অর্থনীতিআন্তর্জাতিকপ্রতিবেদনসম্পাদকীয়

রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ালে অর্থনীতিতে স্বস্তি আসবে, প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হবে ফারুক হাসান, সভাপতি, বিজিএমইএ

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

 

 রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ালে অর্থনীতিতে স্বস্তি আসবে, প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হবে

ফারুক হাসান, সভাপতি, বিজিএমইএ

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। এ সফরের আলোকে রাজধানীর গুলশানে বিজিএমইএ গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করে। মতবিনিময়কালে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে এলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল গতিশীল; যে কারণে আমাদের পোশাক শিল্প বড়ো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বাংলাদেশের রপ্তানি ও প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা জাতি হিসেবে গর্বিত, আমাদের ভাষার জন্য গর্বিত। আমরাই পৃৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা মাতৃৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। ভাষার জন্য এই আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে অনন্য স্বীকৃতি দিয়েছে।  পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা চাই, ভাষার এই গৌরবগাথা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে যাক। বর্তমান বিজিএমইএ বোর্ড থেকে প্রিয় মাতৃভাষার সম্মানে আমাদের উৎপাদিত প্রতিটি পোশাক পণ্যের লেবেলে ‘Made in Bangladesh’-এর পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় ‘বাংলাদেশে তৈরি’ শব্দ দু’টি যোগ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এ বিষয়ে কিছুু প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই করেছি। আমরা মনে করি, সরকার ও পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মাতৃভাষার সম্মানে আমাদের এই উদ্যোগের অংশীদার হবেন। পৃৃথিবীর সকল ভাষাভাষী তাদের নিজস্ব মাতৃভাষার প্রতি সম্মান ও মমত্ববোধ থেকে আমাদের এই উদ্যোগে শামিল হবেন বলে আশা করি। বিজিএমইএ’র বর্তমান বোর্ড অ্যাপারেল ডিপ্লোমোসি নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে আমরা গত বছরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের ৩টি দেশ- যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও স্কটল্যান্ড সফর করেছি। অ্যাপারেল ডিপ্লোমেসির ধারাবাহিকতায় সম্প্র্রতি আমরা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা ব্রাসেলস ও জেনেভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছি, ৮ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আমরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি এবং মিটিং করেছি। 

এবারের ইউরোপ সফরে আমার সাথে ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মিরান আলী, পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, আসিফ আশরাফ এবং তানভির আহমেদ। আমরা ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ করি। ইউরোপীয় কমিশনের Ms. Ewa Synowiec, Director of Directorate C, Africa , Caribbean and Pacific, South East and South Asia, Trade and Sustainable Development, Green Deal, DG TRADE of the European Commission এবং Mr. Jordi Curell, Director for international Affairs, DG Employment, Social Affairs and inclusion, European Commission  এর সাথে দ্বিপাক্ষিক সভায় আমরা বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী Smoother Transition বিষয়ে কথা বলেছি। ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েশনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের জন্য ১০ বছর চলমান বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছি। সেই সাথে আমাদের শিল্পে শ্রমমান এবং টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে যেসব অগ্রগতি হয়েছে, তা তুলে ধরেছি। গ্র্যাজুয়েশনের পর জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত জিএসপি রেগুলেশনে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়গুলোও আলোচনা করেছি।

এছাড়া আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক্তন রাষ্ট্র্রদূত Rensje Teerink, যিনি এখন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের এএসইএম (ASEM) এবং ইন্দো-প্যাসিফিক, ইউরোপীয় এক্সটারনাল একশন সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার সাথে দেখা করেছি। যেহেতু জবহংলব খুব কাছে থেকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও টেকসই শিল্পের ট্রান্সফরমেশন দেখেছেন, তাই তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে অনুরোধ করেছি। তিনি আমাদেরকে সহযোগিতা প্রদানের সাহস দিয়েছেন।ব্রাসেলসে Amfori এর সভাপতি Ms. Linda Kromjong এবং সিনিয়র লিগ্যাল অ্যাডভাইজর- ট্রেড অ্যান্ড কাস্টমস Stuart Newman এর সাথে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সামাজিক ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিজিএমইএ এবং Amfori কিভাবে একসাথে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও EBA সুবিধা চলমান রাখার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের নিকট বিজিএমইএ যে প্রস্তাব করছে, সেখানে সমর্থন প্রদানের জন্যও Amfori-কে অনুরোধ করেছি। Amfori তার সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ এবং টেকসই গন্তব্য হিসেবে প্রচার করার বিষয়ে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, এমফোর ৪০টিরও বেশি দেশের ২৪০০ রিটেইলার, আমদানিকারক, ব্র্যান্ড এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করে।

