সব ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্যাপাবল জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবো ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। আমরা মনে করি, পিপিপি কনসেপ্ট এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাহত হবে না।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি ২০তম অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং ২৫তম সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অনলাইনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পিপিপি থেকে সরকারের বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের তো প্রকল্প হচ্ছেই। পিপিপি কনসেপ্ট আমরা এখানে ভালোভাবে আইডিয়া নিতে পারিনি এটা সত্যি। তারপরও কাজ শুরু হয়েছে। যৌথভাবে শুরু করলে এ সময়টা দিতে হবে। এসব বিষয় আমাদের ফেইস করতে হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলা করে আমরা এগিয়ে যাবো। এখন আমাদের হাতে টাকা আছে, নিজেরা ব্যয় করছি। কিন্তু আমরা চাই বিদেশি বিনিয়োগ। যত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারব ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। তিনি বলেন, প্রথমদিকে আমরা পারিনি কারণ আমাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না। ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলতে ফিজিক্যাল নন-ফিজিক্যাল বোথ। এখন আমরা সব ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জন্য ক্যাপাবল।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় ৫৯ দশমিক ৮৭ একর জমির উপর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) আওতায় প্রস্তাবিত ‘কনস্ট্রাকশন অব লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল’ প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, ইনিশিয়াল স্টেজে যে ধ্যান-ধারণা নিয়ে প্রকল্পটি করা হয়েছিল পরবর্তীতে দেখা গেছে প্রকল্পটি সেভাবে করলে সময়ের সাথে সাথে চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, এখানেও চাহিদা বেড়ে গেছে। এখানে যে পরিমাণ জায়গা সেগুলোকে যদি ব্যবহার করি তাহলে আমরা চাহিদা মেটাতে পারব না। সেজন্য প্রায় সময় কিছু কিছু প্রকল্প এভাবে বাদ দিতে হয়।
বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবগুলো হলো : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের বছরব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাপনী ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম নিয়োগ, নগরসজ্জা এবং দেশে-বিদেশে ওয়ার্কশপ, সেমিনার, কনফারেন্স, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রকাশনা, ভিডিও, ডকুমেন্টারি, এলইডি স্ক্রিন স্থাপন এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সেবা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টারের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ওরাকল ক্লাউড ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

এক বছরে কোটিপতি বেড়েছে ১১৬৪৭ জন
এক বছরে (মার্চ ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত) দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ৬৪৭ জন। কোটিপতি বৃদ্ধির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর সময় দেশে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫ জন। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ২৭২ জনে। করোনাকালীন এক বছরে কোটিপতি বেড়েছে ১১ হাজার ৬৪৭ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ সময়ে অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দেশে কোটিপতি বেড়েছিল ৬ হাজার ৩৪৯ জন। পরের বছর এসে তা এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, এক কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের মার্চে ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার আমানতকারী হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২২৯টিতে। আগের বছর মার্চে যা ছিল ৬৪ হাজার ৭২৬টি। এক বছরের ব্যবধানে ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ১৫৬টি।
একই সময়ে ৫ কোটি ১ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৯৯টিতে। ১০ কোটি ১ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ৩৪৪৬টি। ১৫ কোটি ১ টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা আমানতের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৬৯৩টি। ২০ কোটি ১ টাকা থেকে ২৫ কোটি টাকা আমানতের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৮১টি। ২৫ কোটি ১ টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা আমানতের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৭৬৬টি। ৩০ কোটি ১ টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকা আমানতের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩৮৮টি। ৩৫ কোটি ১ টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২৯৬টি। ৪০ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা আমানতের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫০৪টি। ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানতধারী অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭০টি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৭টি অ্যাকাউন্টে জমা আমানতের পরিমাণ ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।৩
অর্থকণ্ঠ ডেস্ক


