এ. জেড. এম. সালেহ্
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও
ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
আবু জাফর মোঃ সালেহ্ বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ব্যাংকার এবং অর্থনীতিবিদ। তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। ব্যাংকিং পেশায় তার যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে (বিআরসি-১৯৮৪), অগ্রণী ব্যাংকের একজন প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে। জনাব সালেহ্ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বেছে নিয়েছেন ব্যাংকিং পেশাকে। এই পেশা তিনি কখনো ত্যাগ করেননি। ব্যাংকিং পেশায় থেকেই একের পর এক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সমৃদ্ধ করেছেন নিজের ক্যারিয়ার।
ব্যাংকার আবু জাফর মোঃ সালেহ্ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকারস বাংলাদেশ (আইবিবি) থেকে ডিপ্লোমা পার্ট-১ এবং পার্ট-২ সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন যথাক্রমে ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৮ সালে পাস করেছেন এলএলবি। এরপর তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে অর্জন করেছেন পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা। নিজের অভিজ্ঞতাকে অধিকতর সমৃদ্ধ করার জন্য দেশ-বিদেশে গিয়েছেন। ওয়ার্কশপ ও সেমিনার থেকে অর্জন করেছেন অভিজ্ঞতা। তিনি নিজে বিশ্বাস করেন নিজেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে তোলার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তার কর্মময় জীবনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় শ্রেণির ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অগ্রণী ব্যাংক ছাড়াও প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এনসিসি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পান। সত্যিকার অর্থেই আবু জাফর মোঃ সালেহ্ কর্মজীবনে একজন সফল ব্যক্তি। ২০১৮ সালের ৭ জুন তিনি ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগ লাভ করেন। একজন ব্যাংকারের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই নিযুক্তি হচ্ছে পরম পাওয়া। জনাব সালেহ্ তার সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পুরস্কার পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইকোনমিক এসোসিয়েশন-এর নির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং রোটারী ক্লাব ও বাংলাদেশ যুব অর্থনীতি সমিতির প্রাক্তন সভাপতি। এছাড়াও তিনি নানা রকম সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ইসলামিক ফাইন্যান্স
ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (আইএফআইএল) এদেশের প্রথম শরীয়াহ্ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন জনাব আযীযুল হক। প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে থাকে কিছু স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। তিনি যখন এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তখন তারা বেশ কিছু ইসলামি চিন্তাবিদকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এর ভূতপূর্ব খতিব মাওলানা উবায়দুল হক ও মাসিক মদীনা পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন খান। তারা ছিলেন শরীয়াহ্ সুপারভাইজারি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি কোম্পানি। গত কয়েক বছরে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করেছে। এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ সালেহ্ প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। আগে এদেশে ইসলামি ব্যাংক ছিল একটি। বর্তমানে ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০টি। তা ছাড়া ৯টি প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং শাখা রয়েছে ১৯টি। আরও ৭টি ব্যাংকের রয়েছে ২৫টি উইন্ডো। ২০১৮ সালের শেষে বাংলাদেশে সর্বমোট ব্যাংকের শাখা ছিল ১০,২৮৬টি। এগুলোর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর শাখা ১,২৪১টি। আরও কিছু ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তরিত হবার জন্য কিংবা শাখা খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। কাজেই এটা বলা যায়, এদেশের মানুষ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সর্বমোট আমানতের পরিমাণ হচ্ছে ৯,৬৮,৩০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ ২,২৪,৭৫৭ কোটি টাকা। মোট আমানতের মধ্যে ২৩.২৩ শতাংশ রয়েছে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে। মোট বিনিয়োগের ২৩.৯৩ শতাংশ এসেছে ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখা থেকে। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৪৩ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে, ২০১৮ সালে যা টাকার অঙ্কে ছিল ১৩,০৭৫ কোটি টাকা।
বিনিয়োগের ধরন
