প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাহসী নাজদা আলম তাদেরই একজন বাংলাদেশি আমেরিকান যারা আমেরিকার মূলধারার রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টির সক্রিয় কর্মী এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। উদ্যমী, মেধাবী ও আত্মপ্রত্যয়ী নাজদা আলম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নাজদা আলম ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী। এছাড়াও তিনি আমেরিকার বেশ ক’টি কল্যাণমুখী সংগঠনের সাথে জড়িত। এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা ১৯৩০ সালে মেডিক্যাল বিষয়ে পাস করে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ভারতে মেডিক্যাল অফিসার পদে যোগদান করেন। তিনি সে সময় কলেরা ও টাইফয়েড রোগীদের আরোগ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সময়ের উদ্যমী রাজনীতিবিদ নাজদা আলমও ছাত্রী হিসেবে ছিলেন বেশ মেধাবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৮২ সালে উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া ও চীনের কনস্টিটিউশনাল ইতিহাস বিষয়ে এখানে পড়াশোনারও সুযোগ পান। তিনি টেক্সাস সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষায় ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৮ সালে Massachusetts যান এবং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত Wellasly College এ শিশু উন্নয়ন সেন্টারে এক বছর পড়ান। পরে তিনি সোশ্যাল সার্ভিস ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন। তিনি ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি থেকে ‘সোশ্যাল ওয়ার্কে’ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
সক্রিয় রাজনীতিবিদ নাজদা আলম গত ২০ বছর যাবত সরকারের সকল পর্যায়ের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন এবং প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন। তিনি বিশ্বাস করেন- ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
সময়ের সাহসী সন্তান বাংলাদেশি আমেরিকান নাজদা আলম ২০০২ সাল পর্যন্ত DTC 3rd MAD এর মেম্বার ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি ইমিগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্সদের ‘ফ্রিডম রাইট’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি ডেমোক্রেটিক স্টেট কমিটির মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৪-২০০৭ মেয়াদে তিনি সরকারের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি পলিসির অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার পক্ষে নির্বাচনে মুসলিম ও ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতে প্রচার চালান। ২০১১-২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি স্টেট ট্রেজারার্স ডাইভারসিটি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি ইলেকটোরাল কলেজের বিকল্প সদস্য মনোনীত হন। দূরদর্শী নাজদা আলম ২০০৮-২০১৬ পর্যন্ত মুসলিম ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রজেক্টের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫-২০১৬ তে তিনি জাতীয়ভিত্তিক মুসলিম ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রজেক্টের টিম লিডারের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এছাড়া তিনি গত ১৬ বছর বিভিন্ন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের সমর্থন-সহযোগিতা করছেন। ২০১৬ সালে তিনি হিলারী ক্লিনটনের পক্ষে ডিস্ট্রিক্ট ফিফথ কংগ্রেসনাল ডেলিগেট এবং ম্যাসাচুয়েটসের ইলেকটোরাল কলেজে প্রথম মুসলিম নারী ডেলিগেট নির্বাচিত হন। গত বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তিনি ডেমোক্রেট ভাইস প্রেসিডেন্ট Joe Biden এর পক্ষে নিজ বাসায় সাপ্তাহিক ফোন ব্যাংক সংগঠিত করেন। তিনি এই প্রার্থীর পক্ষে সালেম, কনকর্ড এবং ম্যানচেস্টারে র্যালিতে অংশ নিয়েছেন।
বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পুষ্ট নাজদা আলম ২০ বছর ধরে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতি ও সমাজকর্ম সম্পর্কে ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি বিশেষ করে মুসলিমদের সচেতন করে চলেছেন। তিনি বেশ ক’টি নারী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।

উদ্যমী দানশীল নাজদা আলম বাংলাদেশেও বেশ কিছু সমাজসেবামূলক কাজের সাথে জড়িত। ২০০৬ সাল থেকে তিনি প্রতিবছর ১৫ জন কলেজ ছাত্রীকে বৃত্তি, অসচ্ছল শিশুদের জন্যে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং elementary level এ শিশুদের শিক্ষা প্রদান করছেন।
স্বপ্নদর্শী নাজদা আলম একাধারে শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং সচেতন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমেরিকার বাংলাদেশ কমিউনিটিতে বেশ সুনামের অধিকারী। তিনি মনে করেন, ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতে টিকে থাকা এবং নিজেদের উন্নয়নের জন্যে যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



