সাক্ষাৎকার

তথ্য প্রযুক্তি ব্যাংকিং সেবার মান বদলে দিয়েছে

মোঃ নাজমুল হক জেনারেল ম্যানেজার (আমিন কোর্ট শাখা) অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড

বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ নাজমুল হকের জন্ম সখিপুর থানার ডিএমখালী গ্রামে। জেলা শরীয়তপুর। তার পিতা আব্দুল ওদুদ মিয়া। মায়ের নাম ফজিলাতুন নেছা। মোঃ নাজমুল হক অর্থনীতি বিষয়ে স্তনাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর তিনি ১৯৮৩ সালের ২৪ জুলাই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংকে। মোঃ নাজমুল হক কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন পদে। সরেজমিনে অর্জন করেছেন বাস্তব অভিজ্ঞতা। ব্যাংকিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার পরও অর্জন করেছেন ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পার্ট-১ এবং পার্ট-২। এছাড়াও তিনি ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হন। ২০১৮ সালের ২৬ জুন পদোন্নতি পেয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন সৎ এবং কর্তব্যনিষ্ঠ ও অভিজ্ঞ ব্যাংকার হিসাবে পরিচিত। যার বদৌলতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার ওপর অর্পণ করেছেন ব্যাংকের ঐতিহ্যবাহী শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর আমিন কোর্ট শাখার জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব।
ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব মোঃ নাজমুল হক বলেন, ব্যাংকিং পেশা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সাহস ও অভিজ্ঞতা না থাকলে এই পেশায় টিকে থাকা যায় না। কঠোর পরিশ্রম আর কর্তব্যনিষ্ঠার কারণেই এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমি কখনও ব্যাংকিং পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি। বরং এই পেশায় গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছি। ব্যাংকিং পেশা প্রতিযোগিতামূলক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পেশার গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটেছে। সেবার মান এবং কাজের গতি বেড়েছে। আমি মনে করি, তথ্য প্রযুক্তির কারণে ব্যাংকিং পেশায় বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। এই বিপ্লবের আমিও একজন সহযাত্রী। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি। পুরো একটা জীবনই এই পেশায় কাটিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং পেশা এখন আর অন্তর্মুখী নয়। এই পেশা একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত। বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকিং পেশারও পরিবর্তন ঘটেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি আগের চেয়ে দৃঢ় হয়েছে। তাই এই খাতে সময়ের চক্রাবর্তে অর্জিত সাফল্যও কম নয়। এই খাতে দক্ষ লোকের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে সেবার মানও।
বৈশ্বিক জিডিপি
২০১৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩.৭ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ ক’টি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি বাড়ার ফলে এই ঊর্ধ্বগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এই সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আমিন কোর্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার এবং বিশিষ্ট ব্যাংকার নাজমুল হক বলেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে জিডিপিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর সুফল ব্যাংকগুলোও ভোগ করেছে। ২০১৭ সালে দ্রæততর প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে গত দশ বছরে উন্নয়নশীল অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.১ শতাংশ। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৬ শতাংশ। এই সময় সরকারি বিনিয়োগ ৪.৩ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৭৫৯ ইউএস ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১,৭৫২ ইউএস ডলার। একইভাবে জনগণ ও ব্যাংকের মধ্যে লেনদেন বেড়েছে। এই জন্যে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়েছে। তারা সবসময় জনগণের জন্য সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন।
অভিজ্ঞ ব্যাংকার মোঃ নাজমুল হক বলেন, আমি সবসময়ই জনগণের সেবা প্রদানের মনোভাব নিয়ে কাজ করি। ব্যাংকার হওয়ার পর থেকেই এ কাজ আমি আন্তরিকভাবেই করার চেষ্টা করছি। এই পর্যন্ত একজন সেবাপ্রার্থীও সেবা না পেয়ে আমার কাছ থেকে ফিরে যায়নি। এই ইতিবাচক ভ‚মিকার জন্যই পরম করণাময় আমাকে এ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