ইসলামি ব্যাংকিংয়ে পূর্ব নির্ধারিত কোনো রেট নেই। ফলে প্রফিট রেট নিয়েও ঝামেলা নেই। এই সম্পর্কে বিশিষ্ট ব্যাংকার আবু জাফর মোঃ সালেহ্ বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলোতে প্রফিটের কোনো নির্ধারিত হার নেই। এ ব্যাংকগুলোর মূল দর্শনই হচ্ছে ঋণগ্রহীতার ইচ্ছানুসারে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা। আমরা কোনো গ্রাহককে ঋণের টাকা নগদ দেই না। এর পরিবর্তে গ্রাহক যে পণ্য বা সেবা কেনার সমর্থন পেতে চান আমরা সরাসরি সেই পণ্য বা সেবার অনুক‚লে মূল্যটি পরিশোধ করি। ফলে গ্রাহকের পক্ষে এক খাতের অর্থ অন্য খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না। ঋণের অর্থে বাড়ি বানান, গাড়ি কিনুন কিংবা যন্ত্রপাতি আমদানি ছাড়াও যাই করুন না কেন হালাল জিনিস হলে তা আমরা কিনে দেই।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে ঋণ গ্রাহকের ব্যবসায় কম-বেশি লাভ যা-ই হোক না কেন, সেটা এককালীন কিংবা কিস্তিতে আদায়যোগ্য। ইসলামিক ফাইন্যান্সের কিছু ইউনিক অফার আছে। যেমন- যে কেউ এক লাখ টাকা জমা দিয়ে তার বিপরীতে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন সুবিধা পেতে পারেন। তিনি ২০ হাজার টাকা জমা রাখার মুনাফা পাবেন। এই অফারটি গ্রাহকদের দারুণ পছন্দ।
তিনি বলেন, ধর্মীয় কারণে দেশের জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশের কাছে শরীয়াহ্ভিত্তিক ফাইন্যান্সের বড় ধরনের আবেদন রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের প্রচলিত সেবা ও পণ্য অন্য ধর্মের অনুসারী গ্রাহকরাও পছন্দ করেন। আমাদের অমুসলিম গ্রাহকও রয়েছেন।
সাফল্য
সিঙ্গাপুরভিত্তিক এশিয়ান ব্যাংক এন্ড ফাইন্যান্সের বিবেচনায় বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ব্যাংক ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ব্যাংক এশিয়া। এ ব্যাপারে জনাব সালেহ বলেন, এটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। কারণ বিশ্বের সেরা চারটি অডিট এন্ড অ্যাকাউন্ট কনসালট্যান্ট ফার্ম ইসলামিক ফাইন্যান্সের খুঁটিনাটি বিষয়, যেমন- পণ্য, সেবা, গ্রাহকদের ভিত্তি এবং স্থিতিশীলতা বিষয়টি ছয় মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। ফার্ম চারটি হচ্ছে- ই এন্ড ওয়াই, ডিলয়েটে, পিডবিøউসি ও কেপিএমজি। এই কারণেই আমরা এই পুুরস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।
জনাব সালেহ্ বলেন, যে কোনো কাজের স্বীকৃতির মধ্যে এক ধরনের গৌরবের অনুভূতি থাকে। ইসলামিক ফাইন্যান্সের স্বীকৃতি কোনো একক ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় অর্জিত হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা সৃজনশীল। ব্যাংকের অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ সৃষ্টির পরিকল্পনা তারা প্রণয়ন করেছেন। তা বাস্তবায়ন করেছেন এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একদল চৌকস, শিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনী। সকলে মিলেই ইসলামিক ফাইন্যান্সকে একটি সম্মানজনক জায়গায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে উদ্ভাবনী শরীয়াহ্ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড অর্জন করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৮’।
স¤প্রতি দুবাইয়ে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কারটি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইউকে। এই পুরস্কার আমাদের সামনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানকে নিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মনে কাজের গতি এবং স্পৃহা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোয় ইসলামি ফাইন্যান্সের গড়পড়তা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তাই আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দুই-তিন বছরের মধ্যে এর আকার দ্বিগুণ বাড়ানো। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের আটটি শাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি ঢাকায়, পাঁচটি ঢাকার বাইরে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বছরে তিন-চারটি শাখা স্থাপন করা। নিজেদের পণ্য ও সেবাগুলো সম্পর্কে আরও বেশি মানুষকে জানাতে পারলে ইসলামিক ফাইন্যান্সের ব্যবসা আরও বাড়বে- ইনশাআল্লাহ্।
চ্যালেঞ্জ
এটা সহজেই বোঝা যায়, এদেশে শরীয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ও সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে এসব কর্মতৎপরতার প্রচারের অভাব রয়েছে। এই সম্পর্কে ইসলামিক ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর মোঃ সালেহ্ বলেন, আমরা দেশের সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ার আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। যাতে মানুষ সুদভিত্তিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে না পারে। এই জন্য বিভিন্ন জেলায় আমাদের শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে আর্থিক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খেলাপি ঋণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন। তারল্য অব্যবস্থাপনার মূল কারণ হচ্ছে গত কয়েক বছরে আমানত সংগ্রহের চেয়ে বিনিয়োগ বেশি ছিল। ব্যাংকগুলো আমানতের উপর নির্ভরশীল। স্বাভাবিক কারণেই ব্যাংকগুলো যখন তারল্য সংকটে পড়ে, তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেই ঝাপটা এসে পড়ে। ইসলামিক ফাইন্যান্স চেষ্টা করছে ব্যাংকের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের উপর নির্ভর করে বিনিয়োগ বাড়াতে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতা, সততা ও শুদ্ধাচারের অনুশীলন করেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই। একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা, সেবার উৎকর্ষ ও অভ্যন্তরীণ সুশাসনের উপর। তাই আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সুশাসন কায়েম এবং সেবার উৎকর্ষের উপর জোর দিয়েছি। এগুলো না থাকলে আমরা এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না, আমাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেত না। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমরা সততা ও দক্ষতার সাথে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছি।
