ড. নাসির উদ্দিন
প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও
ইমারজেন্ট বায়োটেকনোলজিস এলএলসি
টেক্সাস, ইউএসএ
বাংলাদেশের কৃতী চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. নাসির উদ্দিন শুধু স্বদেশেই নন, নিজ কর্মগুণে তিনি আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত EskeGen প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত এবং এর রিসার্চ ডিরেক্টর। এটি বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের Chemical Research Organization (CRO) এর সাথে সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল বায়োটেকনোলজি এবং মেডিক্যাল ডিভাইস ক্লায়েন্ট, হেলথকেয়ার রিসার্চ অ্যান্ড মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছে।

এ প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ রিসার্চ ডিরেক্টর ড. নাসির উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিউকুলার বায়োলজিতে বিএস এবং এমএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জাপানের স্বনামখ্যাত GIFU University থেকে Molecular Medicine বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি Japanese Society for Promotion of Science (JSPS) থেকে ২০০৩-২০০৫ মেয়াদে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ-এর ফেলো। একই সঙ্গে তিনি American Heart Association-এর ফেলো। আত্মপ্রত্যয়ী অভিজ্ঞ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. নাসির উদ্দিন সেন্ট্রাল সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রানক্লেশনাল রিসার্চ (CSCTR) এর কাউন্সেলর হিসেবে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্বের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার এই সারথী ব্যক্তিত্ব অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্মের সাথে সম্পৃক্ত এবং তিনি বিশ্বমানের শতাধিক গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেছেন। তার দু’শতাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বায়োমেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট ড. নাসির উদ্দিন Emergent Biotechnologies LLC-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও)। টেক্সাসের টেম্পলে ২০১৮ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি তার মেধাবী উদ্যোগেই যাত্রা শুরু করে। তিনি Glion Institute of Higher Education-এর প্রতিষ্ঠাতা। এটি অলাভজনক রিসার্চ ইনস্টিটিউট হিসেবে কাজ করে চলেছে। এই মেধাবী বায়োমেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট ২০১৭ সাল থেকে টেক্সাসের টেম্পলের Texas A&M Health Science Center College of Medicine-এর ফ্যাকাল্টি মেম্বার।
ড. নাসির উদ্দিন শুধু বিদেশেই অধ্যাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট নন, বাংলাদেশেও অধ্যাপনার সাথে জড়িত। তিনি Daffodil International University’র Allied Health Science-এর ভিজিটিং প্রফেসর। ২০১৭ সাল থেকে তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিরও ভিজিটিং প্রফেসর। তিনি ২০১৬ সাল থেকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে ক্লাস নিচ্ছেন। এই মেধাবী শিক্ষক Texas-এর Killen-এ অবস্থিত সেন্ট্রাল টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির Adjunct Faculty of Biology হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এখানে মলিকুলার বায়োলজি, Proteomicsএবং Virology’র শিক্ষক। এই গুণী শিক্ষক গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান EskeGen এর রিসার্চ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত। তিনি American Heart Association FAHA-র ফেলো হিসেবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রয়েছেন। তিনি ২০২০ সালে US-Japan JSPS Bridge Fellow at Gifu University, Japan-এ কাজ করেছেন। তিনি এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত Central Society for Clinical and Translational Research-এর কাউন্সিল মেম্বার ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি Texas A&M Health Science Center College of Medicine এর OB/GYM ডিপার্টমেন্টের ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন। এ সময় তিনি Baylor Scott & White Health-এর OB/GYN Residency & Neonatology Fellowship-এর রিসার্চ ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। ড. নাসির উদ্দিন ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত Texas A&M Health Science Center College of Medicine-এর Hypertension & Nephrology-এর পোস্ট ডক্টরাল স্কলার ছিলেন। তিনি দেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Biochemistry and Molecular Biology ডিপার্টমেন্টের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ছিলেন।
দেশের মেধাবী ব্যক্তিত্বদের একজন ড. নাসির উদ্দিনের ছাত্রজীবন অত্যন্ত গৌরবের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Biochemistry & Molecular Biology বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০০ সালে জাপানের GIFU University থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করেন।
বৃহত্তর কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই কৃতী সন্তান এ সময়ের একজন জ্ঞানতাপস ব্যক্তিত্ব। ড. নাসির উদ্দিন বর্তমানে টেক্সাসের Austin-এর বাসিন্দা।
দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ সক্রিয় শিক্ষকতা এবং গবেষণা ছাড়াও ২০১৮ সালে একটি স্টার্টআপ বায়োটেক কোম্পানি স্থাপন করেছেন। ড. নাসির উদ্দিন বলেন, উন্নয়নের জন্য গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা কর্মের মধ্য দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাজ-সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে।

ড. নাসির উদ্দিন সময় পেলেই বিভিন্ন উৎসব আনন্দে মেতে ওঠেন। তিনি ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিনের ‘উৎসব অস্টিন ২০২০’ এর উপদেষ্টা ছিলেন। ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ তার প্রিয় গান। এই গানটি তার মেয়ে Afroze Midori (আফরোজ মিডোরি) ভালো গাইতে পারেন।
ইউএসএ’র টেক্সাসে Emergent Biotechnology-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এবং Orion Institute for Translational Medicine-এর নির্বাহী এবং সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন GNOBB Award 2015 সহ অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


