সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম
পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে যারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ধরনের ইমেজ বিল্ডিং কার্যক্রম দ্বারা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তাদেরই একজন শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব জাকারিয়া চৌধুরী। তিনি আমেরিকান বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)-এর চেয়ারপার্সন। এটি একটি ফেডারেল ট্রেড মার্ক অর্গানাইজেশন। তিনি ইউএসএবিডি করপোরেশন-এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও এবং এনআরবি বিজনেস এসোসিয়েশন ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট। পরিচিত মহলে জাকারিয়া চৌধুরী জ্যাক নামেই সমধিক পরিচিত। পরিশ্রমী এবং আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব জাকারিয়া চৌধুরী দীর্ঘকাল ধরে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ফোবানার চেয়ারপার্সন পদে নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ লীগ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি আমেরিকার বুকে সমুজ্জ্বল রাখার ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
মেধাবী ও ধীশক্তিসম্পন্ন জাকারিয়া চৌধুুরী ছোটবেলা থেকেই ছাত্র হিসেবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ গঠনমূলক কাজে উৎসাহী ছিলেন। তিনি ফেনী জেলার এলাহীগঞ্জ মমতাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার আবুজর গিফারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
জাকারিয়া চৌধুরী বাংলাদেশের সূর্যসন্তানদের একজন যিনি কর্মগুণে প্রবাসে মাতৃভূমির সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে নিরলস চেষ্টা করে চলেছেন। বাংলাদেশি আমেরিকান জাকারিয়া চৌধুরী অর্থকণ্ঠকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বলেন তা এখানে উপস্থাপন করা হলো

অর্থকণ্ঠ : ফোবানা বাংলাদেশি আমেরিকানদের উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা পালন করছে বলে আপনি মনে করেন?
জাকারিয়া চৌধুরী : ফোবানা নর্থ আমেরিকার বাংলাদেশি আমেরিকানদের সংগঠন হলেও বিশ্বের সকল বাংলাদেশিরই প্রাণের সংগঠনে পরিণত হতে সক্ষম হয়েছে। এর মূল কারণ, প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে এই সংগঠন জন্ম থেকে নিয়ে অদ্যাবধি বাংলাদেশিদের স্বার্থরক্ষা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফোবানা মূলত একটি ফেডারেল ট্রেডমার্ক অর্গানাইজেশন। ইকবাল বাহার চৌধুরী, ড. নূরুন নবীদের মতো জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিদের চিন্তা-চেতনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি বাংলাদেশি কৃষ্টি কালচার এবং মূল্যবোধকে ধারণ করে চলেছে। নতুন প্রজন্মকে আমাদের মূল শেকড় সম্পর্কে জানানো ও তা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ফোবানার ভূমিকা অনেক। শুরুতে যদিও বাংলাদেশ ও বাঙালির কৃষ্টি কালচারের মধ্যে ফোবানা সীমাবদ্ধ ছিল- পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক বলয়ের বাইরে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দেশের ভাবমূর্তিকে সমুজ্জ্বল করাসহ আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার ক্ষেত্রেও ফোবানা কাজ করছে। আশার কথা, ফোবানা অনেকক্ষেত্রেই এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
অর্থকণ্ঠ : পৃথিবীর প্রতিটি সচেতন মানুষই তাদের শেকড় সংস্কৃতিকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে- আপনারাও তা করছেন। অন্যদের তুলনায় আপনাদের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে কি?
জাকারিয়া চৌধুরী : অবশ্যই আমাদের এমন অনেক গর্বিত ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে যা অন্যের নেই। এদেশের মানুষ বৃটিশবিরোধী আন্দোলন করেছে। ঈশা খাঁ, তীতুমীর, সূর্যসেনদের পথ ধরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। যুদ্ধে তিরিশ লাখের অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, দুই লাখের অধিক মা-বোনকে সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এদেশের মানুষের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। সেই যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন সাহসী নেতা আমরা পেয়েছি, খুব কম দেশেই এরকম নেতার জন্ম হয়েছে।
আমাদের রয়েছে মহান শহিদ দিবস- ভাষার মর্যাদা রাখতে আমাদের দেশের মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এজন্যে বাংলাদেশের একুশে ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস। এসব ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আমরা গর্বিত। নতুন প্রজন্মকে এসব ইতিহাস জানানোর লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা পায় ফোবানা। ফোবানা এসব ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাঙালির শেকড়-ঘনিষ্ঠ সংস্কৃতিকে ধারণ করে ফোবানা।

অর্থকণ্ঠ : প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিসহ নানা ধরনের পেশায় জড়িত। বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীরা কতটুকু অবদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছেন?
