প্রতিবেদন

সাফল্যে সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি

এনামুল হক এনাম

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনের অন্যতম শিল্প গ্রুপ ‘এনভয় গ্রুেপ’ যতোটা না পরিচিত, তার চেয়েও অধিক পরিচিত এ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুস সালাম মুর্শেদী। আর হবেই বা না কেন! এই উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব একজন ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে এক সময় ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। মাঠের সেই তুখোড় খেলোয়াড় শুধু মাঠ ও দর্শকদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, হয়ে উঠলেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী। এরপর রাজনীতির মাঠেও নিজের সম্পৃক্ততাকে আরো গভীর করলেন। সমাজসেবার এই উন্নততর অবস্থানে উঠে আসতে পেরেছেন জনগণের ব্যাপক সমর্থনে। পরপর দু’বার তিনি খুলনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব থেকে উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব এবং এখন তিনি সফল রাজনীতিবিদের মুকুট মাথায় তুলেছেন সগৌরবে।
আব্দুস সালাম মুর্শেদীর ভাষায়- আমার চাওয়া বা পাওয়ার কিছুই নেই, মহান আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মানুষের সেবায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী, আমি দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি।

জাতীয় সংসদ সদস্য বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব স্বপ্নদর্শী আব্দুস সালাম মুর্শেদীর জন্ম খুলনার রূপসা উপজেলার নৌহাটি গ্রামের এক শিক্ষিত ক্রীড়ামোদী পরিবারে। পিতা মরহুম মো. ইসমাইল ছিলেন স্কুল শিক্ষক, মা মরহুমা মোসাম্মৎ রেজিয়া খাতুন। বাবার উৎসাহেই সালাম মুর্শেদী ফুটবল খেলা শুরু করেন। খুলনা নৌহাটি হাইস্কুলের টিমে তার ফুটবল অধ্যায় শুরু। ১৯৭৩ সালে খুলনা ইয়ং বয়েস ক্লাবে প্রথম বিভাগে খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৭-৭৮ সালে ঢাকায় আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ খেলেন। স্থান পান জাতীয় দলে। তিনি ১৯৭৯ সালে বিজেএমসিতে খেলেন; দলটি লীগ খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই বছর ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করেন। তিনি ১৯৮০ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে লীগ খেলায় ২৭ গোল করার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েন- যা এখনও অটুট। ফুটবলের পেশাদারিত্বে একজন সালাম হয়ে ওঠেন মাঠকাঁপানো তারকা ফুটবলার। ক্লাবের হয়ে সালামের শেষ ম্যাচটি ছিল ১৯৮৬ সালে। আর জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে শেষ ম্যাচ ছিল কায়েদে আজম ট্রফি।
দূরদর্শী সালাম মুর্শেদী অনুভব করতে পেরেছিলেন, এক সময় আর মাঠে যাবার সুযোগ থাকবে না। তিনি ১৯৮৪ সালে উপদেষ্টা হিসেবে গার্মেন্ট ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হন। প্রতিষ্ঠা করেন ‘এনভয় গার্মেন্ট’। ফুটবলের মতোই ব্যবসাতেও সাফল্যের সোনার হরিণ তার হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেয়। ধারাবাহিক সাফল্যের হাত ধরে এনভয় গার্মেন্ট এখন এনভয় গ্রæপে রূপ নিয়েছে। এই গ্রুপে ১৬টি বৃহৎ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, একটি বিশাল টেক্সটাইল এবং একটি অত্যাধুনিক ওয়াশিং প্ল্যাট রয়েছে। তার টেক্সটাইল মিলটি লিড প্লাটিনাম সার্টিফায়েড বাই ইউএস গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল ইউএসএ, আইসিবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ স্বর্ণ এবং সপ্তম এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সেলেন্সি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।
পোশাক শিল্প খাতের বাইরেও এই অধ্যবসায়ী শিল্পোদ্যোক্তা আইটি, কম্পিউটার, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ট্রেডিং, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং, জিএসএ ফর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ওয়ার্ল্ড কার্গো, রিয়েল এস্টেট, ব্যাংকিং, স্টক ব্রোকার অ্যান্ড ডিলার হোম, কেয়ার অ্যান্ড রিভার ড্রেজিংসহ অনেক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত।
সময়ের প্রত্যয়ী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদী ইতোমধ্যে নিজ সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে নিজস্ব বলয় তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। তার শিল্প-কারখানায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। তিনি মানসম্মত পণ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজ প্রতিষ্ঠান ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
সালাম মুর্শেদী শুধু নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের কথাই ভাবেন না, বিজিএমইএ’র সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছেন। বর্তমানে তিনি এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর পরপর তৃতীয় পর্বের নির্বাচিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) ট্রাস্টি সদস্য, দেশের প্রথম রপ্তানিমুখী হালাল গরু-ছাগলের প্রক্রিয়াজাত হালাল মাংসের প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং স্কয়ার হসপিটাল লিমিটেডের পরিচালক। তিনি ব্যাংকিং খাতেরও একজন অন্যতম উদ্যোক্তা। বেসরকারি খাতের অন্যতম ব্যাংক দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের স্পন্সর ডিরেক্টর তিনি। সাবেক এই ফুটবল তারকা ব্যবসা ও রাজনীতিতে সমান সফল। বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা যেমন একজন পেলে ও ম্যারাডোনাকে কোনোদিন ভুলতে পারবেন না, তেমনি এদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও সালাম মুর্শেদীকে ভুলতে পারবেন না। ফুটবল মাঠের বিস্ময়কর নায়ক সালাম মুর্শেদী দেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি সমাজের অবহেলিত ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে চলেছেন। তার মধ্যে একটি দর্শন কাজ করে সব সময় সেটি হচ্ছে মানবকল্যাণ। তিনি বিশ্বাস করেন সমাজকে উপেক্ষা করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। কেউ যদি শুধুই নিজের উন্নয়ন করে যান তাহলে সেই উন্নয়নের ফসল ভোগ করা সহজ হবে না।
একাদশ জাতীয় সংসদের প্রাণবন্ত সংসদ সদস্য দেশখ্যাত ক্রীড়া ও শিল্পোদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব সালাম মুর্শেদী দেশের অন্যতম অভিজাত ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, গুলশান ক্লাব লিমিটেড, উত্তরা ক্লাব লিমিটেড, বেস্ট ক্লাব লিমিটেড, ঢাকা; বাংলাদেশ ক্লাব লিমিটেড, অল কম্যুনিটি ক্লাব ঢাকা, সাভার গলফ ক্লাব এবং আর্মি গলফ ক্লাবসহ অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।