আমাদের ইউরোপ সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার জন্য বিজিএমইএ ডব্লিউটিও মহাপরিচালকের সাথে জেনেভা সদর দপ্তরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক Dr. Ngozi Okonjo-lweala এর সাথে বৈঠকে মূল বিষয় ছিল স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ট্রানজিশন পিরিয়ড বাড়ানো। আমরা তাকে কোভিড-১৯ মহামারির ফলে সৃষ্ট ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো জানিয়েছি, যেন বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন স্মুথ ও টেকসই করার জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধাগুলোতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো নমনীয়তা প্রদর্শন করে। এ ব্যাপারে ডব্লিউটিও যেন তার সদস্যদের সমর্থন সংগ্রহ করে, সে ব্যাপারে অনুরোধ করেছি। আমরা বাণিজ্যে নেগোশিয়েশন সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (RTA) এর সম্ভাব্যতা বিষয়ে গবেষণা করা, প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের জন্যও অনুরোধ করেছি। পাশাপাশি, বেশকিছুু বৈশ্বিক ব্র্যান্ড দেউলিয়া হওয়ার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্রস বর্ডার লেনদেন শক্তিশালী করার জন্য ডব্লিউটিও’র নেতৃত্বে WCO/UNCTAD/ICC এর মতো বৈশ্বিক ফোরামগুলোর সহযোগিতায় বিশ্ব বাণিজ্যে কমার্শিয়াল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে WTO এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।WTO DG আমাদের বিষয়গুলো নোট করেছেন এবং বিষয়গুলোতে সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ নিঃসন্দেহে সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তবে একথা ঠিক যে এই উত্তরণের ফলে আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে  পোশাক শিল্প খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং আমরা যে বাণিজ্য সুবিধাগুলো বর্তমানে পাচ্ছি, তা খানিকটা ব্যাহতও হবে। তাই এসব সভায় আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যেন আমরা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি নিতে যথেষ্ট সময় পাই।গত এক দশকে পোশাক শিল্পে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকদের কল্যাণের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটেছে। পোশাকখাতের এই বদলে যাওয়ার কথা শুধু খাত সংশ্লিষ্টগণই নন, বরং বিভিন্ন সময়ে এ খাতের সমালোচকরাও তা স্বীকার করেছেন। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দিক থেকে বাংলাদেশের পোশাকখাত এখন একটি রোল মডেল। এবারের ইউরোপ সফরে আমরা এই অর্জনগুলো নিয়ে আইএলওসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন শ্রম সংগঠনের সাথে কথা বলেছি।

জেনেভায় আইএলও’র সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মহাপরিচালক Guy Ryder এর সঙ্গে আমরা দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ করেছি। আইএলও কনভেনশন মেনে বাংলাদেশের  পোশাক শিল্প কতখানি অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার একটি বিবরণ তার সামনে তুলে ধরেছি। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নিরাপদ ও  শোভন কর্মপরিবেশ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার প্রশংসা করেছেন।এ সফরে আমরা প্রথমবারের মতো ব্রাসেলসে International Trade Union Confederation এর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করেছি। ITUC এর জেনারেল সেক্রেটারি Ms. Sharan Burrow এর সঙ্গে সাক্ষাতে আমরা পোশাক শিল্প এবং ৪০ লক্ষ শ্রমিকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।এছাড়াও জেনেভায় Industriall Global Union এর সাধারণ সম্পাদক Atle Hsqie এবং টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্প বিষয়ক পরিচালক Ms. Christina Hajagos-Clausen এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। সেই সাথে জেনেভায় Better Work Program এর পরিচালক Dan Rees এবং UNI Global Union এর ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি Alke Boessiger এর সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক হয়। এই সভাগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে গত দশকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে যে দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন ঘটেছে- বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিষয়ে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমমান ও শ্রমিকদের কল্যাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের  পোশাকখাতে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তা তুলে ধরেছি। তারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে।ফারুক হাসান বলেন, বিজিএমইএ ও আইএফএ’র যৌথ উদ্যোগে ৩৭তম ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন চলতি বছরের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের সফরে এই সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে আইএফএ’র মহাসচিব Matthijs Crietee এর সঙ্গে দেখা করেছি। আশা করছি, এই সম্মেলনে পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক অংশীজনরা একত্রিত হবেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে সহযোগিতার মাধ্যমে আরও টেকসই পোশাক সাপ্লাই চেইন গড়ে  তোলা। 

