সাক্ষাৎকার
মোহাম্মদ আলমগীর
ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার
উত্তর আমেরিকা
প্রবাসে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা বাংলাদেশকে অনন্য এক উঁচুতে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁদেরই একজন ওয়াশিংটন প্রবাসী মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি উত্তর আমেরিকার বৃহত্তর বাঙালি সমাজের কাছে অতি পরিচিত এবং নিবেদিতপ্রাণ একজন সমাজকর্মী। ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার মোহাম্মদ আলমগীর অভিবাসন বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব যিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকায় এই পেশায় নিয়োজিত। তিনি অসংখ্য মানুষের স্থায়ী অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে কয়েক হাজার পরিবারের স্থায়ী বসবাস নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে নিশ্চিত করেছেন একটি সুন্দর আগামী রচনার। একই সাথে সামাজিক সাংগঠনিক পরিম-লে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে তিনি স্থাপন করেছেন অনেক মাইলফলক। প্রশংসা লাভ করেছেন নিজের বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সাফল্যজনক কাজের জন্যে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান মোহাম্মদ আলমগীর ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি (বিএজিডিসি)’র সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান উপদেষ্টা। তিনি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় সংগঠন ফোবানা’র প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান, লিগ্যাল কমিটির চেয়ারম্যান এবং ২০১৬ সালে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সফল ফোবানা সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বে এই সংগঠন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের পাশাপাশি অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মোহাম্মদ আলমগীর একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী। তাঁর রয়েছে পেশার প্রতি গভীর আন্তরিকতা। আইনজীবী হিসেবে তিনি দক্ষতার সাথে গ্রাহকদের সমস্যার সমাধানে কাজ করেন। তিনি বলেন, যখন কোনো প্রবাসী বাংলাদেশিকে আইনের মাধ্যমে অভিবাসন করতে সমর্থ হন নিজেকে ধন্য মনে করেন, প্রশান্তি লাভ করেন। তিনি মনে করেন, প্রবাসে একটি বাংলাদেশি পরিবারের অভিবাসন হওয়ার অর্থ তার পরবর্তী বংশধর বাংলাদেশের জন্যে অ্যাসেটে পরিণত হওয়া। এ ব্যাপারে তিনি সব সময় সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকেন। তিনি জানান, প্রবাসে বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতি তার রয়েছে শেকড়-ঘনিষ্ঠ দায়বদ্ধতা।

বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ আলমগীর আমেরিকায় বাংলাদেশ কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টিকে বরাবরই গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, প্রতিটি সদস্যকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের দেশ ও সমাজের কথা ভাবতে হবে। ফোবানা’র মধ্যে একবার দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি হলে তিনি অন্যান্য সহকর্মীসহ তা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন- ফলে ফোবানায় নেতৃত্বের বিভক্তি রোধ সম্ভব হয়েছে। তিনি ফোবানায় নীতি এবং আইনগত দিক নিশ্চিত রাখার জন্যে দৃঢ় ভূমিকা পালন করছেন এবং অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, ফোবানা প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য সংগঠন।
মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ২০২০ সালের ফোবানা সম্মেলন এবং বাৎসরিক সাধারণ নির্বাচন দুটোই হয়েছে ভার্চুয়ালি। বর্তমান করোনা দুর্যোগের প্রেক্ষিতে এটিই ছিল উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ফোবানা’র সব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মনে করেন, শক্তিশালী এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব ফোবানাকে বাংলাদেশিদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও কর্মসূচি উপহার দিতে পারবে।
মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গ্লোবাল ওয়ার্ল্ডে এক দেশের সাথে অন্য দেশের, এক সমাজের সঙ্গে অন্য সমাজের দারুণ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। সে জন্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্যে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ বিশেষ করে প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেন। মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ডিজিটাল শিক্ষায় অধিক শিক্ষিত হতে হবে। সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রশ্নে তিনি যুব নেতৃত্ব গঠন করা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা, প্রবাসীদের পেশাগত সাহায্য করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যকরী নেটওয়ার্ক তৈরির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ এবং বাঙালি সংস্কৃতির মূল বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যের উপর আলোকপাত করা জরুরি মনে করেন তিনি।
উদ্যমী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলমগীর বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