উদ্যমী ও নিরলস উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব সালাম মুর্শেদীর পরিবারের সকল সদস্যই কর পরিশোধের মাধ্যমে ‘কর বাহাদুর’ পরিবারের সম্মান লাভ করেছেন। তিনি একাধিকবার ন্যাশনাল এক্সপোর্ট ট্রফি ও প্রেসিডেন্ট এক্সপোর্ট ট্রফি লাভ করেছেন। তিনি সরকারের তালিকাভুক্ত সিআইপি। সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবেও তিনি জাতীয় ক্রীড়া পদক লাভ করেছেন।
এই কিংবদন্তী ফুটবলার ২০১৮ সালের ৩ মার্চ খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে বিশাল জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে জাতীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি বিপুল ভোটে দশম সংসদে এমপি নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। তিনি সগৌরবে উচ্চারণ করেন, ‘এতোদিন আমি শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করতাম, এখন দেশের সব মানুষের কাজের সুযোগ পেয়েছি’। তিনি আরো বলেন, জাতির জনকের কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবো।
একজন মানবিক শিল্পোদ্যোক্তা, ক্রীড়াঙ্গনের বিস্ময়, জনপ্রিয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর প্রত্যাশা তিনি ‘জনতার লোক‘ হিসেবে বেঁচে থাকতে চান।
দেশখ্যাত শিল্প সাম্রাজ্য এনভয় গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ হচ্ছে এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড, লন্ড্রি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এনভয় প্যাকেজেস লিমিটেড, শারমীন হোল্ডিংস লিমিটেড, ন্যাশনাল সিস্টেমস সল্যুশন (প্রা.) লিমিটেড, ওআইও গ্লোবাল লজিস্টিক (বিডি) লিমিটেড, পিনাটা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইমারান্ড ট্রেডিং লিমিটেড, বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, টেন্ডার সিকিউরিটিস লিমিটেড এবং অ্যাকুয়া মেরিন ড্রেজিং লিমিটেড।
উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব সালাম মুর্শেদীর স্ত্রী শারমীন সালাম এনভয় গ্রুপের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তাদের বড় মেয়ে ব্যারিস্টার শেহরীন সালাম ঐশী। দুই ছেলের মধ্যে ইশমাম সালাম পড়াশোনা শেষে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত, অন্য ছেলে আয়ান সালাম পড়াশোনা করছেন। সালাম মুর্শেদী বিশ্বের প্রায় ৫০টির অধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
এনামুল হক এনাম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button