এবারের ইউরোপ সফরে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলকে দু’টি সংবর্ধনা দেয়া হয়। বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্র্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ তার বাসভবনে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক সংবর্ধনা ও নৈশভোজের আয়োজন করেন, যেখানে ব্রাসেলসে আমাদের মিশন ও বাংলাদেশের অন্য দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাগণ আমন্ত্রিত ছিলেন। এছাড়াও জেনেভা সফরকালে সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার বাসভবনে নৈশভোজের আয়োজন করেন। ফারুক হাসান বলেন, এই সভাগুলোতে আমরা ইউরোপে আমাদের অনুষ্ঠিত সভা ও চলমান অ্যাপারেল ডিপ্লোমেসির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বের হয়ে আসার পর রপ্তানি বাজারে শুল্ক ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আসবে তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি ও কৌশল নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হয়েছে।বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমরা ৮ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র্র সফর করেছি। আমরা American Apparel & Footwear Association (AAFA) আয়োজিত Executive Summit 2022-এ অংশগ্রহণ করেছি। এ সফরে আমার সাথে ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মিরান আলী, পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, ভিদিয়া অমৃত খান এবং বিজিএমইএ’র স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফরেন মিশন- সেল এর চেয়ারম্যান শামস মাহমুদ এবং মাহমুদ গ্রুপের পরিচালক গাজী মাহবুবুল আলম।

আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের কাছে পোশাক শিল্পের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। AAFA এর Executive Summit-এ আমরা পোশাকখাতে চলমান অগ্রগতিগুলো তুলে ধরেছি। সেই সাথে আগামী দিনে আমাদের ভিশন সম্পর্কে তাদের অবগত করেছি। তারা যেন আমাদের একটি টেকসই ও ইনোভেটিভ শিল্প নির্মাণে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন, শুধু ক্রয়াদেশ নয় বরং ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট, পণ্য বহুমুখীকরণ ইত্যাদি খাতে একসাথে কাজ করেন সেই অনুরোধ জানিয়েছি।ফারুক হাসান বলেন, মহামারির ধকল সামাল দিতে না দিতে বিশ্ব একটি নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি কোনো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ে গণমাধ্যমে বেশকিছু রিপোর্ট আমরা দেখেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের অন্যতম প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেন কোনো অনিশ্চয়তার ছায়া না পড়ে। আমরা AAFA-এর সঙ্গে একটি MoU স্বাক্ষর করেছি। AAFA-এর পক্ষে সংস্থাটির President and CEO Steve Lamar স্বাক্ষর করেছেন। এই MoU-এর আওতায় উভয় পক্ষ বাণিজ্যের সুযোগগুলো অন্বেষণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের market access পেতে, ক্রেতাদেরকে responsible purchasing practices-এ উদ্বুদ্ধ করতে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে টেকসই উন্নয়নে অর্জিত অনন্য অগ্রগতিগুলো এগিয়ে নিতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশি শিল্পে অংশীদারত্ব বাড়াতে একসাথে কাজ করার জন্য এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই MoU নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির বিষয়। AAFA ১,০০০টিরও বেশি বিশ্ববিখ্যাত ব্র্র্যান্ড, রিটেইলার এবং প্রস্তুতকারকদের প্রতিনিধিত্ব করছে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতে নৈতিক এবং টেকসই উৎপাদনের প্রসারে WRAP (The Worldwide Responsible Accredited Publication) কে সাথে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করার জন্য আমরা সংস্থাটির সাথে একটি MoU স্বাক্ষর করে আমাদের দীর্ঘদিনের পার্টনারশিপ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছি। WRAP-এর পক্ষে সংস্থাটির President and CEO Avedis Seferian MoU স্বাক্ষর করেছেন। MoU অনুযায়ী WRAP বিজিএমইএ’র সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্সের একটি সিরিজ তৈরি করবে, যা সদস্যরা বিনামূল্যে করতে পারবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ভার্চুয়ালি অথবা সশরীরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যাবে। এই MoU-এর আওতায় ডজঅচ বিজিএমইএ’র ইনোভেশন সেন্টারকে সহযোগিতা প্রদান করবে।এছাড়াও আমরা যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি যেমন- Halide Alagoz, Executive Vice President, Chief Supplz Chain and Sustainabilitz Officer at Ralph Lauren Corp, Christopher J. Volpe, Chief Operating Officer/Chief Financial Officer at United Legwer and Apparel Co. এবং  Chris Gleeson, Director, Global Marketing, YKK (USA) Inc. Pamela Fierst-Walsh, VP, Traceability, PVH Supplz Underarmour Gi  এর প্রতিনিধি Agathon Associates, Pitnez Bowes Ges Fonteim- এর প্রতিনিধির সাথে বৈঠক করেছি। বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং বাড়ানো এবং হাই এন্ড পোশাক, বিশেষ করে নন-কটন আইটেম এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইল তৈরিতে সরবরাহকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা প্রদানেরও অনুরোধ জানিয়েছি।

