সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা বাড়ছে

মাহবুব রেজা রাহিম যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

বিশ্ব নাগরিকের দেশ আমেরিকায় যে সকল বাংলাদেশি আমেরিকান নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশকে অনন্য উঁচুতে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন মাহবুব রেজা রাহিম তাদের অন্যতম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বর্তমানে মাহবুব রেজা রাহিম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউএস সোসাস বুরোয় ফিনিক্স প্রসেসিং সেন্টারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত¦ পালন করছেন। এর আগে তিনি হিউস্টনে এরিয়া ম্যানেজার অব অপারেশনস, ডেনভার রিজিওনাল অফিসে রিজিওনাল ম্যানেজার এবং ডালাস রিজিওনাল সোসাস সেন্টারের রিজিওনাল রিক্রুটিং কোঅর্ডিনেটর হিসেবে ১২টি পশ্চিমা রাজ্যের ১,১০,০০০ মানুষকে চাকরি দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তার কাজের সাফল্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপ বাণিজ্যমন্ত্রী টম গিলম্যানসহ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা উচ্চ প্রশংসা করেছেন। 

আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কৃতী মানুষটির জন্ম জামালপুর শহরের পাথালিয়া গ্রামে এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে। তার পিতা জামালপুর পৌরসভার সাবেক কমিশনার আবদুর রাহিম ও মা জামিলা রাহিম। পৌর কমিশনার হিসেবে আবদুর রাহিম অত্যন্ত পরোপকারী। সাদা মনের মানুষ হিসেবে তার সুনাম সর্বজনবিদিত। 

ছোটবেলা থেকেই মাহবুব রেজা রাহিম প্রাণবন্ত,  চৌকস, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাংগঠনিক মানসিকতার। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাহবুব ছন্দদোলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামালপুরের গুয়াবাড়িয়া সরকারি পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, জামালপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তের ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে পিতার মতো সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়। তিনি বরাবরই আর্তমানবতার সেবায় অংশ নিতেন। তিনি জামালপুর জেলা স্কুলে জুনিয়র রেড ক্রিসেন্ট দলের অধিনায়ক, আশেক মাহমুদ কলেজ যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের দলনেতা ও জামালপুর জেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের প্রতিষ্ঠাতা যুব প্রধান ছিলেন। তিনি জাপান রেডক্রসের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ডাকসু সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে মাহবুব রেজা রাহিম সুশীল নাট্য সম্প্রদায়ের নাট্যকর্মী হিসেবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ঢাকাস্থ জামালপুর জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদের মহাসচিব ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে ঢাকা রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেন। 

য্ক্তুরাষ্ট্রে এসেও মাহবুব রেজা রাহিম বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন। তিনি ১৯৯২ সালে লস এঞ্জেলসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া  গড়ে তোলেন। লস এঞ্জেলস সিটি কলেজে অধ্যয়নকালীন তিনি আরিজোনার ফিনিক্সে আসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ফিনিক্স থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। 

মানবকল্যাণ ও স্বদেশপ্রেমে নিবেদিত মাহবুব রেজা দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফিনিক্স এর প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেনা। তিনি উত্তর আমেরিকা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন-২০০৪ এর আহ্বায়ক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ফোবানার দু’মেয়াদে নির্বাহী সম্পাদক এবং ২০০৬ সালে ফোবানার চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। 

শুধু তাই নয়, সংগঠক মাহবুব ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফোবানার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এটি নিঃসন্দেহে তার প্রতি সেখানকার বাংলাদেশিদের আস্থার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মৈত্রীর সভাপতি। এটি দুই বাংলার গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। তিনি ২১তম বঙ্গমেলা-২০১৯ এর আয়োজক হিসেবে সাফল্যের পরিচয় দেন। 

বাংলাদেশের আলোকিত সন্তান মাহবুব রেজা রাহিমের স্ত্রী রওশন আরা রাহিম (ইতি) তার কাজের অন্যতম প্রেরণাদাত্রী। দু’কন্যা হামিশা রাহিম ও ফাতেমা রাহিম তাদের দুই সৌভাগ্য কন্যা।

স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির মানুষ মাহবুব রেজা রাহিমদের পরিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি মনে করেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রমেই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশি আমেরিকান ও জামালপুরের কৃতী সন্তান মাহবুব রেজা রাহিম বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা বাড়ছে। বিদেশিরা এখন বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। আর এটি সম্ভব হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের সুবাদে। 

আলোকিত সংগঠক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশি আমেরিকানদের প্রিয় মুখ মাহবুব রেজা রাহিম তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির দূত হিসেবে ২০০৭ সালে অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণ পদক ২০১৫ সালে ফিনিক্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ থেকে আজীবন সম্মাননা এবং ২০১৯ সালে ফোবানা আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেন।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button