প্রতিবেদন

সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়তে চাই

মোঃ আতিকুল ইসলাম মেয়র ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

দেশের অর্থনীতিকে যারা সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে চলেছেন তাদের মাঝে অন্যতম দেশখ্যাত আলোকিত শিল্প সাম্রাজ্য ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডের উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব ও দক্ষ ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মো. আতিকুল ইসলাম।
আতিকুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র। নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি একটি প্রসেসের মধ্য দিয়ে এসেছি। আনিস ভাই মারা যাওয়ার পরে ১৮ জন মেয়র হতে চেয়েছিলেন। আমরা সবুজ সংকেত পেয়েছিলাম। ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবাই ইন্টারভিউ দেই। তখন আমার নাম ঘোষণা করা হয়। এর পরেরদিন একজন আদালতে রিট করেন, তখন নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গত একবছর আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি। অনেক কিছু জেনেছি- বুঝেছি।


তিনি আরও বলেন- ‘ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করবো, হকারদের পুনর্বাসন করবো। খেলার মাঠগুলো ঠিক রেখে এর নিচে দুই-তিনতলা আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট করে হকারদের পুনর্বাসন করা যাবে। হকারদের কার্ডের ব্যবস্থা করলে পুনর্বাসন করা সম্ভব। তবে বলা যত সহজ করা তত কঠিন হবে। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, আগে বাচ্চারা মাঠে খেলতে যেত। এখন বাসায় বসে ভার্চুয়াল গেম খেলে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য মাঠের কোনো বিকল্প নেই। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কিছু হলে সবাই মেয়রকে বলে। সব দোষ মেয়রের। কিন্তু রাজউক সব কিছু নির্মাণের অনুমতি দেয়। রাজউক চেয়ারম্যানের নাম ক’জন জানে!
মেয়র আতিকুল ইসলাম দেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট। তার সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এর প্রমাণ, তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বখ্যাত ক্রেতা ‘ওয়ালমার্ট’ এই শিল্প গ্রুপকে একমাত্র শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে ১৯৯৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৮ বার সেরা ভেন্ডারের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। এছাড়া রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২, ২০০৩, ২০০৮, ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মেধাবী শিল্পোদ্যোক্তা মো. আতিকুল ইসলাম কমার্শিয়াল ইম্পর্টেন্ট পার্সনের (সিআইপি) মর্যাদা লাভ করেন।
মেধাবী, উদ্যমী ও সৃজনশীল শিল্পোদ্যোক্তা মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮৫ সালে গার্মেন্টস শিল্প খাতের ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। ব্যবসা ও শিল্পোদ্যোগের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি তার মেধা, মনন ও প্রচেষ্টার দ্বারা ইতোমধ্যেই একজন সফল শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হয়েছেন। ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড শিল্প পরিবারে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। ইসলাম গ্রæপে নীট কম্পোজিট, ওভেন কম্পোজিট, প্রিন্টিং, ডাইং, ওয়াশিংসহ অনেক ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা রয়েছে। তিনি ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড, দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড, ইসলাম ড্রেসেস লিমিটেড, স্টারলিং রিংস ইফেক্টস লিমিটেড, ইকো টেক্স ডাইং অ্যান্ড ওয়েভিং ফ্যাক্টরি লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এছাড়া তিনি ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (হোসিয়ারি), ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (নীটওয়্যার), ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২), ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (উইভিং), ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (টেক্সটাইল ডিভিশন), ইসলাম নীট ডিজাইন লিমিটেড, ইসলাম প্রোডাক্টস লিমিটেড, দি সিলভার গার্মেন্টস (বিডি) লিমিটেড, ইউরো জিনস লিমিটেড, ইসলাম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড, ইসলাম কার্টন অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড, পালাজ্জো লিভিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড এবং পাওয়ার টেক্স ফ্যাশন লিমিটেড-এর পরিচালক।
স্বপ্নদর্শী উদ্যোক্তা মো. আতিকুল ইসলাম বিশ্বাস করেন, শিল্পায়নের মূল শক্তিই হচ্ছে শ্রমিক। যে প্রতিষ্ঠানে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও কর্মপরিবেশ ভালো থাকে সে প্রতিষ্ঠান উত্তরোত্তর উন্নতি করতে পারে। ব্যবসায়ী অঙ্গনের সফল নেতা মো. আতিকুল ইসলামের ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড সুপ্রতিষ্ঠিত। ফলে তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারে এ প্রতিষ্ঠান ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।
মানুষ হিসেবে সচেতন ও মানবিক নেতৃত্বের গুণাবলীসম্পন্ন মো. আতিকুল ইসলাম গার্মেন্টস শ্রমিকদের উন্নয়ন ও তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা তৈরিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। বিজিএমইএর সভাপতি থাকাকালীন তার উদ্যোগেই শুধুমাত্র গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য গানের প্রতিযোগিতা ‘গর্ব’ প্রচারিত হয়। এর ফলে লাখ লাখ শ্রমিক নিজেদের আত্মমর্যাদার পাশাপাশি সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্কের গভীরতা খুঁজে পায়। তারা উপলব্ধি করতে পারেন, শ্রমিকরাই হচ্ছে উৎপাদনের প্রধান হাতিয়ার। তাদেরকে জাগ্রত করতে জ্বালাময়ী বক্তব্য নয়, সাংস্কৃতিক চেতনা ব্যবহার করা হয়েছে। তারাও বুঝতে পারছেন যে তারাও দেশের সম্পদ, অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এটি সম্ভব হয়েছে একমাত্র শ্রমিকবান্ধব ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামের চিন্তাপ্রসূত উদ্ভাবনীর মাধ্যমে। তিনি শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমিক মেলা’রও উদ্যোগ নেন। সে সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কারখানায় অগ্নি দুর্ঘটনায় দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে যে নেতিবাচক ঘটনার জন্ম হয়েছিল তা থেকে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি কারখানায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়ে সফল হন।
শিল্পোন্নয়নের অন্যতম দূরদর্শী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মকার্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কলেজে অধ্যয়নকালীন তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর কর্তৃক ১৯৮১-৮৪ সালে সেরা ক্যাডেট উপাধি লাভ করেন। ১৯৮৩-৮৪ সালে তিনি লিও ক্লাবের জোন-৪ এর সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আতিকুল ইসলাম ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ক্লাবেরও সভাপতি। তিনি ১৯৯১-৯৬ পর্যন্ত শান্তিনগর ক্লাব লিমিটেডের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি উত্তরা ক্লাব লিমিটেড ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। তিনি বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং শিপার্স কাউন্সিলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। কথা প্রসঙ্গে শিল্পাঙ্গনের প্রতিশ্রুতিশীল ও উদ্যমী নেতা আতিকুল ইসলাম বলেন, এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় ভিত হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প খাত। আজ যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে সে ক্ষেত্রে বড় ভ‚মিকা এই পোশাক শিল্প খাতের। নারীর ক্ষমতায়নেও এই শিল্প খাত বিশেষ ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। ৩
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button