অর্থনীতিআন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদ সাক্ষাৎকারপ্রতিবেদনসম্পাদকীয়সাক্ষাৎকার

‘গ্লোবাল বিজনেস সামিট কাতার-২০২২’ বিদেশি ও বাংলাদেশিদের মধ্যে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

‘গ্লোবাল বিজনেস সামিট কাতার-২০২২’

বিদেশি ও বাংলাদেশিদের মধ্যে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ম্যাগাজিন ‘বিজনেস আমেরিকা’র নির্বাহী সম্পাদক এবং এ সময়ের আত্ম্নপ্রত্যয়ী, মেধাবী ও কর্মনিষ্ঠ দক্ষ পেশাজীবী নারী ব্যক্তিত্ব সৈয়দা ফারিয়া রসুল। গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতির বিষয়ে তিনি ব্যাপক ধারণায় সমৃদ্ধ। নিজেও বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। তিনি দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও দ্য ডেইলি অবজার্ভারসহ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা এবং সাময়িকীতে লিখছেন। বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি যারা শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা পেশায় যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন- তাদের নিয়ে কাজ করছে। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে আমেরিকান বাংলাদেশিদের অবদান ও ভূমিকা দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে প্রবাসীরা নিরলস কাজ করে চলেছেন। তাদের সাফল্য ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান অত্যন্ত নান্দনিকতার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করছে বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ‘প্রথম গ্লোবাল বিজনেস সামিট দুবাই-২০২০’ এবং ‘দ্বিতীয় গ্লোবাল বিজনেস সামিট দুবাই-২০২১’ এর সফল আয়োজনে বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘তৃতীয় গ্লোবাল বিজনেস সামিট কাতার-২০২২’। এটির আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন।

সৈয়দা ফারিয়া রসুল ১৯৭৬ সালের ১০ জুলাই ঢাকা মহানগরীর শান্তিনগর এলাকার একটি ক্লিনিকে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম সৈয়দ এহতেশাম রসুল এবং মা মরহুমা সৈয়দা কামরুন নেসা রসুল। সৈয়দ এহতেশাম রসুল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে উপ সচিব পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ফারিয়া রসুল স্কলাসটিকা ও সিদ্দিকী’স থেকে পাস করে ডেফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (ডিআইআইটি) থেকে ন্যাশনাল কম্পিউটিং সেন্টার (এনসিসি, ইউকে)-এর তত্ত্বাবধানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও তিনি সাংবদিকতায় বিভিন্ন সনদ অর্জন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিন পুত্র সন্তানের মা সৈয়দা ফারিয়া রাসুল পেশাজীবী নারী হিসেবে ব্যবসা প্রশাসন, সাইকোলজি ও পাবলিক রিলেশন বিষয়ে অভিজ্ঞদের একজন। তৃতীয় গ্লোবাল বিজনেস সামিট কাতার-২০২২’ আয়োজন নিয়ে সৈয়দা ফারিয়া রসুল বিজনেস ম্যাগাজিন অর্থকণ্ঠ প্রতিনিধিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ‘তৃতীয় গ্লোবাল বিজনেস সামিট কাতার-২০২২’ অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি যা বলেন তা এখানে উপস্থাপন করা হলো : 

অর্থকণ্ঠ : আপনি ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিনের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন আগামী নভেম্বর মাসে 3rd Global Business Summit Qatar-2022 আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত হবার পেছনে আপনাদের মূল লক্ষ্য কি?

সৈয়দা ফারিয়া রসুল : আপনি ঠিকই বলেছেন, বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন আগামী ২৯ ও ৩০ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের রাজধানী দোহাতে ওয়েস্টিন হোটেলে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলন তথা ‘3rd Global Business Summit Qatar-2022’ আয়োজন করেছে। এছাড়া ইতিপূর্বে বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বিজনেস সামিট আয়োজন করার মধ্য দিয়ে সাফল্য পেয়েছে। এই সামিটে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে বহির্বিশ্বের ব্যবসায়িক যোগাযোগের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দেশি এবং বিদেশি স্বনামধন্য উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সফল প্রচেষ্টাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সবার কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই বিজনেস আমেরিকা প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, কাতার পৃথিবীর একটি উন্নত দেশ যেখানে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক স্কিল ম্যানপাওয়ার আমদানি করা হয়। এবছর ফুটবল বিশ্বকাপও কাতারে আয়োজন করা হচ্ছে যা দেশটির দ্রুত উন্নয়নশীলতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের অতি প্রাচীন ব্যবসায়িক যোগাযোগ ব্যবস্থা দৃঢ় করার লক্ষেই এই বছর আমরা কাতারকে বেছে নিয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এ সামিটে অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাপী তাদের সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন ও তার টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুরু থেকেই আমরা দেশি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক পরিচিতি ও কার্যক্রম অত্যন্ত সতর্কতা ও সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। 

অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামিট আয়োজন বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কতটুকু প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন?

সৈয়দা ফারিয়া রসুল : অবশ্যই ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ধরনের সামিটে যেহেতু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলতে এ আয়োজনে থাকবে বিভিন্ন প্রদর্শনী। এতে করে বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। ফলে তাঁরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন এবং বাংলাদেশ অধিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। এ সামিটের মধ্য দিয়ে বিজনেস নেটওয়ার্কিং বাড়বে।  

অর্থকণ্ঠ : এতে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কতোটা লাভবান হবে?

সৈয়দা ফারিয়া রসুল : বাংলাদেশ অনেক দিক থেকে লাভবান হবে। প্রথমত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ উপলব্ধি করতে পারবে- বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে থাকা কোনো রাষ্ট্র নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হবেন এদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে। এতে বাংলাদেশের শিল্পায়ন দ্রুত ঘটতে থাকবে। ফলে, একদিকে যেমন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে; পাশাপাশি দেশে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। বেকারত্বের হার শুধু কমবেই না, এই জনশক্তি দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারা দেশকে নিয়ে যাবে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আরো গর্ব ও গৌরব করার সুযোগ পাবো। 

অর্থকণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সবল করার ব্যাপারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে? 

সৈয়দা ফারিয়া রসুল : অবশ্যই তা মনে করি। কারণ, পৃথিবীর কোনো দেশই এককভাবে স্বাবলম্বী নয়। কোনো দেশের উদ্যোক্তাদের পুঁজি আছে কিন্তু শিল্প স্থাপনের সেরকম সুযোগ নেই। কোনো দেশের উদ্যোক্তাদের সুযোগ সুবিধা আছে, কর্মী বা লোকবল আছে; কিন্তু পুঁজি নেই। সেক্ষেত্রে পুঁজিসম্পন্ন উদ্যোক্তারা অন্যদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। বর্তমানের বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি যে কোনো উদ্যোক্তাদের জন্যে বিনিয়োগের স্বর্গ। কারণ, এখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সস্তা শ্রম এবং শিল্প সহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান। একটি আন্তর্জাতিক সামিটে অংশ নেয়ার ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারবেন। বাংলাদেশ যে শিল্পায়িত রাষ্ট্র, এখানে যে শিল্প প্রতিষ্ঠার সুযোগ আছে- সে সম্পর্কে তারা জানতে পারবেন এবং আগ্রহী হয়ে আসবেন এটা নিশ্চিত বলা যায়। 

অর্থকণ্ঠ : এই সামিটে অংশ নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা কেমন সাড়া দিচ্ছেন- আপনাদের পত্রিকা এ ক্ষেত্রে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?

সৈয়দা ফারিয়া রসুল : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বিশেষ করে আমেরিকা, জাপান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়োশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাতসহ প্রায় শতাধিক দেশের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী এতে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়েছে, তাদের অনেকে এতে অংশ নিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, এ কাজটি করার পেছনে ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিনে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি টিম যেমন আমেরিকায় কাজ করছে, তেমনই মধ্যপ্রাচ্য এবং বাংলাদেশেও। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে এ পত্রিকাটি প্রকাশ করছেন। দেশের ইতিহাসে এ পত্রিকাই প্রথম আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, অধ্যাপকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের রত্নদের খুঁজে বের করে তাদের সাফল্য ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বলা যায়, ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এ পত্রিকার গুরুত্ব অবশ্যই স্বীকার্য।

অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাইছি।

সৈয়দা ফারিয়া রসুল : আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রমী ও সৃজনশীল জাতি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি আমরা। স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button