লভ্যাংশ
যে কোনো ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা। মুনাফা ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে না। মুনাফা অর্জনের মধ্যেও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। যে মুনাফা অর্জনের মধ্যে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা থাকে না, তা বে-আইনি কাজের শামিল। ইসলামিক ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর মোঃ সালেহ্ স্পষ্ট করেই বলেছেন, আমাদের কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা রয়েছে। কারণ, শরীয়াহ্ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তিই হচ্ছে ধর্মীয় নৈতিকতা। এর বাইরে কাজ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করে যেমন গ্রাহকরা মুনাফা করছেন, পাশাপাশি আমাদের প্রতিষ্ঠানও মুনাফা করছে। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে আমরা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছি ১৪.৫০ শতাংশ করে। এটা সম্পূর্ণ হালাল রুজি। কারণ, আমরা কোনো ধরনের হারাম কাজে অর্থ বিনিয়োগ করি না। আমাদের মুনাফা হয়ে থাকে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে। এ সব ব্যবসা রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত।
ভবিষ্যৎ ভাবনা
অতীত ও বর্তমানের মধ্যেই ভবিষ্যৎ নিহিত। বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দুর্বল কর্মসূচি বাদ পড়ে যায়। শক্তিশালী কর্মসূচি সামনে চলে আসে। দুর্বল ও সবল উভয় শ্রেণির কর্মসূচিরই মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, দুর্বল কর্মসূচির দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে যদি দূর করা যায়, তবে তা আবার সবল হয়ে ওঠে। প্রবহমান নদীর মতোই গতিশীল প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচিগুলো সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ সালেহ্ বলেন, কোনো কর্মসূচি প্রণয়নের আগে আমাদের কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে কর্মসূচির অন্তর্নিহিত কাঠামো এবং টিকে থাকার ক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা করে। কারণ, আমরা টেকসই কর্মসূচি ছাড়া দুর্বল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করি না। তা উচিতও নয়। ইসলামিক ফাইন্যান্স ইসলাম ধর্মকে অত্যন্ত মর্যাদা দেয়। মানুষের জীবন অস্থায়ী। কিন্তু ধর্ম স্থায়ী। ইসলাম ধর্মের নীতি ও আদর্শ অত্যন্ত মহৎ। আমরা মহৎকে ভালোবাসি এবং মর্যাদা দেই, এই জন্য আমাদের কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণেই প্রণীত হয়ে থাকে। আমরা সুদের ব্যবসা করি না। আমরা বিনিয়োগ করি। ‘কোনো অর্থ বিনিয়োগ করলে মুনাফার দিকটা সামনে চলে আসে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা বিনিয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের কর্মকর্তাবৃন্দ বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করছেন। আমি নিজেও অনেকগুলো ব্যাংকে কাজ করছি। ইসলামি ফাইন্যান্স এখন পর্যন্ত মাঝারি মানের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রথম সারির ২/৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অচিরেই ইসলামিক ফাইন্যান্স নাম লিখাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সে লক্ষ্যে এবং উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ক্রেডিট রেটিংয়ের মানও বেশ ভালো। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায়ও আমরা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছি। আইএফআইএল ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও আয় দুটিই বেড়েছে। এই কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও স্পষ্ট।
আইএফআইএল-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এ. জেড. এম. সালেহ্ বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে- আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করা; প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা; সর্বোত্তম মানের সেবা প্রদান করা; মানবসম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা; সম্পদের ভিত্তিতে স্থিতি আরও মজবুত করা; সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সেবার ক্ষেত্র স¤প্রসারণ করা; সার্বিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার বজায় রাখাসহ আরও অনেক কিছু। এসব কাজ আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে চাই। ধর্মীয় নৈতিকতার প্রতি আমরা আপসহীন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, লক্ষ্যে দৃঢ়তা থাকলে আমাদের পক্ষে আরও অনেক কিছু করা সম্ভব।