জাকারিয়া চৌধুরী : অতীতে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ বোঝা মনে করতো। কিন্তু সেই বিপুল জনশক্তি এখন আর রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে নেই বরং আশীর্বাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশে বাংলাদেশিরা অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করছেন। বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ইউএস ডলারেরও বেশি। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক ব্যাংকারসহ উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী হিসেবে আমেরিকায় অনেক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হয়েছেন। মূলধারার রাজনীতিতে, মূলধারার চাকরি এমনকি আমেরিকার হোয়াইট হাউজসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল দায়িত্বে বাংলাদেশিরা কাজ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে, এর পেছনেও প্রবাসীদের রেমিটেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং সিংগাপুর ও মালয়েশিয়াসহ আরও কিছু দেশে বাংলাদেশিদের এক বিশাল অংশ শ্রমিকের কাজ করলেও আমেরিকাসহ উন্নত দেশসমূহে বাংলাদেশিরা সম্মানজনক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। এটি বাংলাদেশের মর্যাদাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।
এ ছাড়া মূলধারার রাজনীতিতে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশিরা উন্নত অবস্থানে রয়েছেন।
অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ বিশ্বের সর্বত্র সুপরিচিত- এ নিয়ে আপনাদের অনুভূতি কি?
জাকারিয়া চৌধুরী : এটি নিয়ে আমাদের গর্ব ও অহংকারের শেষ নেই। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উজ্জ্বল নাম। আমরা চাই ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রাধান্য নিয়ে বিচরণ করুক।
অর্থকণ্ঠ : আপনি আমেরিকায় এনআরবি বিজনেস এসোসিয়েশনেরও প্রেসিডেন্ট। এনআরবিগণ বাংলাদেশের উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছেন?
জাকারিয়া চৌধুরী : একসময় বাংলাদেশে এনআরবিদের সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হতো না। বর্তমান সরকার এনআরবিদের যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। এ সরকার আমাদের সিআইপি হিসেবেও ভূষিত করছে, সম্মানিত করছে; ফলে এনআরবিরা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করছেন, শিল্পে বিনিয়োগ করছেন। এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে এনআরবিদের শেকড় সত্তা যেমন বাংলাদেশ- পাশাপাশি সরকারও তাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ দিচ্ছে। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে এই সুযোগ সুবিধা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং এনআরবিরা আরো অধিক পরিমাণে বিনিয়োগ করবেন।

অর্থকণ্ঠ : ফোবানাকে নিয়ে আপনার ভাবনা বিষয়ে জানতে চাইছি।
জাকারিয়া চৌধুরী : ফোবানা হচ্ছে বিশ্বের বাংলাদেশিদের প্রাণের সংগঠন। আর এটি একটি ছাতা- যেখানে মিলিত আছে অনেক সংগঠন। ফোবানার নেতৃত্ব গড়ে ওঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠিত সংগঠনের নেতৃত্বদের নিয়ে। এখানে নিজেদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিযোগিতাও হয় কে কতটুকু ভূমিকা রাখলো দেশের জন্য- কে কতটা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরেছে ইত্যাদি। আমি ফোবানাকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই, পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নেও কাজ করতে চাই।
অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষ অনেক সময় আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করে- প্রবাসে আপনারা এ ব্যাপারে কতটুকু সচেতন?
জাকারিয়া চৌধুরী : আমি মনে করি- দল যার যার; কিন্তু দেশ এবং দেশের উন্নয়ন সবার। আরেকটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন- ব্যক্তির চেয়ে দল এবং দলের চেয়ে দেশ অনেক বড়। আমরা প্রত্যেকেই যদি এটি মেনে চলি তবে এ ক্ষেত্রে অনেক সমস্যারই সহজ সমাধান সম্ভব।
অর্থকণ্ঠ : আপনি কি ধরনের বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন?
জাকারিয়া চৌধুরী : আমি চাই মুক্তিযুদ্ধ চেতনার আলোকে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা লাভ করুক- যে দেশ সুখী, সমৃদ্ধ এবং মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের মানুষের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অর্থকণ্ঠ : ফোবানায় অনেকগুলো সংগঠন। এটা কি আপনাদের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করে?
জাকারিয়া চৌধুরী : সংগঠন যত বেশি হয় আমাদের জন্য ততই মঙ্গল।
অর্থকণ্ঠ : ফোবানা কনভেনশনের এই বছরের পরিকল্পনা কি?