মানবসম্পদ
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ দ্রæত অগ্রসর হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নেও একই চিত্র রয়েছে। যাই হোক, বাংলাদেশ বর্তমানে Medium Human Development Country-এর শ্রেণিভুক্ত একটি দেশ। এতেই প্রমাণিত হয় মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট সম্পদ সঞ্চালন করেছে। সম্ভবত এই ব্যাপারে ব্যাংকগুলোও যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে। তা সত্তে¡ও ব্যাংকিং খাতে যথেষ্ট দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। এ সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ নাজমুল হক বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাই ব্যাংকের কার্যাবলী সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। ব্যাংকিং কার্যাবলী পরিচালনার জন্য বেশিরভাগ কর্মকর্তাই দক্ষ। আগের যে কোনো সময়ের চেয়েই তারা বেশি দ্রুত কাজ করছেন। পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন। এই ব্যাংকে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা।

তথ্য প্রযুক্তি
দেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫.০৩ কোটি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮.৬ কোটি। এর অর্থ দেশের ৯১ শতাংশ মানুষ মোবাইল বা টেলিফোন ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ঘনত্ব ৫০.১ শতাংশ। পুরো দেশ মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের নেটওয়ার্কের মধ্যে এসেছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আমিন কোর্ট শাখার ইনচার্জ মোঃ নাজমুল হক বলেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মান আমূল বদলে দিয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড অনেক বেড়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এবং ৪৮ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকা থ্রি-জি নেটওয়ার্কের মধ্যে এসেছে। বাংলা ডোমেইন চালুর ফলে সারা বিশ্বে বাংলাভাষী মানুষ বাংলা ভাষায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এ সুবিধা ব্যাংকগুলোও ভালোভাবে ব্যবহার করছে। ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এই খাতে অগ্রণী ব্যাংক প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। ব্যাংকের সকল কর্মকর্তাই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সকল লেনদেন পরিচালনা করেন। তুলনামূলকভাবে অগ্রণী ব্যাংক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এর সব ক’টি শাখাই অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আওতাভুক্ত এবং সব ক’টি শাখার হিসাবধারীগণ তাদের হিসাবের প্রতিটি লেনদেনের তথ্য মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারেন। নিঃসন্দেহে এই ব্যাংক বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

শিল্প খাত
একটি দেশের উন্নতির মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শিল্প খাত। বিশ্বের যেসব দেশ উন্নত দেশের সীমানা স্পর্শ করেছে সে সব দেশ শিল্পেও উন্নতি করেছে। বাংলাদেশেও জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বেড়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাত আশানুরূপ ভ‚মিকা রাখতে পারেনি। ২০১০ সালে শিল্প খাতে মোট কর্মসংস্থানের অংশ ছিল ২২.৩ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২০.৩ শতাংশ। এই সম্পর্কে মেধাবী ব্যাংকার মোঃ নাজমুল হক বলেন, এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয়েছে ধীর গতিতে। এর কারণ, শিল্প খাতের অটোমেশন। উন্নত প্রযুক্তি প্রবর্তনের ফলে যান্ত্রিক ক্ষমতা বেড়েছে। উৎপাদন দ্রুততর হয়েছে। একই সঙ্গে অদক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। পোশাক শিল্পে এখনো শ্রমিকদের চাহিদা রয়ে গিয়েছে। পোশাক শিল্প হচ্ছে কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় পঞ্চাশ লাখ শ্রমিক। শ্রমিকদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। দেশের মোট রফতানি পণ্যের ৮৪ শতাংশ এসেছে এই খাত থেকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ২৯.২৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার যা জিডিপির ১০.৩৪ শতাংশ। দ্রæত বর্ধনশীল শিল্প হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক পোশাক খাতকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, এদেশের ঔষধ শিল্পও দ্রুত উন্নতি করেছে। ইতিমধ্যে অগ্রণী ব্যাংক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার সেক্টরে বিনিয়োগ করছে।