ফারুক হাসান বলেন, বিশ্ববাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক শিল্প কটন থেকে  নন-কটন আইটেম ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে মনোযোগ বাড়ছে। এবারে সফরে পোশাক শিল্পে টেকসই ফাইবার hemp-এর ব্যবহার নিয়ে industrial hemp fiber  শিল্পের বিশেষজ্ঞ Mark D’Sa, বিজনেস ডেভলপমন্ট, পান্ডা বায়োটেক-এর সাথে আমরা বৈঠক করেছি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে তুলার পরিপূরক ফাইবার হিসেবে যবসঢ় ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ও পান্ডা বায়োটেক কিভাবে একসাথে কাজ করতে পারে তার সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। অল্প পানিতে জন্মানোর সক্ষমতা, কম কীটনাশকের ব্যবহার, প্রতি একরে উচ্চ ফলন এবং যে কোনো বাণিজ্যিক ফলনের চেয়ে একরপ্রতি বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ প্রভৃতি কারণে industrial hemp fiber-এর উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ছে।যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজ সভার আয়োজন করেন। সেখানে শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সহযোগিতা প্রদানেরও অনুরোধ জানিয়েছি।

ফারুক হাসান বলেন, কোভিড মহামারি মোকাবিলা করে  পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রকৃতপক্ষে, উদ্যোক্তা ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় ও সাপ্লাই চেইনের চ্যালেঞ্জ  মোকাবিলা করে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।উদ্যোক্তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি ও সবুজ শিল্পায়নে বিপুল বিনিয়োগ করলেও সে অনুযায়ী মূল্য পাচ্ছেন না। যদিও চলতি সময়ে বিগত সময়ের তুলনায় মূল্য বেড়েছে, তবে সেটা কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর বিপরীতে কারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অনেক।

বিজিএমই এ সভাপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট এবং করোনা মহাসংকটের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে, যার জন্য সমগ্র জাতি গর্বিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। কোভিড-১৯ এর অভাবনীয় চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি একেবারে সম্মুখসারিতে থেকে এই অসামান্য উন্নয়ন অভিযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর দূরদর্শিতা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা সমূহ বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছি।কোভিড-১৯ এর প্রভাবে যখন বিশ্বের প্রায় সব দেশই ‘জীবন ও জীবিকা’র ভারসাম্য রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন তিনি সমগ্র অর্থনীতি চালু রেখেছেন। মহামারিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সেজন্য আর্থিক সহায়তার আওতায় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি, করোনা মাহামারি মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজটি শিল্পকে সেই কঠিন সময়ে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।

ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশ আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে বর্তমানে বেশকিছু মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অনেক প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের পথে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভিন্নমাত্রা  যোগ হবে।তবে অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়ন খাতে চলমান এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু ভাবনার বিষয়ও রয়েছে। আমাদের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে বিষয়টি দরকার তা হলো বৈদেশিক মুদ্রার  যোগান। এবং সেটি যেন আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। আমাদের বেশকিছু আমদানি পণ্য, বিশেষকরে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আমাদের আমদানিকৃত অন্যান্য কাঁচামালের দামও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ এর জুলাই মাসে আমাদের মোট আমদানি ব্যয় ছিল ৪.৫৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার যেটি আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৭০ বিলিয়ন ডলার এবং সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়রি মাসে এটি ৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসেও আমদানি ৮ বিলিয়নের উপরে রয়েছে। সাধারণত রপ্তানির তুলনায় আমাদের আমদানি বেশি তাই বাণিজ্য ঘাটতি সবসময়ই কিছুুটা থাকে, তবে সম্প্রতি এটি অনেকটাই বেড়েছে। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ঘাটতি ১৯.৮৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যে বৈদেশিক মুদ্রা দরকার সেটি যোগানের একটি প্রধান উৎস হলো রেমিট্যান্স আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ কমেছে। যেখানে ২০২০ সালের জুলাই মাসে আমাদের রেমিট্যান্স আয় ছিল ২.৫৯ বিলিয়ন ডলার সেখানে ২০২১ সালের জুলাই মাসে সেটি কমে ১.৮৭ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ এর ফেব্রুয়ারিতে আমাদের মোট রেমিট্যান্স আয় হয়েছে মাত্র ১.৫০ বিলিয়ন ডলার, যেটি ফেব্রুয়ারি ২০২১ সময়ে ছিল ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার।এই পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আমাদের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছে -১০.০৬ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে একই সময়ে ছিল +১.৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি বলে আমাদের বাণিজ্য ভারসাম্য ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এই পর্যায়ে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য বা স্থিতিশীলতা, অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও বিনিময় হার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখার বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

করোনার কারণে গত দুই অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে, উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়নি, নতুন কর্মসংস্থানও তেমন সৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। এখন সুযোগ এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর, কর্মসংস্থান সৃষ্টির। রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ালে অর্থনীতিতে স্বস্তি আসবে এবং প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হবে।ফারুক হাসান বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট আসছে। এ বাজেটে  পোশাক শিল্পের কিছুু প্রত্যাশা রয়েছে। বর্তমান সময়ে আমাদের প্রথম এবং প্রধান প্রত্যাশা হলো নীতি স্থিতিশীলতা। শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখতে ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজন আর্থিক ও অনান্য নীতির ধারাবাহিকতা, বিশেষ করে শুল্ক-কর ও মূসক হার একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য নির্ধারিত থাকলে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সুবিধা হয়। তাই কর ও রাজস্ব সংক্রান্ত নীতিগুলো অন্তত ৫ বছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখা জরুরি।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার জন্য যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো লিড টাইম কমানো এবং দ্রুত ডেলিভারি দিতে সক্ষম হওয়া। বর্তমানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পোশাকের উদ্ভাবন হচ্ছে। এসব পোশাকের জন্য এখন অনেক নতুন ধরনের পণ্য লাগছে, যেগুলো এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতার মধ্যে পড়ছে। ফলে রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। বন্ড লাইসেন্সে এইচএস কোডের সাথে নতুন কাঁচামাল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উপকরণগুলো অন্তর্ভুক্তকরণের মতো প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ করা হলে তা শিল্পের জন্য অনেক সহায়ক হবে। আমরা মনে করি, কঠিন এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে নীতি ও কর্মপদ্ধতি  সংস্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, উদীয়মান পরিস্থিতি শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ দু’টিই সৃষ্টি করেছে। আমরা চ্যালেঞ্জ  মোকাবিলা করে সুযোগগুলো গ্রহণ করতে চাই। এর জন্য পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সেই সাথে আমাদের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ, ইনোভেশন, টেকনোলজি আপগ্রেডেশন ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এই সকল বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিজিএমইএ থেকে একাধিক বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। আমরা মনে করি, এ বিষয়গুলোতে উদ্যোক্তাদের আরও বেশি উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ জায়গাগুলোতে যদি কিছু নীতি সহায়তা পাই, তবে সেটি আমাদের শিল্পকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button