ড. শাহ জহির আহমেদ, চেয়ারম্যান, শাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটস এবং সাউথইস্ট ইন্টারন্যাশনাল
যে সকল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও পরামর্শক বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের মানুষদের বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে মাতৃভূমির ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করছেন তাদেরই একজন ড. শাহ জহির আহমেদ। তিনি Shah & Associates এবং Southeast International-এর চেয়ারম্যান। তিনি কানাডায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের প্রিয় স্বজন ড. শাহ জহির আহমেদ। তিনি ১৯৯০ সালের শেষ দিকে কানাডায় যান এবং দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানুষের আচার-আচরণ, আইন ও বিচারিক স্বাধীনতা ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ হয়েই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা নেন। এর পর তিনি বাংলাদেশের যারা সেখানে যেতে ও বসবাসে আগ্রহী তাদেরকে সহযোগিতার জন্যে শাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কানাডার ইমিগ্রেশন আইন বিষয়ে চর্চা করেন এবং জানতে পারেন বিদেশি অভিবাসনে কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা এর মধ্যে রয়েছে। এসব জানার পর তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন সাউথইস্ট ইন্টারন্যাশনাল- যা শাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। চৌকস এবং বুদ্ধিমান এই ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠান দু’টির মাধ্যমে অসংখ্য বাংলাদেশিকে কানাডায় অভিবাসনে সহযোগিতা করেছেন এবং এখনো তা অব্যাহত আছে। প্রথম দিকে অনেকেই বিশ্বাস করতেন না যে- কানাডায় ইমিগ্রেশনের অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শুরুতে তিনি নিজে উৎসাহীদের আবেদনপত্র তৈরি থেকে শুরু করে তাদের আইইএলটিএস পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা প্রদান করতেন। এটি তাদের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক সহায়ক হতো। এ জন্যে তিনি ঢাকায় সেমিনারের আয়োজন করতেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সামনে কানাডার ইমিগ্রেশনের নিয়মাবলী তুলে ধরতেন। শুরুতে তাকে একাই অনেক পরিশ্রম ও সংগ্রাম করতে হয়েছে। টরেন্টোতে তিনি প্রচুর অধ্যবসায় করেছেন, অনেক হেঁটেছেন নিজে সফল হতে এবং বাংলাদেশের মানুষকে এমন একটি সুন্দর দেশে নিয়ে আসার জন্যে। ২৫ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি এখন সফল এবং প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হয়েছেন। জহির আহমেদ এবং তার টিমের কঠোর পরিশ্রমেই আজ তাদের প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটস এবং সাউথইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইমিগ্রেশন জগতের এক বিশ্বস্ত নামে প্রতিষ্ঠালাভে সক্ষম হয়েছে।
শাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটসের চেয়ারম্যান ড. শাহ জহির আহমেদ জানান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যে কানাডায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সেখানে স্থায়ী অধিবাসী হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, কানাডার ইনভেস্টর প্রোগ্রামের আওতায় যাদের বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি টাকার সহায় সম্পদ আছে তারাই এ গ্রোগ্রামের আওতায় অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারসহ উন্নত এই দেশের নাগরিক হতে পারবেন। এই সাড়ে তিন কোটি টাকা কানাডায় বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। সম্পদের দালিলিক প্রমাণাদি থাকলেই চলবে।
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে- কেন কানাডায় স্থায়ী বসবাস করতে চাইবেন এবং অভিবাসী হবেন? এর কারণ জাতিসংঘের মূল্যায়নে উত্তর আমেরিকার এই দেশটি বসবাসের জন্যে পৃথিবীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। জীবনযাত্রার মান সর্বোন্নত, বিশ্ববিদ্যালয় লেভেল পর্যন্ত অবৈতনিক উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ, নায়াগ্রা জলপ্রপাতের মতো নয়নাভিরাম দৃশ্যরাজি সম্বলিত একটি উন্নত কালচার সমৃদ্ধ দেশ। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ মাত্রই নিরাপত্তা চায়, আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা চায়। এখানে তা আছে। এজন্যে এই সুযোগ সৃষ্টির পর পৃথিবীর বহু দেশের মানুষ দীর্ঘ লাইন দিয়েছে কানাডার অভিবাসী হবার জন্যে।
