প্রতিবেদন

সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পকে প্রণোদনা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান

অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

রফতানিমুখী অন্যান্য শিল্পের মতো বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পকে আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ার দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিওজিএসওএ) নেতারা এই আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সঙ্গে বিওজিএসওএ প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বেশকিছু দাবি তোলেন তারা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিওজিএসওএ নেতারা জানান, শিল্প মন্ত্রণালয় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ ব্যবসাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৫ বছরেও এ সংক্রান্ত কোনও নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, ‘অপার সম্ভাবনাময় এই ব্যবসাকে স¤প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়নি।’
এ কারণে বিওজিএসওএ মনে করে, বিপুল পরিমাণ অর্থলগ্নিকারীর ব্যবসা দিনে দিনে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের মতো উৎসে কর, ডিউটি ড্র-ব্যাক, ইউডিএফ লোন, প্যাকিং লোন সুবিধাসহ নগদ প্রণোদনা দিতে শিল্পমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংগঠনটির নেতারা।
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাসহ সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনোমি’র প্রসার, সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি-রফতানিতে ফ্রেইট চার্জ খাতে দেশীয় জাহাজের হিস্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয় বৈঠকে। প্রতিনিধি দলের নেতারা আরও বলেন, ‘সরকারের নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা পেলে দেশীয় পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্প খাত দ্রুত বিকশিত হবে।’
সভায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে ফ্রেইট চার্জ বাবদ খরচের ৯০ শতাংশেরও বেশি বিদেশি জাহাজ মালিকরা নিয়ে যাচ্ছেন। দেশীয় সমুদ্রগামী জাহাজ মালিকদের আয়করসহ অন্যান্য সুবিধা দিয়ে বছরে ফ্রেইট চার্জ বাবদ কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় সম্ভব বলে মনে করে বিওজিএসওএ। পাশাপাশি এই শিল্পের বিকাশে সরকারের নীতি সহায়তা কামনা করে সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্যাক্সসহ অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে আসন্ন বাজেটে কার্যকর প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই শিল্পে করসহ অন্যান্য অসঙ্গতি পরখ করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুপারিশ করা হবে। দেশীয় এই শিল্পের প্রসারে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতির সুবিধা কাজে লাগাতে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করবে। জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙ্গা ও শিপ রিসাইক্লিং কার্যক্রমকে সরকার নীতি সহায়তা দিচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের প্রসারেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। নতুন শিল্পনীতিতে থাকবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।’
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বিওজিএসওএ’র সভাপতি আজম জে চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল ও শেখ বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এএসএম আব্দুল বাতেন, এস আর শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারোয়ার জাহান ও শাহরিয়ার জাহান।
অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button