সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের যে সকল উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী প্রবাস জীবনেও ব্যবসায়িকভাবে প্রতিষ্ঠালাভে সক্ষম হয়েছেন- তাদেরই একজন ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত রেদওয়ান চৌধুরী। তিনি আমেরিকার শীর্ষ পর্যায়ের টেকনোলজি কনসাল্টিং ফার্ম AA Global Solutions (AAGS) এর প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি একইসাথে দেশব্যাপী সুপরিচিত বিশিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্ট ‘Foody’ এর সিইও। এটি ‘একটি চেইন রেস্টুরেন্ট’ যে প্রতিষ্ঠান অতিদ্রুত চাহিদা মোতাবেক খাবার সরবরাহ করে থাকে। আলোকিত ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব রেদওয়ান চৌধুরী সামাজিক কর্মকা-ের দিক থেকেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত UDION FOUNDATION এর বোর্ডের চেয়ারপার্সন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম একটি সমাজসেবী সংগঠন যারা Underprivileged Children এবং তাদের পরিবারদের সহায়তা প্রদান করে। বিশেষ করে শিশুশ্রম বন্ধসহ শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার জন্যে কাজ করছে এই সংগঠন। তিনি Departmental of the Treasuring এর সাবেক কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার, ইউনাইটেড স্টেটস নেভির সাবেক কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার, AMC গ্রুপের সাবেক সিইও। সুদর্শন, সুবক্তা এবং মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ রেদওয়ান চৌধুরী একজন সুলেখক, এক্টিভিস্ট এবং সামাজিক কল্যাণ উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। তিনি Jacksonville Mayor Asian American Advisory Board (MAAAB) এর চেয়ারপার্সন এবং Jacksonville Public Grant (PSG) কমিশনের কাউন্সিল মেম্বার। এছাড়াও তিনি অনেক লাভজনক এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সামাজিক কল্যাণ চিন্তার অধিকারী। ছাত্রবয়সেই অন্যের দুঃখে নিজেকে জড়িয়ে নিতেন এবং তার উপকার করার চেষ্টা করতেন। সময়ের গতিপ্রকৃতিতে তার সেই সুচিন্তিত মনমানসিকতা তাকে একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ব্যক্তিত্বের খ্যাতি এনে দিয়েছে। এসব সামাজিক কর্মকা-ের স্বীকৃতিস্বরূপ রেদওয়ান চৌধুরী অনেক পদক ও সম্মাননা লাভ করেছেন- যার মাধ্যমে তিনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছেন।

২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লাইফ টাইম সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ‘Call to Service’ অর্জন করেন। এর মাধ্যমে শুধু তিনিই পদক লাভ করেননি- তার এই প্রাপ্তি বাংলাদেশকেও সমুজ্জ্বল ভাবমূর্তি এনে দিয়েছে।
আমেরিকার উল্লেখযোগ্য সংস্থা EL-Beth Development Centre কর্তৃক Diversity and Inclusion Award প্রাপ্তিতে তাকে মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল এশিয়ান আমেরিকান হিসেবে মর্যাদাবান করেছে। Indo-US Chamber of Commerce কর্তৃক NEFL অর্জনের ফলে তিনি ২০১৫ সালে Onelax Humanitarian Award এর জন্যে মনোনীত হন।
এভাবেই তার সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বীকৃতিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পদক ও সম্মাননাসহ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করছেন। এছাড়া বিভিন্নমুখী ব্যবসায়িক সাফল্য, উদ্যোগ, ব্যবসায়িক দক্ষতা তাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অধিক সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি শিক্ষা সহায়তা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে নেতৃত্ব দিতে পারছেন- যা তার হৃদয় উৎসারিত গুণাবলির কারণে সম্ভব হচ্ছে। একজন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হিসেবে তার মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম বিচারশক্তি এবং মানুষ হিসেবে তার মধ্যে রয়েছে অভূতপূর্ব মানবপ্রীতি যা তাকে সাধারণ থেকে অসাধারণে রূপান্তরিত করেছে।
রেদওয়ান চৌধুরী একজন গুণী ও স্বনামধন্য লেখক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১০টির মতো টেক্সট বুক রচনা করেছেন যার মধ্যে ২টি বই বাংলাদেশের বেসরকারি স্কুলের পাঠ্যসূচিতে রয়েছে। তিনি কবিতাও লিখেন এবং তার একটি কবিতার বই এবং ২৫টি আর্টিকেল নিয়ে একটি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে।

গুণী ও প্রজ্ঞাবান এই ব্যক্তিত্ব বিশ্বাস করেন- দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা, শোষণমুক্ত অবস্থানে উঠে আসা ও উন্নয়ন লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের জন্যে শিক্ষা লাভ হচ্ছে সবচেয়ে ভালো পথ। তিনি তার এই দর্শন চিন্তা দেশ-বিদেশের অসংখ্য সেমিনার ও কনফারেন্সে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমার চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড কুল কিলিং মিশন হচ্ছে- এশিয়ান আমেরিকানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা রাখার বিষয়টি। তার চাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্যে সমান সুযোগ এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা লাভ হোক।
তার স্ত্রী Hz Radwan Hena একজন শিক্ষিত নারী। করোনাভাইরাস সংক্রমণ কালে রেদওয়ান চৌধুরী দুস্থ এবং অসহায় মানুষদের মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