ঔষধ শিল্প
বর্তমানে দেশের মানুষের ঔষধের চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে দেশে উৎপাদিত ঔষধ। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ঔষধ রফতানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫৪টি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল রফতানি করে। এই সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংকের জিএম মোঃ নাজমুল হক বলেন, ঔষধ শিল্প খাত একটি সম্ভাবনাময় খাত। কারণ, সারা বিশ্বে এই পণ্যটির চাহিদা রয়েছে। এটা খুব আনন্দের বিষয় যে, বিশ্বের বহু উন্নত দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রফতানি হচ্ছে। দেশে ২৬৯টি এলোপ্যাথিক ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজারেরও বেশি ব্র্যান্ডের ঔষধ উৎপাদন করে। এর মূল্য প্রায় ২,২৪৭.০৫ কোটি টাকা। এটা কম কথা নয়। রফতানিজাত পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই দেশের রফতানিজাত পণ্যের আয় বাড়ানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রসঙ্গক্রমে এসব কথা এসে গেল। কারণ, দেশের শিল্পায়নে ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকের ভ‚মিকা তাৎপর্যপূর্ণ। অগ্রণী ব্যাংক কেবল মুনাফার কথা বিবেচনা করে কাজ করে না। এর মূলে সমাজ সেবাও রয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং
দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনের মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসব কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০,৮৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১২.৮৮ শতাংশ এবং জিডিপির ২.০৯ শতাংশ। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ন, গৃহায়ণ, আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছ গ্রাম, ঘরে ফেরা কর্মসূচি ইত্যাদি। তা ছাড়া রয়েছে বয়স্ক ভাতা, দুস্থ ভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন গণমুখী কর্মসূচি। এসব অর্থ বিতরণের ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। এই সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ নাজমুল হক বলেন, আমাদের কাছে এসব কর্মসূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব কর্মসূচির অর্থ লেনদেনের সময় অগ্রণী ব্যাংক কখনই মুনাফার কথা বিবেচনায় আনে না। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এসব কর্মসূচির আওতায় কাজ করার সময় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কারণ, তারা এসব কর্মসূচির অর্থ লেনদেনের সময় অতি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ পায়। আমি নিজেও সতর্ক থাকি, কোনো অসহায় মানুষ যেন আমার কাছে এসে ফেরত না যায়। তিনি আরও বলন, তৃণমূলের মানুষ তথা কৃষক ও শ্রমিক ১০ টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন এবং বিনা ফি’তে আর্থিক সেবা নিতে পারেন। সরকার আমাদের এসব সেবামূলক কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। এ সব ছাড়া পরিবেশ খাতে উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ। আগে এই ধরনের খাতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ ছিল না। দেশকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকার গ্রিন ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এক্ষেত্রেও যথেষ্ট সহায়ক ভ‚মিকা পালন করছে।

অগ্রগতি
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড সম্পদের গুণগত মান নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংক, আমিন কোর্ট শাখার ইনচার্জ ও জেনারেল ম্যানেজার মোঃ নাজমুল হক বলেন, ২০১৭ সালে অগ্রণী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ৪৯,৪০৫.০১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫৩,০৩৪.১৭ কোটি টাকা। এটা নিশ্চিতভাবেই ব্যাংকের ইতিবাচক দিক। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেশি হয়েছে। ২০১৬ সালে পরিচালন মুনাফা ছিল ১,০১৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩,৫১৬ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধিই প্রমাণ করে ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, সম্মানিত পরিচালকবৃন্দ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নানা রকম চ্যালেঞ্জ সত্তে¡ও ব্যাংক প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ব্যাংকের প্রতি জনগণের ব্যাপক আস্থা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গ্রাহকদের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। এই ব্যাংকের সেবার মান ধনী-গরিব উভয় গ্রাহকের জন্য সমান। অগ্রণী ব্যাংক হচ্ছে জনগণের ব্যাংক। তাই আমরা জনগণের মুখের দিকে তাকিয়ে সেবার আদর্শ নিয়ে কাজ করি। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডে পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন বিজ্ঞ পরিচালকবৃন্দ। যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন পর্ষদ চেয়ারম্যান ও দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত। ব্যাংকে রয়েছে মেধাবী ব্যবস্থাপনা টিম ও এক ঝাঁক চৌকস কর্মী। যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন সুযোগ্য ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম। তাদের সমন্বিত নেতৃত্বে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড অবিরত অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে আমি ধন্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button