বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান Deutsche Bank-এ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো নাগরিকের উচ্চপদে সমাসীন দেখে এটি ভেবে নেয়া যায় যে, মেধা ও প্রচেষ্টা মানুষকে ক্রমেই উন্নত অবস্থান এনে দিতে পারে। তার বড় প্রমাণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের নাগরিক মুস্তফা চৌধুরী। তিনি Deutsche Bank-এর Corporate Tech Finance Senior Analyst. তিনি ২০১৭ সাল থেকে অদ্যাবধি Deutsche Bank-এর PMO Senior Analyst-এর দায়িত্বে রয়েছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী মুস্তফা চৌধুরীBirmingham City University থেকে ২০১০-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে Business & Business Law, International Business, Trade and Tax Law বিষয়ে বিএ অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি Aston Business School থেকে ২০১০-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে Finance and Financial Regulation, Banking, Corporate, Finance and Securities law বিষয়ে MSc ডিগ্রি অর্জন করেন।
অদম্য মেধাবী মুস্তফা চৌধুরী ছাত্র জীবন থেকেই পেশা সংশ্লিষ্ট। তিনি ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ মাস ০২ 02 (Telefornica UK)-এর Sales Advisor হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর এই ৫ মাস তিনি Santander Bank NA†Z Personal Banker পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রাহকদের বিজ্ঞ আর্থিক পরামর্শ এবং চমৎকার গ্রাহক সেবা প্রদান করেন। তিনি সম্পদ সুরক্ষা এবং বিনিয়োগের ব্যাপারে গ্রাহকদের সহযোগিতা করেছেন। তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানেও যথাযথ পরামর্শ প্রদান করেছেন।
মুস্তফা চৌধুরী ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত West Midlands Combined Authority’র PMO Scheduling Officer হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এখানে তিনি সিনিয়র প্রজেক্ট কনসালট্যান্ট এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে প্রজেক্টের অর্থনৈতিক চিত্র পর্যালোচনাসহ এর সম্ভাবনা, ঝুঁকি, রিস্ক ম্যানেজার ও ব্যবস্থাপনার হিসাব নিকাশ সবকিছুই অ্যানালাইসিস করতেন। এছাড়া তিনি সিডিউল অ্যানালাইসড, ফিন্যান্সিয়াল মডেলিং এবং রিসোর্সিংয়ের এক্সপার্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজিরও মূল্যায়ন করেছেন।

তিনি ২০১৭ সাল থেকে Deutsche Bank-এর PMO Senior Analyst হিসেবে একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তিনি বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন একজন দক্ষ নির্বাহী হিসেবে ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন। ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর এবং প্রজেক্টে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে নিজ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আত্মপ্রত্যয়ী আলোকিত ব্যাংকার মুস্তফা চৌধুরী প্রযুক্তি ধারার ব্যাংকিংয়ের এক সমুজ্জ্বল তারকা ব্যক্তিত্ব। তাদের কাজ হচ্ছে সর্বোচ্চ মানের কাজের মধ্যে থাকা মেথোডিক্যাল অ্যাপ্রোচ, যুক্তিসঙ্গত চিন্তা এবং সময়জ্ঞান। তিনি মনে করেন, একজন দক্ষ ব্যাংকার শুধু তার প্রাতিষ্ঠানিকতাকেই গুরুত্ব দেন না, তিনি হয়ে ওঠেন দেশ ও দশের। কারণ, একজন দক্ষ ব্যাংকার অর্থনীতির মূল ব্লাড লাইন নিয়ে কাজ করেন। তিনি উপলব্ধি করতে পারেন ব্যবসা-বাণিজ্যের কোন খাতে বিনিয়োগ করলে ভালো হবে।
দূরদর্শী ব্যাংকার মুস্তফা চৌধুরী ঝুঁকি নিতে পিছপা হন না। তিনি বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে আশা পূরণ হবেই। যে কোনো কাজকেই তিনি বিজ্ঞানসম্মতভাবে দেখেন। তিনি মনে করেন, পৃথিবীর সব কিছুই বিজ্ঞানভিত্তিক; সুতরাং কাজ যত দুরূহই হোক, এর সমাধান মিলবেই।
প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যানালাইসিস এবং দক্ষ জন সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে তিনি বেশ চৌকস নির্বাহী। খুব অল্প বয়সেই মুস্তফা চৌধুরী বড় মাপের দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, মুস্তফা চৌধুরী দেশ-বিদেশের ব্যাংকিং খাতে গুণী ও কৃতী ব্যাংকার হিসেবে আলোকিত হবেন। তার সুনামের সঙ্গে মাতৃভূমি বাংলাদেশের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


