Uncategorized

বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও পরামর্শ প্রদানে ওয়েলকাম সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

মোহাম্মদ এন মজুমদার, এলএলএম প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল

প্রত্যেক মানুষের মধ্যে বড় হবার- প্রতিষ্ঠা লাভের ইচ্ছে থাকে। কেউ সেই লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারে কেউ পারে না। তবে শুধু ইচ্ছে থাকলেই হবে না। কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে চাই প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। যারা এভাবে এগিয়ে যেতে পারেন তাদের সাফল্য অর্জিত হয়। এমনই একজন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ এন মজুমদার, যিনি আমেরিকায় এসে শুরুতে ‘অড জব’ এমনকি সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেছেন। সেই মানুষটি এখন আমেরিকার একজন স্বনামধন্য আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃত। তার এই উত্থান অনেকটা গল্পের মতো। ইমিগ্র্যান্ট হয়ে নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন অনেক স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু আসার পর বুঝতে পারলেন এক কঠিন জগতে পা রেখেছেন। এক পর্যায়ে টিকে থাকার জন্য সুপার মার্কেটে সেলসম্যানের চাকরি, কখনো ব্যাংক ক্লার্ক এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিও নিয়েছেন। বাংলাদেশের ফেনীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণকারী শিক্ষিত এই তরুণ ভাবলেন ‘অন্যেরা যদি ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে তাহলে আমার হবে না কেন?’ সেই ভাবনা নিয়েই তার এগিয়ে চলা।

উদ্যমী মনোভাব নিয়ে ভর্তি হলেন নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ‘টরো ল স্কুলে’, অর্জন করলেন আইনে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি। ল’তে তার এই মাস্টার ডিগ্রি অর্জন তাকে উন্নয়ন ও সম্মানের সুমসৃণ পথে যাত্রার সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি এখন বিশ্বের আধুনিক ও উন্নত দেশ আমেরিকায় বিশিষ্ট বাংলাদেশি আইনজীবী। পড়াশোনা শেষে তিনি যোগ দেন নিউ ইয়র্ক সিটির সিভিল সার্ভিসে। এরপর তিনি নিউ ইয়র্কের একটি বিখ্যাত ল’ ফার্মের সাথে আইন পেশায় সম্পৃক্ত হবার সুযোগ পান। একজন বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবে তিনি গত ২২ বছর ধরে ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

দেশখ্যাত এই বাংলাদেশি আমেরিকান আইনজীবী মনে করেন, ইচ্ছে থাকলে যে কোনো পেশায় থেকেই মানুষের জন্যে কাজ করা যায়। বিশেষ করে তিনি বরাবরই বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যে একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তার উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল (BACC)। তিনি নিজ নামেও একটি অলাভজনক সেবামূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন- যার নাম মজুমদার ফাউন্ডেশন। এই দুটো সংগঠনের মাধ্যমে তিনি নিউ ইয়র্ক এবং বাংলাদেশে অনেক জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার এসকল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কে হেইট ক্রাইম শীর্ষক প্রতিবাদ র‌্যালি ও ক্যাম্পেইন, প্রতিবছর বিনামূল্যে স্কুল সামগ্রী বিতরণ, থ্যাংকস গিভিং ডে উপলক্ষে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, জনস্বার্থে লিগ্যাল, ইমিগ্রেশন ও ট্যাক্স বিষয়ক সেমিনার আয়োজন, বিনামূল্যে হাউজিং এর জন্যে আবেদন করার ব্যাপারে সহায়তা প্রদান। বিশাল আকারে মেলা ও উৎসবের আয়োজন করে তিনি কমিউনিটিতে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছেন। নিজের শেকড় সত্তার বাংলাদেশপ্রেমী এই মানুষটি ২০০৫ সাল থেকে গড়ে তুলেছেন নিউ ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলকাম সেন্টার। তিনি বলেন, নবাগত বাংলাদেশি যারা আমেরিকায় যান তাদের কল্যাণ ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে এই ওয়েলকাম সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ও নিউ ইয়র্ক সিটির সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার তথ্য প্রদান ও সেকশন-৮ হাউজিং এ আবেদনের জন্য পার্কচেস্টারে এই ওয়েলকাম সেন্টার প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

মানবিক কল্যাণে ব্রতী মোহাম্মদ এন মজুমদার মনে করেন, মানব সেবাই হচ্ছে প্রকৃত মানুষের ধর্ম। এবং প্রত্যেক ধর্মেই মানুষের কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশি আমেরিকান যারা হোমলেস তাদের সমস্যার সমাধানে, নিউ ইমিগ্র্যান্টদের হাউজিং ও হেলথ সেবার উন্নয়নে নিরলস কাজ করছেন। এই কাজে যখন সাফল্য আসে তখনই তার মুখে পরিতৃপ্তির আনন্দ হাসি দেখা যায়।

বাংলাদেশকে নিয়েও তিনি গভীর ভাবেন। তিনি মনে করেন, পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের মানুষ শতভাগ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে- মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হবে। এ জন্যে অবশ্য তিনি শিক্ষার কারিক্যুলামে পরিবর্তন চান। তিনি মনে করেন, কেরানি সৃষ্টির শিক্ষা নয়, মানুষ সৃষ্টির শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এতে করে সামাজিক দুর্নীতি, অপরাধ, ঘুষের হার অনেক কমে যাবে।

দেশপ্রেমিক উদ্যোগী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ এন মজুমদার বিশ্বাস করেন- বাংলাদেশিরা পরিশ্রমী। সঠিক নেতৃত্ব ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে গর্বিত। তিনি বলেন, এই দু’টি কারণে বাংলাদেশকে সবাই সম্মান করে। তিনি বর্তমান করোনাকালীন দুর্যোগে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি এই দুর্যোগে কমিউনিটির অন্যান্যের সাথে মিলে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বন্ধু-বৎসল ও পরোপকারী মোহাম্মদ এন মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন ব্রংক্সের পার্কচেস্টারে। তার গ্রহণযোগ্যতা ও গুণাবলির কারণে তিনি এ এলাকার কমিউনিটি বোর্ডের দীর্ঘকালের সদস্য, ফার্স্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং বোর্ডের ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। নিউ ইয়র্কের এই বাংলাদেশি অধিবাসী মনে করেন নিউ ইয়র্ক সিটি পৃথিবীর অনন্য একটি শহর- এই সিটির অধিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রচুর অবদান রাখে। তিনি মনে করেন- নিউ ইয়র্ক সিটিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে এমনভাবে সাজিয়ে তোলা দরকার যাতে অন্যদের কাছে এটি অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।

উদ্যমী ও তারুণ্যে উজ্জীবিত মোহাম্মদ এন মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার রাজনীতি ও সমাজসেবায় জড়িত। ব্রংক্সের পার্কচেস্টার এলাকা থেকে কংগ্রেস, স্টেট ও সিটিতে যারা নির্বাচন করেন তিনি তাদের পক্ষে কাজ করেন। তিনি ‘ডিস্ট্রিক্ট লিডার’ পদে প্রার্থী হচ্ছেন।

মোহাম্মদ এন. মজুমদারের স্ত্রী রেক্সোনা মজুমদার তার অনুপ্রেরণাদাত্রী। এই দম্পতির মেয়ে নাসরিন মজুমদার এবং পুত্র রাশাদ মজুমদার অধ্যয়নরত।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button