জাকারিয়া চৌধুরী : গতবছর প্যান্ডেমিকের কারণে ফিজিক্যাল কনভেনশন বাতিল করতে হয়েছিল। তবে ভার্চুয়াল কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভার্চুয়াল কনভেনশনে মোর দ্যান হাফ মিলিয়ন পিপল অংশগ্রহণ করেছিলেন। এবার আমরা ফিজিক্যালি সম্মেলনটি করতে যাচ্ছি। এটি হবে বিশ্বের অন্যতম একটি ভেন্যু ওয়াশিংটনের গে লট কনভেনশন সেন্টারে। সম্মেলনের স্বাগতিক সংগঠন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি’। আমাদের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জি আই রাসেল, মেম্বার সেক্রেটারি শিব্বির আহমেদ এবং হোস্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন ইনারা ইসলাম। ৩৫ বছর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফোবানা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেখানেই এবার ৩৫তম কনভেনশন হচ্ছে। এতে ফোবানার প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যাঁরা এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন- ইকবাল বাহার চৌধুরী, ওয়াহেদ হোসাইনী, নুরুল আমীন চৌধুরী, ড. নুরুন নবীসহ আরো অনেকে উপস্থিত থাকবেন। এটা ফোবানার ইতিহাসে একটা মাইলফলক সম্মেলন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন নেয়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আশা করি, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে আমেরিকায় ভ্যাকসিন নেয়া শেষ হয়ে যাবে। আমাদের আশা এবং বিশ্বাস, একটি সুন্দর পরিবেশে একটি চমৎকার সম্মেলন উপহার দিতে পারব।
অর্থকণ্ঠ : কবে হবে?
জাকারিয়া চৌধুরী : এ বছরের সেপ্টেম্বরের ৩, ৪ ও ৫ তারিখ লেবার ডে উইকেন্ডে। তিন দিনের এই সম্মেলনে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উদযাপনসহ বেশ কিছু পর্ব থাকবে।
অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশ থেকে কারা আমন্ত্রণ পান?
জাকারিয়া চৌধুরী : ফোবানার নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখান থেকে যারা পারেন উপস্থিত থাকেন। এছাড়া সংস্কৃতি অঙ্গন এবং দেশের বুদ্ধিজীবী মহল থেকে অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যেমন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের।
অর্থকন্ঠ : কোভিড-১৯ এর এই বিপর্যয় মুহূর্তে ফোবানা কি ধরনের সহায়তা করেছে?
জাকারিয়া চৌধুরী : আপনারা জানেন ফোবানা একটি পুরনো সংগঠন। ফোবানা আগে মানবিক কার্যক্রমে তেমন সম্পৃক্ত না থাকলেও, গত বছর কোভিড-১৯ এর সংক্রমণকালে ফোবানা ব্যাপকভাবে মানবিক কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যা ফোবানার কেন্দ্রীয় কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। উত্তর আমেরিকায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত শহরগুলোতে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আইসোলেশনে ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন সেই পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে আমরা তাদেরকে মানবিক সহায়তা প্রদান করি। বিশেষ করে- তাদের এক মাসের খাদ্যসামগ্রী দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। তেমনি ভাবে বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে আমরা দাঁড়াই, যা বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ স্কাউট, লায়ন্স ক্লাব, রোটারি ক্লাব, ছায়াতল, মানুষ মানুষের জন্য এই ধরনের মানবিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ফোবানার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কোভিড-১৯ আক্রান্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অর্থকন্ঠ : ফোবানা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কি ধরনের সহায়তা করে?
জাকারিয়া চৌধুরী : প্রতিবছর ফোবানা সম্মেলনে বাংলাদেশের এবং আমেরিকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ফোবানার বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সেমিনার, কখনো বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ বিভিন্ন নামে এক ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ফোবানা সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং উত্তর আমেরিকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচিত হয়। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাজারে কীভাবে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি করতে পারেন। ঠিক তেমনিভাবে প্রবাসী উদ্যোক্তারা কীভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন- সেসব বিষয়ে এই সেমিনারে এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের কাজ হয়ে থাকে। এবারের বিষয়টি আমরা ব্যাপকভাবে করতে যাচ্ছি, এবার ফোবানা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার নামে একটা বড় সেগমেন্ট থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাসহ আমেরিকা এবং কানাডার ব্যবসায়ীরাও যোগদান করবেন। সেখানে তাদের মধ্যে পারস্পরিক একটা সম্পর্ক স্থাপিত হবে যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অবশ্যই লাভবান এবং উপকৃত হবে।



