অর্থনীতিপ্রতিবেদনসম্পাদকীয়

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : বাংলাদেশে কংগ্রেস প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাস্তবতা যাচাই করুন 

ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান / ড. হাবিব সিদ্দিকী

 

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : বাংলাদেশে কংগ্রেস প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাস্তবতা যাচাই করুন 

ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান / ড. হাবিব সিদ্দিকী

গত ১০ ডিসেম্বর ২০২১ ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। দিনটি উপলক্ষে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেজারি অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল (OFAC) এক ঘোষণায় বাংলাদেশের RAB সহ ১৫ ব্যক্তি এবং ১০টি সংস্থার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ জন্যে র‌্যাবের একজন শীর্ষ ব্যক্তিসহ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এমন ৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

একটি কথা বলা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশ শান্তি, পরোপকারী এবং মানবতার দীর্ঘ ইতিহাস-সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, এই দেশের বাসিন্দারা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় মানব ও নাগরিক অধিকারের দিক থেকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তা ভোগ করে। উল্লেখ্য, আমাদের সময়ে বিশ্বের অন্যতম সংকট রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব। এটা বিশ্বের সবাই জানেন যে, এই দারুণ মানবিক বিপর্যয়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। মিয়ানমার সরকারের গণহত্যামূলক কার্যক্রম থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বাসস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সে সময় তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের একশ’ ষাট মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্যে খাদ্য সরবরাহ যদি সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে আমরা আরও এক মিলিয়ন মানুষকে খাওয়াতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দিয়েছি এবং আমি এই দেশের জনগণকে তাদের দুর্দশা লাঘব করতে সাহায্য করার জন্যে সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানাই। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ মানবিকতা এবং সর্বোপরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অনেক ধনী দেশকেও লজ্জায় ফেলেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে এই উদ্যোগ নেয়ায়।

বাংলাদেশ সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করে; সেগুলোর লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রচার করা। দুর্ভাগ্যবশত, OFAC দ্বারা ঘোষিত সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়সহ শান্তিপূর্ণ মানুষদের জন্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে আমরা যেন ভুল বুঝাবুঝির শিকার না হই, আমরা অনাবাসী বাংলাদেশি (NRB)  কাউন্সিল, USA-এ, ব্যক্তি এবং সংস্থা, রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ম্যাগনিটাস্ক আইনের প্রয়োগকে সাধুবাদ জানাই, যারা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং ক্ষুন্ন্ন করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার প্রতি সম্মান  জানিয়ে আমাদের বিশ্বকে অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াকে আমরাও সমর্থন প্রদান করি। র‌্যাবের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা, যারা দায়িত্বে আছেন বা ছিলেন তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি যে, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ স্তরের- স্ক্রীনিংয়ের পরে অর্থাৎ তারা সবকিছু দেখে এবং জেনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

কিন্তু আমরা র‌্যাবের উপর আরোপিত এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আন্তরিক সমঝোতা প্রকাশ করছি। ২০০৪ সালে র‌্যাবের আত্মপ্রকাশের পর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্ব¡াবধানে কাজ করা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্যে একটি অভিজাত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এই বাহিনী যা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রাষ্ট্রবিরোধীদের দমনে অনেক ভালো কাজ করেছে এবং করছে। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও মানব-পাচার ও অন্যান্য জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে। এ মুহুর্তে বাংলাদেশ সরকারকে কোনো পূর্ব সতর্কতা না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা র‌্যাবের ব্যাপক সুনাম এবং নির্ভরযোগ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

আমরা নিরন্তরভাবে বিশ্বাস করি যে, র‌্যাবের বিরুদ্ধে বর্তমান নিষেধাজ্ঞাসমূহ বাংলাদেশ সরকারের জন্যে তার দুর্বৃত্ত অফিসারদের শায়েস্তা এবং এজেন্সির সুনাম পুনরুদ্ধার করার জন্যে এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়ার জন্যে একটি সতর্র্কতাস্বরূপ আহ্বান জানানো। এটি বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত পর্যায়ে অবস্থানে নিতে ভালো সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করেছে। কাউন্টি- একই সাথে, আমরা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি এবং আশা করি যে, মার্কিন ট্রেজারি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট শীঘ্রই র‌্যাবের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা ও তা তুলে নিতে সক্ষম হবে এবং এর বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কোনো ক্ষতি করবে না।

সর্বোপরি বাংলাদেশ ব্যাপক সমৃদ্ধি এবং ব্যবসার জন্যে সুযোগপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র যে দেশটি তার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি’র নেতৃত্বে এবং একটি অদম্য শ্রমশক্তির অধীনে, বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড় জিডিপি ৭.৫% বজায় রেখে চলেছে এবং সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, সস্তা অথচ দক্ষ মানবসম্পদ এবং সুবিধাজনক মহাসাগরীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি এই দেশটিকে আন্তর্জাতিক ব্যবসার একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। আসুন দেশটির উন্নয়নে বাধা না দেই।

আমরা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্যে কংগ্রেস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দলকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাই এবং বাইডেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিতে তথ্যানুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট করাতে চাই। আসুন সকলের জন্যে একটি নিরাপদ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরি করতে একসাথে কাজ করি।

[ ইউএসএ-এর এনআরবি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক প্রকৌশলী জলিল খান এবং সহ আহ্বায়ক ড. হাবিব সিদ্দিকী ইউএস সেক্রেটারি অব Mr. Anytony Bliken এর নিকট একটি আবেদন পত্র দিয়েছেন যা এখানে তুলে ধরা হলো :ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, অর্থকণ্ঠ ]

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button