কানাডা আয়তনের দিক থেকে বিশাল, ১০ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার; সে তুলনায় জনসংখ্যা মাত্র তিন কোটির কিছু বেশি। কানাডায় ইমিগ্রেশনের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোক নতুন করে ইমিগ্র্যান্ট হচ্ছেন। মাত্র ৮ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে বদলে ফেলছেন নিজের পৃথিবী। শুধু তৃতীয় বিশ্বের মানুষই নয়- ধনী দেশের অধিবাসীদের অনেকেই এই উন্নত দেশের ইমিগ্র্যান্ট হয়ে নিশ্চিত জীবনের নিশ্চয়তা লাভ করছে। ইনভেস্টর, এন্টারপ্রেনর, সেলফ এমপ্লয়েড এবং উল্লেখযোগ্য পেশার যে কোনো একটিতে দক্ষ হলে ইমিগ্র্যান্ট হওয়া যায় কানাডার। তবে সেই কাজটিই অতি দ্রুততা ও বিশ্বস্ততার সাথে করে দিচ্ছে ‘সাউথইস্ট ইন্টারন্যাশনাল’। এটি একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা এই কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে না। ড. জহির আরো বলেন, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম এই দেশটির নিরাপদ সমাজ, চমৎকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সবার জন্যে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, সুসংহত ব্যাংকিং পদ্ধতি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক উচ্চ মানের শিক্ষা, গতিময় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সুবিধা সর্বজনবিদিত।
কানাডাকে মূলত ‘অভিবাসীদের দেশ’ বলা হয়। কানাডার অভিবাসীরা সমানভাবে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস করছেন। কানাডা পৃথিবীর ধনী দেশগুলোর সংগঠন জি-৮ গ্রুপের সদস্য। জাতি হিসেবে কানাডিয়ানরা সবচেয়ে উচ্চ শিক্ষিত। ব্যবসা করার জন্যে কানাডা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো দেশ। এ দেশের নিজস্ব সম্পদতো আছেই, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এই দেশটির সবচে’ বড় ব্যবসায়িক পার্টনার। উত্তর আমেরিকা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের কারণে ৫০ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই এলাকায় ব্যবসা করার সহজ সুযোগও রয়েছে। ‘ইনভেস্টর প্রোগ্রামে’ সেই সকল ব্যবসায়ীই আবেদন করতে পারেন, যাদের ৮ লাখ কানাডিয়ান ডলারের সহায় সম্পদ আছে, যিনি ঋণসহ অথবা ঋণ ব্যতিরেকে ৪ লাখ কানাডিয়ান ডলার ৫ বছরের জন্যে কানাডায় বিনিয়োগে আগ্রহী এবং যাদের ৫ বছরের সফল ব্যবসার অভিজ্ঞতা রয়েছে। উল্লেখ্য, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সম্পত্তি সার্বিকভাবে মোট সম্পদের মূল্যায়ন হিসাবে ধরা হবে।

নতুন অভিবাসন আইনে বয়সের সর্বোচ্চ সীমা ৪৪ থেকে বাড়িয়ে ৪৯ বছর করা হয়েছে। নতুন আইনে নির্ভরশীল সদস্যের বয়স ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২২ করা হয়েছে। ইনভেস্টর প্রোগ্রামে পাস মার্ক ৩৫। একজন আবেদনকারী ৫ বছর সফল ব্যবসা পরিচালনার সুবাদে ৩৫ নম্বর পেতে পারেন।
ইনভেস্টর প্রোগ্রামে কানাডায় অভিবাসনের জন্যে অধিক বয়স, কম শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা ইংরেজি ভাষায় কম পারদর্শিতা একজন সফল ব্যবসায়ীর জন্যে ইমিগ্র্যান্ট হতে কোনো সমস্যাই হবে না। আবেদনের ফাইল নির্ভুল হলে ৮ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। সাউথইস্ট ইন্টারন্যাশনাল এ ক্ষেত্রে নিন্মোক্ত বেশ কিছু বিশেষ সার্ভিস প্রদান করে।
ক. আর্থিক সহায়তা : অভিবাসী হওয়ার আবেদনের জন্য নির্ধারিত ৪ লাখ ডলার কানাডার সরকারকে দেওয়ার শর্ত পূরণের জন্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
খ. ফাইল রিভিউ : ইনভেস্টর প্রোগ্রামে আবেদনকারীদের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে জমা দেওয়া হয়। এর জন্য কোনো প্রকার ফি নেওয়া হয় না।
গ. আবেদনকারীদের ইনভেস্টর ক্যাটাগরিতে ইন্টারভিউ দেওয়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করে। ক্লাস নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ফি নেওয়া হয় না।
বাংলাদেশের গর্র্বিত সন্তান ড. শাহ জহির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে যত বেশি মানুষ কানাডায় অভিবাসী হয়ে আসবে দেশের অর্থনীতি ততোধিক সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশের সাথে কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সম্পর্ক তত সুদৃঢ় হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


