা করে বলা হতো- ‘তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ’। আজ সেসব দুর্নাম ঘুচিয়ে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে আসতে পেরেছি- এটা আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। আমি আশা করি, বেসরকারি খাতকে যদি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয় তবে আমরা আগামী দিনে দ্রুতই উন্নত আয়ের দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবো।
অর্থকণ্ঠ : আপনি একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী। এদেশে শিল্পোন্নয়নের প্রধান সমস্যা কি? তা কাটিয়ে ওঠা কীভাবে সম্ভব?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এখানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে অবকাঠামো। আমাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পোর্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিল্প স্থাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু হতে পারছে না। আমি মনে করি, প্রয়োজনে বৈদেশিক সহযোগিতা নিয়ে হলেও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন জরুরি। এতে বেসরকারি খাতের দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে এবং বেসরকারি খাত তাদের কাজের মাধ্যমে, উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের চেহারা পাল্টে দিতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি একজন বিশিষ্ট রপ্তানিকারক। বহির্বিশ্বে আমাদের পণ্য সম্পর্কে ধারণা কি?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : বাংলাদেশের পণ্য মান সম্পর্কে ভলো ধারণা আছে বলেই বহির্বিশ্বে আমাদের পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অতীতে এ দেশের পণ্য সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক প্রচারণা ছিল, এখন তা আর নেই। অবশ্য এ জন্য আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমাদের পণ্যকে ঠেলে দিয়ে অন্যেরা জায়গা দখলে নেয়ার জন্য অনেক কৌশল খাটায়। আমাদের দেশের যারা এক্সপোর্টার তাদেরও পণ্য মান সম্পর্কে আরো সতর্ক থাকা উচিত। যদি কোনো অসৎ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীর কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাকে যথাযথ শাস্তি দেয়া উচিত। কারণ, একদিনে এই বাজার সৃষ্টি হয়নি। এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
অর্থকণ্ঠ : আপনি নিজে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের একজন। অন্যদিকে স্বনামধন্য উদ্যোক্তা। ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার নিয়ে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা অসন্তুষ্ট। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এদেশে ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার ব্যবসায়ীদের জন্য অ্যাফোর্ট করা সত্যিই কষ্টকর। তবে আশার কথা, উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে সরকার ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি, উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা যত স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন ততই তারা বেশি বেশি শিল্পোদ্যোগ কিংবা ব্যবসার উদ্যোগ নিতে পারবেন। কারণ বেশি সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন ব্যাপার। তারপরও এদেশের লক্ষ লক্ষ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী সেই দুরূহ কাজটিই চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি অন্তত সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হোক এই সুদ হার। তবে আমাদের দেশের অবসরভোগী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ডিপোজিটর যারা অন্য কোনোভাবে টাকা খাটাতে পারছে না তারাতো ব্যাংক সুদের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে সরকারের বেশ কিছু স্কিম নেয়া প্রয়োজন। যেখানে এই ডিপোজিটররা টাকা রেখে সংসার চালাতে পারেন। তবে একজন ব্যাংক উদ্যোক্তা হিসেবে আমি বলবো, সরকার ব্যাংকের সুদ হার কমাবে অথচ সরকারের বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদ বাড়াবে তা কিন্তু হবে বিপদজনক। কারণ এক্ষেত্রে ব্যাংকের ডিপোজিট কমে যাবে। এতে আলটিমেটলি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনার পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান লিবাস টেক্সটাইলস লিমিটেডের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইছি।
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এটি অত্যাধুনিক ইন্ডাস্ট্রি। এর সেলাই ক্যাপাসিটি দৈনিক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার পিস। ডাইং এবং ফিনিশিং ক্যাপাসিটি প্রতিদিন ৩৫ টন। ৬ হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী এতে কাজ করে। এর কাটিং ক্যাপাসিটি দৈনিক দুই লক্ষ হাজার পিস। সিউই (প্যাকেজিং) ক্যাপাসিটি দৈনিক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার পিস, প্রিন্টিং ক্যাপাসিটি দৈনিক ৬০ হাজার পিস এবং এমব্রয়ডারি ক্যাপাসিটি দৈনিক ২০ হাজার পিস। এ প্রতিষ্ঠান কোয়ালিটি ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য আইএসও ৯০০১ : ২০০৮ ও গেøাবাল অর্গানিক টেক্সটাইল স্ট্যান্ডার্ডসহ অসংখ্য সার্টিফিকেট লাভ করেছে। আমাদের শিল্প কারখানার বিল্ডিংটিও নিরাপদ। এটি লেটার অব রিকগনিশন অপপড়ৎফ ঋরাব ্ ইঁরষফরহম ঝধভবঃু রহ ইধহমষধফবংয অর্জন করেছে।
