বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাদেশের কৃতী ও মেধাবী সন্তানরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বাস করার সুবাদে সেখানেও একখ- বাংলাদেশের উত্তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছেন- তাদেরই একন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর এম রহমান।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী সিদ্দিকুর রহমানের জন্ম ২২ মার্চ বাংলাদেশের বগুড়ার পাতিলাগুড়ার বালুহাট গ্রামের সোনাতলায় এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত অভিজাত পরিবারে। তিনি সোনাতলা পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাস করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে ছাত্ররাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। অত্যন্ত মেধাবী রেজাল্ট করায় এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ১৯৭৩ সালে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সিদ্দিকুর রহমান। তরুণ লেকচারার হিসেবে বেশ সুনামের সাথে পদচারণা ছিল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হয়ে কমনওয়েলথ স্কলারশীপ নিয়ে ইংল্যান্ডে যান এমএস করতে। এমএস শেষে স্কলারশীপ পান নিউ জার্সির রাটগার্স ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করার। পিএইচডি শেষে তিনি আর বাংলাদেশ ফিরে যাননি। তিনি নিউ জার্সি স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশনে রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগদানের সুযোগ পান। সেখানে প্রায় ৩০ বছর চাকরি শেষে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন ২০১১ সালে। স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের মূল কারণ ততদিনে তিনি উপলব্ধি করেছেন শুধু চাকরি করে দেশ ও জাতিকে খুব বেশি কিছু দেয়া সম্ভব নয়। এর জন্যে প্রয়োজন রাজনীতিতে অংশ নেয়া। তার মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কমিউনিটিতে জনপ্রিয়তা ইত্যাদি বিবেচনায় এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে ২০১১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নেন। হয়ে যান ফুলটাইম আওয়ামী লীগার। সেই ২০১১ সাল থেকে আজ অবধি তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি। কৃতী পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. সিদ্দিকুর এম রহমানের ভাষায়- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনয়নকারী ঐতিহ্যবাহী দল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দলের নেতা ও সভাপতি ছিলেন। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বে ও সংগ্রামের ফসল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। এই দলের নেতৃত্ব গ্রহণ যথাযথ সম্মানের। রাজনীতি করার জন্যে প্রচুর সময় দরকার- যা চাকরিতে থেকে দেয়া সম্ভব নয়। এ জন্যেই আমি দল ও দেশের মানুষের সেবার জন্যে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি।

সৎ ও নির্লোভ রাজনীতিবিদ ড. সিদ্দিকুর এম রহমানকে খুব পছন্দ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংগঠক হিসেবে ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময় থেকে অধিক শক্তিশালী। নিউ জার্সিতে স্থায়ী ঠিকানা গড়লেও সংগঠনের প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত নিউ ইয়র্কে আসেন। এর ফলে নিউ ইয়র্কের দলীয় কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশেও মাঝে মাঝে আসেন দলীয় প্রয়োজনে। তিনি বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যে দলের নিকট মনোনয়ন চেয়েছেন। এ জন্যে সোনাতলাতেও বেশ কিছু কর্মোদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে খ্যাতি ও অর্থ সবকিছুই দিয়েছেন। দল আমাকে প্রার্থী হবার সুযোগ দিলে মানুষের জন্যে, এলাকার উন্নয়নের জন্যে কাজ করবো; এতে দলের ভাবমূর্তিও অনেক উজ্জ্বল হবে।
ড. সিদ্দিকুর এম রহমান একজন স্পষ্টবাদী ভালো বক্তা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি দলীয় কার্যক্রমে যেমন প্রাণ নিয়ে এসেছেন তেমনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সুবিন্যস্ত সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হন। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক সদর দফতরের সামনে স্মরণকালের বৃহত্তম প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
ড. সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী সমাজকর্মী শাহানারা রহমান তাকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সর্বতোভাবে সহায়তা করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।
শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ড. সিদ্দিকুর এম রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিমিনালের কোনো জায়গা নেই। যদি তাই হয় তাহলে বঙ্গবন্ধুর খুনীকে পাঠান না কেন? একজন সাজাপ্রাপ্ত খুনী কিভাবে তোমার আমেরিকায় বসবাস করার সুযোগ পায়?
ড. সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ কমিউনিটির স্বার্থের ব্যাপারে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে আসা প্রত্যেকেই আমরা এক এবং অভিন্ন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



