বেদারুল ইসলাম বাবলা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ফোবানার সাবেক চেয়ারপার্সন
তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বাংলাদেশে জন্ম নিয়েও এমন অনেক কৃতী ও মেধাবী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মেধা ও উদ্যোগী কর্মের মাধ্যমে মাতৃভূমির ভাবমূর্তিকে সমুজ্জ্বল করছেন- তাদেরই একজন বেদারুল ইসলাম বাবলা। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ মৃত্তিকার সন্তানেরা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফোবানার সাবেক চেয়ারপার্সন বেদারুল ইসলাম।
দেশের গর্ব- এই ব্যক্তির জন্ম সিলেটের কুলাউড়ার এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৬১ সালের ২০ নভেম্বর। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী বাবলা কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা উপহার দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে ভর্তি হন ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি কলেজে, যা এখন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু পড়াশোনার মধ্যেই নিজেকে স্থিত রাখেননি বাবলা। ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি করতেন লিও ক্লাব। ১৯৮১ সালে তিনি যখন শেরেবাংলা কৃষি কলেজের ছাত্র তখন আমেরিকার হিউস্টনে ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স কনভেনশনে যোগ দেন। হিউস্টনের ওই অনুষ্ঠানে যোগদান তার মনোজগতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। বিশ্বের উন্নয়নকে চোখে দেখার সুযোগ পান তিনি।

আমেরিকায় এসে প্রথমে কিছুদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করায় উদ্যোগ নেন। কিন্তু যার যা কাজ- সেটি তিনি করবেনই। শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত হলেন না। ভাবলেন, আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যে কাজ করা প্রয়োজন। একা একা ভালো থাকা উন্নয়নের মধ্যে আনন্দ নেই। প্রবাসী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যোগ দেন বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকায়। তিনি এর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্বের দেশে দেশে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার অমর শহিদদের অবদানকে তুলে ধরার জন্যে যারা ভূমিকা পালন করছেন- বাবলা তাদেরই একজন। ১৯৮৯ সালে আমেরিকায় প্রথম শহিদ মিনার স্থাপনের নেপথ্যে যারা জোরালো ভূমিকা রাখেন, তিনি তাদের অন্যতম। শহিদ মিনার স্থাপন করে একুশের ভোরে সেখানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কার্যকর একুশে উদযাপনের সূচনা করে এই সংগঠন। রচিত হয় আমেরিকায় একুশে উদযাপনের নতুন মাইল ফলক।
বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার উদ্যোগে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বিশ^খ্যাত মেডিসন স্কয়ারে যে বাংলাদেশ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বেদারুল ইসলাম বাবলা সেই আয়োজনে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপই তিনি ২০০৮ সালে এ সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন। বাঙালিদের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ এই সংগঠক ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফোবানার সম্মেলনে কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি সফল ও প্রশংসনীয় সম্মেলন উপহার দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ফোবানার চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব লাভ করেন। ফোবানার সাবেক চেয়ারপার্সন কৃতী সংগঠক বেদারুল ইসলাম বাবলা বর্তমানে এই সংগঠনের আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার। তিনি ২০১৯ সালের ফোবানা কনভেনশনের ‘লিয়াজোঁ কমিটি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় এ কনভেনশন।
কৃষিবিদ বেদারুল ইসলাম বাবলা হতে চেয়েছিলেন পশ্চাৎপদ বাংলাদেশের উন্নয়ন কৃষির সংগঠক; কিন্তু বিধাতা তার সে আশা পূরণ না করলেও বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ধারায় তিনি ঠিকই নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তিনি বলেন, মানুষের অদম্য ভালোবাসাই আমার কর্ম অনুপ্রেরণা। তাই নিজ কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেছি।
বেদারুল ইসলাম বাবলার সুখী পরিবারে স্ত্রী নাহরিন ইসলাম সবসময়ই তার অনুপ্রেরণাদাত্রী ও কর্ম সহযোগী। বাবলার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরামর্শকও তার স্ত্রী নাহরিন ইসলাম। এ দম্পতির দুই ছেলে কাসফি ইসলাম ও প্রিয়ম ইসলাম। আমেরিকায় বড় হলেও বাঙালিত্বে পরিপূর্ণ তাদের মনন। বাবার মতোই চিন্তাভাবনা। বেদারুল ইসলাম বাবলা সদা হাসি-খুশি প্রাণচঞ্চল একজন মিষ্টভাষী মানুষ। খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের যে কোনো অসুবিধায় হাত বাড়িয়ে দেন বাবলা- যেন এটা তার দায়িত্ব। ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি সফল। তাদের মতো প্রসারিত মনের উদ্যোগী মানুষ বিদেশে আছেন বলেই বাংলাদেশ ও বাঙালিদের ভাবমূর্তি দিন দিন বাড়ছে। বেদারুল ইসলাম বাবলা বলেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্য দিয়েই সমাজে অবদান রাখতে চাই যা আমাকে দেবে প্রশান্তি এবং অনুপ্রেরণা।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


