অর্থনীতিপ্রতিবেদন

বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্যে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

 

মোস্তফা কামাল মাহমুদ

প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জর্জিয়া, ইউএসএ

 

আমেরিকায় বসবাস করেও যেসকল বাংলাদেশি আমেরিকান মাতৃভূমি বাংলাদেশকে হৃদয়ে লালন করেন- তাদেরই একজন আলোকিত তরুণ মোস্তফা কামাল মাহমুদ। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত মোস্তফা কামাল মাহমুদের দুই চোখের একটি আটলান্টা, আরেকটি বাংলাদেশ। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট।

জর্জিয়ার বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল মাহমুদ Atlanta Citiend Limo LLC-এর সিইও এবং NY Enterprise International LLC-এর কো চেয়ারম্যান।

আত্মপ্রত্যয়ী ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল মাহমুদের জন্ম ১ জানুয়ারি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার মাইজদী কোর্টের এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার পিতা মোহাম্মদ আলী এবং মাতা মাসুমা খাতুন। ছোটবেলা থেকে বুদ্ধিদীপ্ত মোস্তফা কামাল মাহমুদ ছাত্র হিসেবে বরাবরই ছিলেন মেধাবী। তিনি নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ২০০০ সালে অ্যাকাউন্টিংয়ে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ওই বছরেই তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় আসেন। 

মেধাবী ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল মাহমুদ আমেরিকায় এসে শুধু নিজের বিষয় নিয়েই ভাবেননি- বাংলাদেশ কমিউনিটির সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন সম্ভাবনার বিষয়েও ভেবেছেন। সে কারণেই তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকা-ের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও কমিউনিটির প্রতি তার দরদি মানসিকতা লক্ষ্য করেই এখানকার বাংলাদেশিরা তাকে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে আপসহীন ভূমিকা পালন করছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উচ্চারণ করেন- আমি জর্জিয়ার আটলান্টার একজন ব্যবসায়ী। আই লাভ আটলান্টা। একই সাথে আমি মাতৃভূমি বাংলাদেশকেও গভীরভাবে ভালোবাসি।

একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি ব্যবসা ক্ষেত্রেও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেন। তিনি মনে করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের সেবা করা সম্ভব। তিনি ২০০০ সাল থেকে আটলান্টা সিটিতে বসবাস করছেন।

বাংলাদেশ কমিউনিটির উন্নয়ন বন্ধু মোস্তফা কামাল মাহমুদের স্ত্রী নাহিদ ইয়াসমিন। এই দম্পতি তিন সন্তানের গর্বিত জনক-জননী। ছেলেরা হচ্ছেন- Muntakim Mahmud Zeenan, Abrar Mahmud Innan এবং মেয়ে Isra Mahmud Almira.

 

মোস্তফা কামাল মাহমুদ নিজে যেমন মানবদরদি, তেমনি সন্তানদেরও সেভাবে গড়ে তুলছেন। কথা প্রসঙ্গে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল মাহমুদ বললেন, আমরা যারা প্রবাসে আছি তাদের অনেকের মধ্যেই রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে- এটা ঠিক; কিন্তু বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থে সবাই এক। এখানে কোনো বিভাজন নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি, আমরা যেখানেই থাকি না কেন আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা যাদের জন্ম বিদেশে তারাও যেন তাদের পূর্বপুরুষের জন্মস্থানকে সম্মান করে- সেই সাংস্কৃতিক আবহ তাদের মধ্যে রোপণ করতে হবে। এজন্যে তারা জর্জিয়ায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মাধ্যমে ভাষা শহীদ দিবস, মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস এবং বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখসহ অন্যান্য দিবস পালন করেন।

 

মোস্তফা কামাল মাহমুদ মনে করেন, প্রবাসীরা শ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা তাদের আয়ের একটা বড় অংশ রেমিটেন্স আকারে দেশে প্রেরণ করেন; সেই রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে। তিনি বলেন, এই মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার যে কোনো অপব্যবহার রোধ করতে হবে। তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় যখন দেখি পুকুর খনন অথবা অন্য কোনো বিষয়ে প্রশিক্ষণের নামে একশ্রেণির আমলা লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যাচ্ছে, তখন সত্যিই শঙ্কিত হতে হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্যে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল- সাম্প্রদায়িকতাবিহীন সুশাসনের একটি গণতান্ত্রিক সুখী বাংলাদেশ। এই চেতনা প্রতিষ্ঠায় সকল মহলকে দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button