ইফতি আহমেদ
মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান
ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও
রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপ
বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া যে সকল কৃতী সন্তান মেধা ও কঠোর শ্রম দিয়ে সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাদেরই একজন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। তিনি অর্থকণ্ঠ প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অনার্স পরীক্ষা দিয়েই বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে জীবনের প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ দিই মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে, ভাবতেও পারিনি চাকরিটা ইন্টারভিউতে এত সহজে হয়ে যাবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০০৪ সালে প্রথম ক্যারিয়ার শুরু করি, আর এক বছরের মধ্যেই কেবলমাত্র দক্ষতা ও পরিশ্রম দিয়ে মিলে গেল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে সরাসরি স্থায়ী কর্মকর্তার কাজ। পরের বছরই ব্যাংকের বাংলাদেশ ও এশিয়াটিক জোনের সেরা বিক্রয় প্রতিনিধি নির্বাচিত হই। আমি এখনো গর্ব ও দৃঢ়ভাবে বলি, বিক্রয় ও বিপণনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক আমাকে যা শিখিয়েছে, তার ফলেই আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে মার্কেটিং ও সেলস বিভাগে প্রবেশ করলাম ২০০৮ সালে। জীবনের প্রথম বেতন ছিল ৩,৫০০ টাকা। আর হেড অব সেলস ও ডিরেক্টর মার্কেটিং হিসেবে দীর্ঘ চাকরি জীবনের সমাপনী টানি ২০১৭ সালে ৩,৫০,০০০ টাকা মাসিক বেতন অর্জনের মাধ্যমে।’ এদেশে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে এবং নতুন করে নতুন আঙ্গিকে নতুন কিছু করার স্বপ্ন থেকেই রিয়েল এস্টেট সেক্টরে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

আরিফুজ্জামানের পিতা আবুল বাসার একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সরকারি অডিট অফিসার ছিলেন। তিনি ২০০১ সালে ইন্তেকাল করেন। মা মিসেস নূরজাহান বেগম বহু যত্নে আরিফুজ্জামান ও তিন ছেলেকে শিক্ষিত ও মানুষের মতো মানুষ করে তোলেন। আরিফুজ্জামান ধানমন্ডি সরকারি বয়েজ হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এইচএসসি পাস করেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কৃতিত্বের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিসহ মার্কেটিংয়ের উপর এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি রিয়েল এস্টেট ও প্রপার্টি ম্যানেজমেন্টের উপর পিএইচডি করছেন।
আরিফুজ্জামান বলেন- ‘বর্তমানে রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও হিসেবে কাজ করছি। আর সি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির ব্যানারে কেরানীগঞ্জে ‘আর সি মায়া কানন’ নামে আবাসন প্রকল্প এবং পূর্বাচলের নিকটে ‘আর সি রিভারী ভিলেজ’ নামে পেশাভিত্তিক আরেকটি আবাসন প্রকল্পের কাজ করছি। এছাড়াও আর সি হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যানারে আমরা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘প্রিয়জন গৃহায়ন প্রকল্প’, ‘বন্ধুজন আবাসন’ নামক প্রকল্প এবং ঢাকা, সাভার, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় রেসিডেন্সিয়াল ও কমার্শিয়াল অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প রয়েছে, যেখানে সব ধরনের মানুষের কথা বিবেচনা করেই প্রকল্পগুলোকে সাজানো হচ্ছে। এগিয়ে চলেছে দেশ, এগিয়ে যাক রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপ।’
এছাড়াও, মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ঢাকা বিভাগের (১৩টি জেলার) সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ঢাকা ডেভেলপার্স অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ (ডি. ডি.-রেগ) এর প্রতিষ্ঠাতা স্থায়ী সদস্য সহ যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই ও এমসিসিআই-এর মতো ব্যবসায়িক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার পিতা মরহুম আবুল বাসারের নামে গড়া ফাউন্ডেশন থেকে করোনা মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অগণিত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে তাদের শুভেচ্ছা উপহার। আবুল বাসার ফাউন্ডেশন সমাজের অসহায় মানুষকে দেখাচ্ছে আলোর নতুন পথ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি ব্যবস্থা করেছেন উপবৃত্তি এবং কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে। এ সম্পর্কে আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমি চাই আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আবুল বাসার ফাউন্ডেশনকে নিয়ে কাজ করে যেতে। আমার স্বপ্ন এদেশের মানুষ সবাই সবার প্রতি সহমর্মিতা দেখাবে। বিত্তবান ও বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে কাজের আগ্রহ দেখিয়েছে।’

ভবিষ্যতে তারা পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশুনার খরচ বহন করবেন। তারা বিয়ে উপযুক্ত অসচ্ছল পরিবারের মেয়েকে গোপনীয়তা মেনে বিয়ের খরচ দিয়ে সহযোগিতা করবেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুস্থ ও সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তাদের।
জনাব আরিফুজ্জামান তরুণদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলেন, ‘চাকরির জন্য চাকরি’ না করে দক্ষ কর্মজীবী হওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন ‘রেসডা’ রিয়েল এস্টেট স্কীল ডেভেলপমেন্ট একাডেমী। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে তার ভালো লাগা ছিল, সঙ্গে অদম্য মনোবল। সেটা ভালোভাবে রপ্ত করেছেন বলেই হয়তো তিনি তার কাক্সিক্ষত জায়গায় শক্ত আসন গড়তে পেরেছেন। বর্তমানে এই সেক্টরই নিজের দক্ষতার বহি:প্রকাশের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম এবং দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে একটি বড় কর্মীবান্ধব খাত।


