সাক্ষাৎকার

আমার স্বপ্ন বাংলাদেশি আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় গুরুত্ব পাক

ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার প্রেসিডেন্ট জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস ক্লাব

এ পৃথিবীতে কেউ স্বার্থপর আবার কেউ নিঃস্বার্থ অবয়ব নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। এই নিঃস্বার্থ মানুষগুলো কখনো একার জন্যে কাজ করেন না, কাজ করেন সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যে। প্রবাসে বিশেষ করে বাংলাদেশি আমেরিকানরা সে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য কমিউনিটি। এই কমিউনিটির উন্নয়ন এবং কমিউনিটিকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্যে যারা নিঃস্বার্থভাবে নেতৃত্ব প্রদান করছেন তাদের মধ্যে ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার অন্যতম। কমিউনিটির জন্যে নিবেদিতপ্রাণ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এর জন্ম বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিয়ানিবাজারের এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত ব্যবসায়ী পরিবারে ৩০ ডিসেম্বর। ছোটবেলা থেকেই তিনি যেমন মেধাবী, তেমনি মানুষের জন্যে কাজ করার একটা প্রচ্ছন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যেতো। জ্যামাইকার পাবলিক স্কুল ৮৬তে সিক্সথ গ্রেডে ভর্তি হন ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। তার চোখে মুখে সবসময়েই লেগে থাকতো খুশির ঝিলিক। তিনি আত্মপ্রত্যয়ী ও বন্ধুবৎসল। বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পালন করতেন মহান ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস-বিজয় দিবস। অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। কমিউনিটিতে এই তরুণের নাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বন্ধুদের নিয়ে জ্যামাইকাকে আপন বাড়ির মতোই নিবিড়ভাবে গ্রহণ করেন। জ্যামাইকার পাশেই ক্যাপ্টেন ঢিলি পার্কের নিবিড় ছায়া তাকে খুব টানেÑ মনে হয় এই সবুজের সাথে নিজ শেকড়ের সবুজের অনেক মিল। হাইল্যান্ড এভিনিউর ঢিলেঢালা ট্রাফিক থেকে নিচের দিকে নেমেই হিলসাইড এভিনিউ নানাভাবেই তাকে প্রভাবিত করে।