অর্থকণ্ঠ : আপনাদের ফ্রেশ ফুডস লিমিটেড সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি সী ফুড প্রসেসিং এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এর প্রজেক্ট ভ্যালু ১০০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক টার্নওভার ৩০/৪০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। এই প্রতিষ্ঠান পণ্যের গুণগতমানের জন্য বিআরসি গেøাবাল স্ট্যান্ডার্ড ফর ফুড সেফটি ইস্যু-৬ টঝঊউঅ (এৎবব ঝঃধঃঁং) অ্যাপ্রুভ এবং ঊট ঠবঃবৎরহধৎু এৎবব ঝঃধঃঁং অ্যাপ্রুভড। এ প্রতিষ্ঠান সাফল্যের মূল্যায়নস্বরূপ ১৯৯৮ সালে এক্সপোর্ট ট্রফি, ২০০৮ সালে গোল্ডেন ট্রফি ২০০৮, এফবিসিসিআই এসএমই অ্যাওয়ার্ড ২০১০, কোয়ালিটি প্রোডাক্ট ফরম ইউএসএ লাভ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাফল্যই আমাকে সিআইপির মর্যাদা এনে দিয়েছে। আমার সী ফ্রেশ লিমিটেডও একইভাবে অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে চলেছে।
অর্থকণ্ঠ : আপনারা মশিউর ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছেন। কনস্ট্রাকশন খাতে কি ধরনের সমস্যা বিদ্যমান।
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এটি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছি। এর প্রজেক্ট ভ্যালু ১২ মিলিয়ন ডলার এবং বার্ষিক টার্নওভার ৩০/৪০ মিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হচ্ছে কনস্ট্রাকশন সংশ্লিষ্ট পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া। দ্বিতীয়ত হচ্ছে এ খাতে নীরব চাঁদাবাজি রয়েছে। কোথাও কোনো কাজ শুরু করলেই তাদের দৌরাত্ম্য দেখা যায়। এছাড়া আবাসন শিল্পের মতো বিশাল শ্রম নিবিড় সংযুক্ত শিল্পকে সেভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয় না। সরকারের উচিত এই শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা। কারণ এই শিল্পের লিংক শিল্প যেমন সিমেন্ট, রড, ইট ইত্যাদির আজ যে বিকাশ হয়েছে তা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। এ খাতে ব্যাংক ঋণের সুদ হারও কমাতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : বর্তমান বাংলাদেশকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : এক সময় বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল দুর্ভিক্ষ-পীড়িত ও বন্যাক্রান্ত দেশ। এরপর ছিল রাজনৈতিকভাবে হানাহানির দেশ; জ্বালাও-পোড়াও এর দেশ; কিন্তু এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদ্যমান থাকায় এর ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অনেক বিষয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের কাছে সম্মান পাচ্ছে।
অর্থকণ্ঠ : ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়েছে। ঘরে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ‘বিকাশ’ ব্যবস্থায় টাকা পাওয়া যায়। অনলাইন ব্যাংকিং দ্বারা উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পাচ্ছে; সবই ডিজিটাল এর আওতায় হচ্ছে।
তবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাতে কোনো দুর্নীতি অনিয়ম সংঘটিত হতে না পারে তার উদ্যোগ নিতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : যানজট নিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। আপনার পরামর্শ কি?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : আমাদের জনচাপ বেশি, দেশের আয়তন ছোট। তারপরও পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাফিক সিস্টেমকে ঢেলে সাজাতে হবে। ঢাকা শহরসহ চট্টগ্রামে অন্তত ১শ’ ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে। ঢাকার আশপাশে আরও পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে ঢাকা শহরের রেললাইনের পাশের বস্তি এলাকা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে সেখানে রাস্তা নির্মাণ ও যান চলাচলে সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে। ঢাকার আশপাশে নদীপথ ব্যবস্থা সুন্দরভাবে করতে হবে। এসব উদ্যোগ নিলে এ দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।
অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার আশাবাদ কতটুকু?
ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান : আমি আশাবাদী মানুষ। আমি মনে করি, এদেশে ব্যাপক সম্ভাবনা বিদ্যমান। আমাদের উন্নয়নকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ অতি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে সেই দিন আর বেশি দূরে নয়Ñ এ কথা আমি নিশ্চিত বিশ্বাস করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button