জ্যামাইকা হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে ভর্তি হন ক্যুইন্স এরো কমিউনিটি কলেজে। সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এ সময়েই তিনি বিশ্লেষণ করেন যে, প্রবাসী অভিবাসীরা অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ নন। রাস্তায় চলাচল মুহূর্তে হঠাৎ করেই নানা ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। বিশেষ করে এশার নামাজ পড়ে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার থেকে ফিরতে সন্ত্রস্ত বোধ করেন অনেক মুসল্লিই। প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে ক্রাইমের খবর পাওয়া যায়। অনেকের মধ্যেই শঙ্কা কাজ করে। তিনি তখন তরুণ। ভাবলেন, নিজেরা সংগঠিত থাকলে একে অপরের বিপদে এগিয়ে যাওয়া যায়। তখন অন্যেরাও আশ্বস্ত বোধ করবেন। এই লক্ষ্য থেকেই তিনি সমবয়সীদের নিয়ে গড়ে তুললেন জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস ক্লাব। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশি তরুণদের একটা মিলনক্ষেত্র হিসেবে এই সংগঠন কাজ করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে উঠতি বয়সে যারা জ্যামাইকাতে বসবাস শুরু করেছে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্তরিকতায় ক্লাবটি বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে এবং তরুণদের কাছে তো বটেই জ্যামাইকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি আমেরিকানরা এই সংগঠনকে নিজেদের প্রিয় সংগঠন হিসেবে ভাবার সুযোগ পায়। বর্তমানে ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের চিন্তা-চেতনা ধ্যান-জ্ঞান সবই বাংলাদেশি কমিউনিটি ঘিরে। কোথায় কার কোন সমস্যা কি করা যেতে পারেÑ এ ব্যাপারে তিনি মনোযোগী হয়ে ওঠেন। উদ্যমী নেতৃত্বের কারণেই তিনি বাপাকের সেক্রেটারির দায়িত্ব লাভ করেন। নিজ এলাকা বিয়ানীবাজার সমিতিরও নেতৃত্ব পান তারুণ্যে উজ্জীবিত ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। এলাকার লোকজনের কাছেই শুধু নন, তার সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে বাংলাদেশের কমিউনিটির কাছেই গ্রহণযোগ্য করে তোলে। মূলধারার নেতৃত্ব পান তিনি।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ক্রমেই নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের পরিচিতি লাভ করেন। তার কথাকে যথেষ্ট মূল্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিটি। ফলে কংগ্রেস সদস্য পদে নির্বাচনের আগে গ্রেসমেং কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের আগে এলিসিয়া হাইন্ডম্যান বাংলাদেশি কমিউনিটির যে সকল নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেন এবং যোগাযোগ করেনÑ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার তাদের অন্যতম। তিনিও তাদের সাথে নির্বাচনী আলাপকালে জানান নিজেদের জন্যে কিছু চান না। তার কথা হচ্ছে কমিউনিটিকে এমপাওয়ার করতে হবে, কমিউনিটির শক্তি বৃদ্ধি পেলে সবাই উপকৃত হবে। এ জন্যে তিনি সরাসরি বলেন, তোমাদের জন্যে আমরা কাজ করবোÑ সেক্ষেত্রে নির্বাচিত হলে আমাদের কমিউনিটির এ সকল সমস্যা সমাধানে তোমরা কি করবে। এই হলো একজন দেলোয়ারের নেতৃত্বের গুণ। তার মধ্যে আমিত্ব প্রাধান্য পায় না, আমরা-আমাদের নিয়ে তার ভাবনা।
বাংলাদেশে বিয়ানীবাজারের এক স্বপ্ন দেখা কিশোর ১৯৯২ সালে নিউ ইয়র্ক এসে ইতেমধ্যে জীবনের মূল্যবান অনেক সময় ধরে এখানে অবস্থান করছেন। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্যেই শুধু তার কার্যক্রমকে ব্যস্ত রাখেননি, একই সাথে কমিউনিটির সকলের জীবন মান উন্নয়নের চিন্তাকেও মাথায় রেখেছেনÑ সবার কল্যাণ চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়ে পথ চলছেন এই তারুণ্যে উজ্জ্বল কমিউনিটি তারকা। মূলধারার এই নেতার প্রশংসা এখন কমিউনিটি ছাড়িয়ে সেখানকার মূলধারায়ও আবর্তিত। বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কাটজ, কাউন্সিলম্যান রোরি ল্যান্সম্যান তাদের শপথ গ্রহণের দিনে হাজারো জনতার সামনে ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের নাম উচ্চারণ করে প্রশংসা করেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার এই স্বীকৃতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটিও সম্মানিত বোধ করে। কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কাটজ কমিউনিটি বোর্ড ৮ এর সদস্য নিয়োগ করেন ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারকে। এতে করে জ্যামাইকা ডিস্ট্রিক্ট থেকে কেউ নির্বাচন করলে দেলোয়ারের সহযোগিতা সমর্থন প্রয়োজন। কাজের মধ্যে দিয়ে দেলোয়ার এটি অর্জন করেছেন। তার স্বপ্ন বাংলাদেশি আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় গুরুত্ব পাক।
অমায়িক ও বন্ধুবৎসল দেলোয়ারের মুখে সবসময় আন্তরিকতার হাসি লেগেই থাকে। স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমীন তার অনুপ্রেরণাদাত্রী। এই দম্পতির ৪ পুত্র। ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের পিতা ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে বিয়ানীবাজারের মানুষের কাছে বেশ প্রিয়। দেলোয়ারের ৬ ভাই ও ৪ বোন। প্রত্যেকের সাথে পারিবারিক বন্ধন খুবই ভালো। কথা প্রসঙ্গে দেলোয়ার বলেন, বাবার সমাজসেবার গুণ থেকেই দেলোয়ার মানুষের জন্যে কিছু করার অনুপ্রেরণা লাভ করেছেন।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার তার সমাজসেবামূলক কার্যক্রম ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতার কারণেই বাংলাদেশি কমিউনিটির গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভে সক্ষম হয়েছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button